মঙ্গলবার-১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,-রাত ৯:২৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

পার্বতীপুরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পিতা-পুত্র আহত নোয়াখালীর রেমিটেন্স যোদ্ধাকে দক্ষিণ আফ্রিকায়  পিটিয়ে হত্যা নাটোরে ভূয়া আয়ুর্বেদিক ঔষধ কারখানায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জনের কারাদন্ড, জরিমানা ৪লক্ষ! বরিশাল বিভাগের ৩১টি নৌপথের নাব্যতা বৃদ্ধি করে টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে        — নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী পৌর নির্বাচনের প্রচারে মাঠে নেমেছে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমানের ইন্তেকালে তথ্যমন্ত্রীর শোক সংস্কৃতিচর্চা বৃদ্ধি নতুন প্রজন্মকে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখবে -তথ্যমন্ত্রী

বৃহত্তর রংপুর বিভাগের তিস্তা সেচ প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

প্রকাশ: সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

মোঃলাভলু শেখ   লালমনিরহাট থেকে।১১ জানুয়ারী।
বৃহত্তর রংপুর বিভাগের তিস্তা সেচ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ১ লাখের বেশি হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। ফলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে অন্যান্য খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়বে
৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ১হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকার সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় সেচের আওতা বাড়বে। ভূগর্ভস্হ পানির স্তর অধিকতর উন্নতকরণ, পরিবেশ তথা জীব বৈচিত্র রক্ষা ও প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত ৩০ লাখ জনগনের আর্থ-সামাজিক অবস্হার উন্নতি ঘটবে।  প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি নীলফামারী জেলার সদর, সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, ডিমলা ও জলঢাকা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা ও চিনিরবন্দর এবং রংপুরের গঙ্গাচড়া, সদর, তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জে বাস্তবায়িত হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ( পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মন্টু কুমার বিশ্বাস জানান, তিস্তা ব্যারেজের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। সেতু প্রকল্প সব সময় দেশের জন্য ইতিবাচক। প্রকল্পটি সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বছরে হাজার কোটি টাকার ফসল মিলবে বলে আশা করছি। প্রকল্পের আওতায় ৭৭১ কিলোমিটার খাল ও সেচ কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ৭২ কিলোমিটার সেচ পাইপ স্হাপন, ১ হাজার ৮৫ টি সেচ কাঠামো নির্মাণ ও মেরামত করা হবে। এছাড়া ২৭ টি কালভার্ট, চারটি সেতু, ৬০ টি নিকাশ কাঠামো, ২০ টি রেগুলেটর নির্মাণ ও ৬ টি রেগুলেটর মেরামত করা হবে। এর পাশাপাশি ২৭০ হেক্টর জলাশয় পুনঃখনন, সাড়ে ৯ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা ও ফুটপাত স্লাব ও ৬৮ কিলোমিটার পরিদর্শন রাস্তা মেরামত করা হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সুত্র  জানায়, উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর রংপুর বিভাগে বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচের পানির অভাবে প্রকট শস্যসংকট একটি চিরন্তন সমস্যা। শুস্ক মৌসুমে তো বটেই আমন মৌসুমেও খরা দেখা দেয়। একমাত্র তিস্তা ছাড়া অন্যান্য ছোট নদী এবং খালে পানি প্রবাহ খুবই কম। তাই তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ব্রিটিশ আমলেই সৃষ্টি হয়। লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের পিত্তিফোটা মৌজার দোয়ানি নামক স্হানে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের ( প্রথম পর্যায়) আওতায় বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ব্যারেজ নির্মিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৭৯ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এনে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন বাড়ানো হয়। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে বুড়িমারী স্হল বন্দরের কার্যকারিতা বাড়ে। তিস্তা ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগের ফলে লালমনিরহাট জেলা থেকে রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশের দুরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমে গেছে। এতে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমেছে। এই ব্যারেজের উজানে তিস্তা নদীর বামতীর বরাবর অ্যাফ্লোক্স বাঁধ ঠ্যাংঝারা বর্ডার ( ভারত) পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। ফলে এই অংশে ৭ কিলোমিটার নদী ভাঙন হতে মুক্তি পেয়েছে। উজানের বালুময় জমি উর্বর ফসলি জমিতে পরিবর্তিত হওয়ায় কৃষিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ৬ হাজার হেক্টর ভূমি নদী গর্ভ হতে উদ্ধার পূর্বক ফসলি জমিতে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে অনাবাদি জমি ফসিল জমিতে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রকল্পের ফলে বছরে আরো হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হবে বলে অাশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments

রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ