বুধবার-২৭শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,-বিকাল ৫:০২

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

হিলিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বিজিবি কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বহিস্কার  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে কুইজ প্রতিযোগিতায় স্মার্টফোন বিজয়ী হলেন খানসামার রাহুল রায় সৈয়দপুরে শীত নিবারণে অব্যর্থ চেষ্টা চুলার আগুনে বৃদ্ধা দগ্ধ এসএসসি’র সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ পাবে করোনার টিকা: প্রধানমন্ত্রী চসিক নির্বাচনে নৌকা-ধানের শীষের ভোটের লড়াই চলছে

সৈয়দপুর পৌর নির্বাচনে ভোটাররা ক্রমেই ঝুকছেন লাঙ্গলের দিকে

প্রকাশ: সোমবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২১ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর প্রথম শ্রেণীর সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাচনে ভোটাররা ক্রমেই ঝুকছেন লাঙ্গলের দিকে। জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শিল্পপতি ও ইকু গ্র“পের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের গোছালো ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা এবং ইতোপূর্বে তার কৃতকর্মের আলোকে সর্বস্তরের ভোটাররাই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে তাকে নিয়ে। বিশেষ করে সৈয়দপুর শহরের সিংহভাগ ভোটের অধিকারী উর্দুভাষী জনগোষ্ঠির মধ্যে সাড়া ফেলেছে তার সৈয়দপুর কে নিয়ে নানা সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের প্রতিশ্র“তি। ক্যাম্পবাসী উর্দুভাষীদের মানবেতর জীবন থেকে স্বাস্থ্যকর ও উন্নত মানসম্পন্ন আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্বলিত জীবন যাপনের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথায় তারা দিন দিন লাঙ্গলের পে অবস্থান নিচ্ছে।
আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠেয় সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাপা প্রার্থীসহ আরও ৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক সাবেক এমপি বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্য মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার (নারিকেল গাছ), সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশে পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সদ্য প্রয়াত আখতার হোসেন বাদলের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সরাসরী মনোনয়নপ্রাপ্ত রাফিকা আকতার জাহান বেবী (নৌকা), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নীলফামারী জেলা সাধারণ সম্পাদক হাফেজ নুরুল হুদা (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রবিউল আউয়াল রবি (মোবাইল ফোন)।
এদের মধ্যে আমজাদ হোসেন সরকার তাফশীল ঘোষনার পর থেকেই অসুস্থতা জনিত কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় ভোটের মাঠে তার উপস্থিতি নেই। তার পে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক অধ্য মোঃ আব্দুল গফুর সরকারসহ নেতাকর্মীরা মাঠে নামলেও জোড়ালো কোন ভুমিকা না থাকায় ধীর গতিতে চলছে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম। আমজাদ হোসেনের নিজস্ব ভোট ব্যাংক থাকলেও উর্দুভাষী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার অনুপস্থিতির কারণে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। যা জাপা প্রার্থীর জন্য ভোট প্রাপ্তির েেত্র নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
একইভাবে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এ্যাড. এস এম ওবায়দুর রহমান প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়ায় প্রার্থী শুন্য সৈয়দপুর বিএনপি। এমতাবস্থায় চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা। বিশেষ করে আমজাদ হোসেন সরকার বিরোধী গ্র“পটি। তারা বাধ্য হয়ে বিকল্প প্রার্থীর পে নিরব সমর্থন ব্যক্ত করছেন। উপরোক্ত দুটি কারণে আওয়ামীলীগের একেবারে বিরোধী হওয়ায় ওইসব ভোটাররা বাধ্য হয়েই ঝুকে পড়েছেন জাপা প্রার্থীর দিকে। যার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে মাঠে ময়দানে।
এদিকে প্রথম থেকেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী। তার পে ত্রিধা বিভক্ত সৈয়দপুর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন মুখ ও অনভিজ্ঞ হওয়ায় প্রার্থীর প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। একারণে প্রচারণায় এগিয়ে থাকলেও ক্রমেই ভাটা পড়ছে তৎপরতায়। প্রথম দিকে সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন অনেক নেতাই আড়ালে অবস্থান করছেন। এতে করে আওয়ামীলীগেরও একটি অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটও এখন লাঙ্গলের দিকে ক্রমেই আসছে। আগামীতে এর প্রভাব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে লাঙ্গলের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক মনোনয়নপত্র সবার শেষে জমা দিয়েও এখন ভোটের মাঠে সবার সামনে অবস্থান করে নিয়েছেন। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্বতঃস্ফুর্তভাবে সম্পৃক্ত হচ্ছেন তার জনসংযোগ ও প্রচারণায়। একারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তাকে নিয়ে। যার ফলে প্রতিটি পথসভাই পরিণত হচ্ছে জনসমুদ্রে। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত জনসমাগম প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় সহ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্থাপিত অফিসগুলোতে। পাড়া-মহল্লাসহ মোড়ে মোড়ে ও হাটে বাজারে মানুষের সমাগমস্থলগুলোতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত লাঙ্গলের প্রার্থী।
তাছাড়া সৈয়দপুর পৌরসভায় মোট ভোটের প্রায় ১০ শতাংশ ভোট রয়েছে জামায়াতের। দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তারা এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের প্রার্থী নেই সৈয়দপুরে। কিন্তু তারপরও জামায়াতের ভোটারদেরকে নিজেদের পে টানার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।  তাদের ভোট বিএনপি’র প্রার্থীর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী শুন্য এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুপস্থিতির কারণে জামায়াতের ভোটারদের কাছে অনেকটা গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পেরেছেন জাপা প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী থাকলেও জামায়াতের সাথে তাদের প্রত্য বিরোধ থাকায় লাঙ্গলের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই ভোটগুলো টানার। তাই এ সুযোগকে সর্বাত্মকভাবে কাজে লাগাতে তৎপর জাপা।
বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজ করছে। এটাকে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলে লাঙ্গলের বিজয় সুনিশ্চিত বলে মনে করছে নির্বাচন বোদ্ধাসহ সর্বস্তরের সচেতন মহল।
এমতাবস্থায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করে জাপা প্রার্থী আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, আমি শুধু জাতীয় পার্টির প্রার্থী নই। বরং সর্বজনীন মেয়র প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাই। যাতে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সৈয়দপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি। ইতোমধ্যে সৈয়দপুরবাসীর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশাকরি তারা প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন। ভোটাররা প্রতিশ্র“তি রা করলে আমিও তাদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সামগ্রিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নিজেকে সম্পূর্ণরুপে তাদের সেবায় নিয়োজিত করবো ইনশা আল্লাহ।

Facebook Comments

রাজনীতি,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ