মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : ভোজনরসিকদের কাছে পনির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। তবে বর্তমানে রেস্তোরাঁগুলোতে পরিবেশিত পনিরের বিশুদ্ধতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য (ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডে) ইতিমধ্যে নকল বা ডেইরি অ্যানালগ পনিরের উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেল এবং অপদুগ্ধজাত উপাদান দিয়ে তৈরি এই নকল পনির গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে আপনার প্লেটে থাকা পনিরটি আসল দুধের নাকি ভেজাল উপাদানে তৈরি, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকরী পরামর্শ দিয়েছেন।
বিখ্যাত শেফ হারপাল সোখির মতে, আসল পনির চেনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো এর গঠন বা টেক্সচার। খাঁটি ও টাটকা পনিরের কিছু বিশেষ গুণ থাকবে:আর্দ্রতা ও গঠন: আসল পনির হবে নরম, সামান্য আর্দ্র এবং মুখে দিলে হালকা দানাদার বা ক্রাম্বলি মনে হবে।
শেফ আমান কুমার ঝা পনিরের মান যাচাইয়ে কিছু সতর্ক সংকেতের কথা উল্লেখ করেছেন, যা দেখে আপনি সহজেই সাবধান হতে পারবেন:
সহজ পরীক্ষা: ‘ফর্ক টেস্ট’
পুষ্টিবিদ প্রাচী মান্ধোলিয়া পনিরের সত্যতা যাচাইয়ে একটি সহজ ‘ফর্ক টেস্ট’-এর কথা বলেছেন। একটি কাঁটাচামচ বা চামচ দিয়ে পনিরের টুকরোকে আলতো করে চাপ দিন। টাটকা ও আসল পনির চাপে কিছুটা ভেঙে বা গুঁড়ো হয়ে যাবে। কিন্তু যদি পনিরটি রাবারের মতো বাউন্স করে বা আগের অবস্থায় ফিরে আসার চেষ্টা করে, তবে বুঝতে হবে এটি উচ্চ প্রক্রিয়াজাত বা নকল পনির।
দামের ওপর নজর রাখুন
খাঁটি দুধ থেকে তৈরি পনিরের উৎপাদন খরচ সবসময়ই বেশি হয়। তাই যদি কোনো রেস্তোরাঁ বা ধাবায় পনিরের পদের দাম তুলনামূলক অনেক কম হয়, তবে সেটি সন্দেহের অবকাশ রাখে। দাম কম হওয়া মানেই সবসময় ভেজাল নয়, তবে এটি নিম্নমানের উপকরণের একটি বড় ইঙ্গিত।
সচেতনতাই বড় সুরক্ষা
রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় আপনার মনে কোনো সন্দেহ দেখা দিলে সরাসরি পনিরের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পনিরের গঠন, ঘ্রাণ এবং রঙের বিষয়ে সামান্য জ্ঞান থাকলে যেকোনো সচেতন ভোজনরসিক সহজেই নকল পনির শনাক্ত করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড