
রক্তে গ্লুকোজের (শর্করা) মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লুকোজ আমাদের শরীরের প্রধান শক্তির উৎস হলেও এর মাত্রা বেশি বা কম—দুটিই ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও জরুরি। নিচে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।
খাবারই গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। পরিমিত পরিমাণে ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। লাল চাল, ওটস, ব্রাউন ব্রেডের মতো কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার রক্তে শর্করা ধীরে বাড়ায়।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত শর্করা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।
অনিয়মিত খাবার খেলে হঠাৎ গ্লুকোজ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় মেনে ছোট ছোট ভাগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিন প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে গ্লুকোজও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অপর্যাপ্ত ঘুম ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ও মেডিটেশন বা রিলাক্সেশন চর্চা উপকারী।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে।