1. recentnews19@gmail.com : News Desk :
  2. moinul129@gmail.com : mohin :
  3. editormuktinews24@gmail.com : Melon parvez : Melon parvez
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

পার্বতীপুরে ক্ষেতের পোকা দমনে কীটনাশকের বদলে ‘আলোক ফাঁদ’ কমছে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার, ফসল থাকছে বিষমুক্ত

  • প্রকাশ : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০, ৬.০০ পিএম
  • ১০৫ বার

সোহেল সানী: ‘হারা আগত টাকা খরচ করি বিষ কিনি ধানের পোকা মারিছি। অ্যালা কিন্তু টাকা খরচ করিবার লাগোছে না। বাতি জ্বালালে পোকা মরোছে।’ এ উক্তি করেছেন পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের টিকিয়াপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক জাকির হোসেন। উচ্চ মূল্যের কীটনাশক ব্যবহার করে ফসলের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নাম মাত্র খরচে ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারের সুফল পেয়ে উজ্জীবিত উপজেলার অনেরক কৃষক।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর পার্বতীপুর উপজেলায় ১০ ইউনিয়ন এক পৌরসভায় ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৬ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ব্রিধান-৩৪ আবাদ করা হয়েছে। গোটা উপজেলাকে ৩১ ব্লকে বিভক্ত করে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে রোপা আমনের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর থেকে পর্যাক্রমে ৩১ ব্লকে ‘আলোক ফাঁদ’ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি সোমবার ৩১ ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারে তিকর শত্রুু পোকা ও উপকারী বন্ধু পোকাও নির্ণয় করা হচ্ছে। এতে প্রতি সপ্তাহে শত শত কৃষক ‘আলোক ফাঁদ’ ব্যবহারের উপকারিতা প্রত্যক্ষ করছেন। এছাড়াও উপজেলা জুড়ে পাড়া-মহল্লায় ভিডিও প্রদর্শনী মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনে আলোক ফাঁদের কার্যকারিতা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করার কাজ চালানো হচ্ছে। রোপা আমন মৌসুমে সচেতনতার অভাবে অনেক কৃষক জমিতে তিকর পোকা আক্রমণ করার আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে তিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ের পর কীটনাশক প্রয়োগ করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমছে, আর ফসল থাকছে অনেকটা বিষমুক্ত।
উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের মন্মথপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ জানান, ধানেেত কীটনাশক ব্যবহার না করে আলোর ফাঁদ পেতে তিকর পোকা দমন করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদে উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফাই ও মাকড়সা এবং তিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা ও সবুজ পাতা ফড়িং এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ধানের উপকারী পোকা সংরণ এবং তিকর পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুজ্জামান বলেন, ব্লাষ্ট ও কারেন্ট পোকা প্রতিরোধের জন্য কৃষকদের মাঝে লিফলেট, প্রেসক্রিপশন বিতরন করা হচ্ছে। হাটে-বাজারে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, উঠান বৈঠক, দলীয় আলোচনা সভার মাধ্যমে আলোক ফাঁদের উপকারিতা অবহিত করা হচ্ছে। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি একটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী পদ্ধতি। এতে চাষিরা নিজেরাই তিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমনের ব্যবস্থা করতে সম হবেন।

সামাজিক যোগাযোগে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরীর আরও খবর
themesbazarmuktin141