মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। এবার সার্বিক গড় পাসের হার মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ফলাফলের আরেকটি চরম হতাশাজনক দিক হলো, এবার একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এবারের ফলাফলে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩টিতে, যা গত বছর ছিল ২০২টি। অর্থাৎ, গত বছরের চেয়ে এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেড়েছে। বিপরীতে, শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার মাত্র ১৩৯টি।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন। এই জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বেশ কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্থগিত হওয়া ওই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ৯ সেপ্টেম্বর।