রবিবার-৯ আগস্ট, ২০২০-২৫ শ্রাবণ, ১৪২৭, সময়: দুপুর ২:২৯, English Version
সড়কে ঝরলো ২০ প্রাণ ‘জয়তু বঙ্গমাতা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গমাতার জন্মদিনে দুস্থ নারীদের প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা সিনহা হত্যায় কারা জড়িত তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে : র‍্যাব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ২০ দিন পরে এইচএসসি পরীক্ষা! মৃত্যু নিশ্চিত করতে পর পর দুটি গুলি করেন ওসি প্রদীপ সামনে আসছে যে সাত নিয়োগ পরীক্ষা

চার লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহে প্রস্তুত চট্টগ্রামের আড়তদাররা

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০ , ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এমএন২৪.কম ডেস্ক : কোরবানির দিন চার লাখের বেশি পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রামের আড়তদাররা।

চামড়া সংগ্রহের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় লবণ মজুদসহ জনবল ঠিক করেছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

এর বাইরে বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, সমিতির ১১২ জন সদস্যের বাইরে আরও দেড়শ’ জন ব্যবসায়ী কোরবানির চামড়া কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। আমাদের হিসাবে চার লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়ায় লবণ দিতে পারবো।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে মাত্র একটি ট্যানারি চালু আছে। তাই চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা ঢাকার কিছু ট্যানারির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। আতুরার ডিপোর আড়তদাররা এখনো ঢাকার কিছু পার্টির কাছে ২৫ কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার টাকা পাওনা আছেন। টাকা আটকে যাওয়ায় অনেক আড়তদার দিশেহারা।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশিদ আলম জানান, চামড়া ধুয়ে পরিমাণ মতো লবণ দিলে ৩ মাস টিকবে। না ধুয়ে লবণ দিলে দেড় মাসের মধ্যে ট্যানারিতে পাঠিয়ে দিতে হবে। গরমের সময় কাঁচা চামড়া দ্রুত লবণ না দিলে নষ্ট হয়ে যায়। এখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যদি বেশি দামের জন্য রাতভর চামড়া নিয়ে সড়কে বসে থাকেন তাহলে পরদিন ওই চামড়া কে কিনবে?

তিনি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের চামড়া পরিমাপের হিসাব, ট্যানারির নির্ধারিত মূল্য, আড়তদার চামড়া কেনার পর পরিষ্কার করা, লবণ দেওয়া, পরিচর্যা, লাভ ইত্যাদি হিসাব করেই কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে চামড়া কেনার পরামর্শ দেন।

চামড়ার দাম
এ বছর ঢাকাতে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা ধরা হয়েছে।  গত বছর এ দাম ছিল যথাক্রমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সে হিসেবে দাম কমেছে ঢাকায় ১০ টাকা ও ঢাকার বাইরে ৮ টাকা।

রিফ লেদার লিমিটেড কিনবে ৫০ হাজার চামড়া
চট্টগ্রামের একমাত্র ট্যানারি রিফ লেদার লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে লক্ষাধিক চামড়া সংগ্রহ করি আমরা। কিন্তু করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং গত বছরের চামড়া মজুদ থাকায় আমরা এবার ৫০ হাজার চামড়া কিনবো।

তিনি জানান, নিঃসন্দেহে কোরবানির পশুর চামড়া সবচেয়ে ভালো। কিন্তু দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি আড়তদাররা লবণ দিতে না পারে তবে তাতে ব্যাকটেরিয়া দেখা দেয়। এবার গরমও পড়ছে বেশ। তাই যত দ্রুত সম্ভব চামড়ায় লবণ দিয়ে ফেলতে হবে আড়তদারদের।

মনিটরিং করবে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়ে নগরের আতুরার ডিপো এলাকার চামড়ার আড়তগুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া, সঠিক উপায়ে চামড়া সংরক্ষণের নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছি। একই এলাকার পাইকারি লবণ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি।

তিনি বলেন, এবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চট্টগ্রাম ঈদের দিন হতে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করবে। কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে তা অধিদফতরের হটলাইন নম্বরে (১৬১২১) জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।

সংকট নেই লবণের
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বাংলানিউজকে বলেন, এবার দেশে প্রচুর লবণ উৎপাদন হয়েছে। মিলগুলোর গুদামে প্রচুর লবণ মজুদ আছে। তাই চামড়া সংরক্ষণে লবণের সংকট হবে না। আড়তদারদের জরুরি প্রয়োজনে যদি লবণ সরবরাহ দিতে হয় তবে লবণ মিলগুলো কোরবানির দিনও খোলা রাখতে পারবো আমরা। চাহিদার বিষয়টি আগেভাগে জানাতে হবে।

নগরের মাঝিরঘাটের মিল গেটে বস্তা ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়ার উপযোগী লবণ ৭৪ কেজি ৫৩০-৫৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খালি বস্তা মানভেদে ১০-১৫ টাকায় কিনতে হয় ক্রেতাকে। গত বছর কোরবানির মৌসুমে লবণের দাম ছিলো বস্তা ৬০০ টাকা। আয়োডিনযুক্ত খাবার লবণ ৭৪ কেজি ৬৩০-৬৪০ টাকা। ১ কেজির ২৫ প্যাকেট মানভেদে ২২০-২৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে লবণ মিলে।

প্রস্তুত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও
বৃহত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় চামড়ার বাজার আতুরার ডিপোকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী বাংলানিউজকে জানান, সন্ধ্যা-রাতে চামড়া বেচাকেনার জন্য প্রতিবছরের মতো লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেছি আমরা। চামড়ায় লবণ দেওয়ার পর যে লেজ, কানের বর্জ্য তৈরি হয় তা বস্তায় ভরে সড়কে রাখার জন্য আড়তদারদের বলেছি। কোরবানির পরদিন ভোর থেকে এগুলো অপসারণ শুরু করবো। ৮ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার রাখা হয়েছে যাতে চামড়ার রক্ত, মাংস, কান, লেজের বর্জ্য অপসারণের পর ছিটানো যায়।

তিনি বলেন, গত বছর কোরবানির চামড়া নিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। আশাকরি এবার তেমন কিছু হবে না। তবুও আমরা পে লোডার, ট্রাকসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছি।

Facebook Comments

চট্রগ্রাম,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ