নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার কর্মচারী ওসমান গণিকে বিধিবহির্ভূত ও অন্যায় ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপাশা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওসমান গণি জানান, তিনি লোহাগড়া পৌরসভায় ১০ বছর যাবত চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। হঠাৎ করে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানোর চিঠি ছাড়াই গত ২৬ জুলাই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। লোহাগড়া পৌরসভার তৎকালীন প্রশাসক সুস্মিতা সাহা স্বাক্ষরিত পত্রে ওসমান গণিকে ডাকযোগে অব্যাহতির এ আদেশ পাঠানো হয়েছে। পরদিন (২৭ জুলাই) তিনি লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক হিসেবে শেষ অফিস করেন। এরপর সুস্মিতা সাহা পড়ালেখার জন্য সরকারি ভাবে আমেরিকায় গেছেন। লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসমান গণি আরও বলেন, কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বিধিবহির্ভূত ভাবে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আমার বিরুদ্ধে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সে গুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আমি নিয়মিত অফিসে আসি না। অফিসের কোনো কাজে পাওয়া যায় না। কোনো কর্মকর্তার আদেশ মানি না। ওসমান গণি বলেন, আমি যথাযথ ভাবে অফিসে হাজিরা দিয়েছি। যার প্রমাণ হাজিরা খাতায় উল্লেখ রয়েছে। আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে নিয়মানুযায়ী কর্তৃপক্ষ আমাকে মৌখিক বা লিখিত ভাবে সতর্ক করতে পারতেন বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারতেন। কিন্তু, এ ধরণের কোনো নোটিশ আমাকে দেওয়া হয়নি। সরাসরি চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারির মধ্য থেকে সম্প্রতি ছয়জনের বেতন বৃদ্ধি করা হয়। বাকি চারজন ঠিকমত অফিস করেন না উল্লেখ করে তাদের বেতন বৃদ্ধি করেননি তৎকালীন পৌর প্রশাসক। অথচ, বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উদ্দেশ্যমূলক আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এতে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নু হয়েছে। আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এদিকে, পৌর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সভায় আমার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি যথাযথ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী, রেজুলেশন ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী ওসমান গণি বলেন, আমার চাকরিচ্যুতির নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমি পৌরসভার প্রকৌশল শাখায় কাজ করেছি। সেখানে দায়িত্ব পালন করার সময় পৌরসভার কার্যসহকারীর সঙ্গে আমার বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাদের প্ররোচণায় আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া লোহাগড়া পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালন, পদায়ন, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার এবং নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব ঢাকতে ষড়যন্ত্রমূলক আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সঙ্গতকারণে সব অনিয়মের সঠিক তদন্ত করে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি করছি।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা মোবাইল ফোনে জানান, তিনি চায়লে আউটসোর্সিংয়ের (চুক্তিভিত্তিক) যে কাউকে অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে, ওসমান গণিকে কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিনা, তার সত্তদুর দেননি।
এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলার নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওসমান গণিকে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি অবগত হয়েছি। বিধি মোতাবেক বা নীতিগত ভাবে আপিল করার সুযোগ থাকলে তিনি (ওসমান গণি) তা করবেন।