আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
দীর্ঘ ১৬ বছর পর বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার ৪ মাস পর এই বৃত্তি পরীা হওয়ায় ৩৩.৯% পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেনি। শনিবার দুপুরে আদমদীঘি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শেষ হয় এ বছরের বৃত্তি পরীা।
কেন্দ্রে থেকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এবার উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীায় ৭৯৪ জন অংশ গ্রহণ করার কথা ছিলো। কিন্তু সেখানে অংশ গ্রহণ করেছে মাত্র ৫২৫ জন। আর ২৬৯ জন পরীার্থীই অনুপস্থিত। অর্থাৎ ৩৩.৯% পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেনি। উপস্থিতি দেখে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও অনেকটাই হতাশ।
এদিকে যেসব পরীক্ষার্থী আদমদীঘি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে এসেছেন তারাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। পরীক্ষার প্রথম দিনে একটি শ্রেনীকক্ষে ছিলো না বৈদ্যুতিক পাখা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। এমনকি বাথরুম ব্যবহার করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এসব নিয়ে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও অভিযোগ তুলেছিলেন শোহান নামের স্থানিয় এক যুবক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, মাধ্যমিক স্তরের বই পড়তে পড়তে হঠাৎ প্রাথমিকের বৃত্তির প্রস্তুতি নিতে বসে মানসিক চাপে পড়েছে শিার্থীরা। নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের। এ ধরনের বৃত্তি পরীা শিায় ইতিবাচক প্রভাব আনবে না। বরং দুই শ্রেণির পড়ার চাপ সামলাতে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সেই সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রের সমস্যাগুলো নিয়ে আরেক চাপ। সব মিলিয়ে তিনি অসময়ে এ বৃত্তি পরীা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।
উপজেলার সান্তাহারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এপ্রিলে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীা হবে। আর জুনে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির অর্ধ বার্ষিক পরীায় বসতে হবে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীা নিয়ে এসব শিশু শিার্থীরা বিপাকে পড়েছে। প্রস্ততির চাপ, সময় ব্যবস্থাপনার সংকট এবং পরীা দেওয়ার মানসিক উদ্বেগের কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছে সদ্য ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠা এসব বৃত্তি পরীার্থী। একারনে পরীক্ষা খারাপ হবে ভেবেই অনেকে অংশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক-অভিভাবকরাও।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুর রহিম প্রধান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীা’ নিয়েছি। আশানুরূপ পরীার্থী উপস্থিত না হলেও পরিক্ষা ভালো হয়েছে। কেন্দ্রে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। অভিভাবক মহল সচেতন হলে পরীক্ষার্থী উপস্থিতি আরো বাড়তো বলে তিনি মনে করেন।
বৈদ্যুতিক পাখা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম দিনে পরীক্ষা শুরুর আগেই কেন্দ্রে আসেন শোহান নামের এক যুবক। তিনি ফ্যান না দেখেই মনগড়া কথা তুলে ধরেন ফেসবুকে। পরীক্ষা শুরু হলে আমরা ফ্যানের ব্যবস্থা করেছিলাম। তবে কক্ষে আলো এবং বাথরুমের কোনো সমস্যা ছিলো না।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাথমিকে বৃত্তি পরীা চালুর উদ্যোগ নেয় অন্তরবর্তী সরকার। প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। ঠিক সেসময়ে সামনে আসে আইনি জটিলতা। এতে আটকে যায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীা। বিএনপি সরকার মতায় আসার পর নীতিমালা সংশোধনের ঘোষণা দেন নতুন শিামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিার্থীরাও সুযোগ পাচ্ছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিকের ৮০ শতাংশ এবং কিন্ডারগার্টেনের ২০ শতাংশ শিার্থী বৃত্তি পরীায় অংশ গ্রহণ করতে পারে।