মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : সকালের নাশতায় একটি গরম সেদ্ধ ডিম কিংবা অমলেট না হলে যেন অনেকের চলেই না। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই অতিপরিচিত খাবারটি নিয়েই বিতর্কের শেষ নেই।
কেউ বলেন, ডিমের কুসুম কোলেস্টেরল বাড়ায়, আবার কেউ বলেন প্রতিদিন ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের এই দ্বিধা কাটিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদরা কী বলছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিমকে প্রকৃতির অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অ্যামিনো অ্যাসিডই বিদ্যমান। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিন। বিশেষ করে কোলিন, লুটেইন এবং জেক্সানথিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ডিম খাওয়ার সংখ্যাটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খেতে পারেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, হৃদরোগের ঝুঁকি নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি করে আস্ত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
শিশু: শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সতর্কতা: যাদের হৃদরোগ বা উচ্চমাত্রার ‘এলডিএল’ (খারাপ কোলেস্টেরল) রয়েছে, তাদের ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কুসুম কি বর্জনীয়?
অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম ফেলে দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের কুসুমেই ভিটামিন এ, ডি, ই এবং বি১২ এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে। তাই আস্ত ডিম খাওয়াই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
রান্নার সঠিক পদ্ধতি ও খাবার সমন্বয়
ডিমের সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ:
অতিরিক্ত ডিম কি ক্ষতিকর?
যে কোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা ঠিক নয়। শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করে আঁশযুক্ত খাবার না খেলে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে এটি কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।
শেষ কথা
ডিম কেবল একটি খাবার নয়, এটি পুষ্টির একটি সহজ উৎস। তবে মনে রাখতে হবে, আপনি কতটি ডিম খাচ্ছেন তার চেয়েও জরুরি হলো কীভাবে সেটি রান্না করছেন এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন। পরিমিতিবোধ এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি