মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় গাড়িগুলোর ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ দুই চালককে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরের এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক আবুল কালাম আজাদ (৩২) নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে বাসটির চালকের আসনে থাকা সোহেল রানাও (৩৬) নিহত হয়েছেন। তবে তিনি বাসের সুপারভাইজার ছিলেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাইওয়ে থানার এএসআই আকবর হোসেন বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন।
তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। তাই রাতে পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে।
আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, মামলায় দুই পরিবহনের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ আছে, দুর্ঘটনার সময় বাসের চালকের আসনে ছিলেন সুপারভাইজার। মামলার তদন্তের মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিসহ ফিটনেসসহ অন্যান্য অনিয়মগুলোও উঠে আসবে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসের সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে দুই বাহনের চালকসহ ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। রাতেই মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। হাইওয়ে থানা মামলাটি নিয়ে কাজ করবে।
নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার বলেন, “দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ ছিল না এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলার পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বনপাড়ায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে বলেও জানান তিনি।