
খালেক পারভেজ লালু,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ কড়াইয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।দরিদ্র মানুষের ক্ষুধামুক্তি ও দুর্যোগে ব্যবহার করার জন্য কুড়িগ্রামে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা কড়াটির আয়তন ৭৭০ বর্গ ফুট। ব্যাস ৩১.৫ ফুট ও গভীরতা ৪.৫ ফুট। এই কড়াইতে একসাথে ১ লক্ষ মানুষের খাবার রান্না করা যায়।
শনিবার ১৪ মার্চ দুপুরে কড়াইয়ে রান্নার উদ্বোধন করেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
উদ্বোধনী বক্তব্যে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন ” বন্যা সহ যেকোনো দুরযোগ মোকাবেলার সরকারের পাশাপাশি যে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো এগিয়ে এসেছে সেটি খুবই সাধুবাদযোগ্য। বিশেষ করে বন্যাকবলিত মানুষের খাবারের সমস্যা সমাধানে স্থায়ী একটি লজিস্টিক সাপোর্ট যে আজ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দিচ্ছে সেটিকে সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই”
ফাউন্ডেশন থেকে বলা হয় “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের একজন দাতা শুভাকাঙ্ক্ষীর ইচ্ছা ও তার দেয়া অনুদানে এই কড়াই নির্মিত হয়েছে। ইতিমধ্যে গিনেস বুকে রেকর্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন”
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর মো: জামাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এক টাকায় আহারের মাধ্যমে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন ইনোভেটিভ উপায়ে ও দরিদ্র মানুষের সম্মান নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ অতি দারিদ্রপীড়িত এলাকাগুলোর অন্যতম। দারিদ্র, নদীভাংগন,বন্যা এখানকার নিত্যসঙ্গী। তাই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই এলাকার দরিদ্র মানুষের ক্ষুধামুক্তির জন্য ও দুর্যোগে ব্যবহার করার জন্য এখানে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ এ কড়াই নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সামাজিক বার্তা ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রতীক এই বড় কড়াই শুধু রান্নার উপকরণ নয়—এটা সামষ্টিক দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার প্রতীক। মানুষকে একত্রে খাওয়ানোর দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে আশা ও সংহতির বার্তা দেয়।
সংক্ষেপে বললে, কুড়িগ্রামের মতো অঞ্চলে বড় কড়াই মানে—দ্রুত, কম খরচে, সমান মানের খাবার দিয়ে বেশি মানুষের ক্ষুধা নিবারন।
উদবোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইসমাইল হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তফা) ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু,অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব,
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন সহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ।