
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : সবুজ বসতি’ গড়ে তুলতে সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপন অভিযান এবং বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যত গ্রিন দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এটার সাথে নিশ্চয়ই আপনারা এই ঘরে উপস্থিত কেউ আমার সাথে ডিফার করবেন না, সবাই নিশ্চয়ই আপনারা একমত হবেন। একটা সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে আমি কিছুদিন আগেও বলেছিলাম যে, এখানে একজন বলেছেন…একটা সন্তান আমাদের পরিবারে—আমাদের নিজেদের হোক, আত্মীয়স্বজন হোক— একটা পরিবারের নতুন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে আমরা যদি সবাই মিলে তার জন্য তাকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি। তাহলে প্রতিটা প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণ রাখি; তাহলে একটা নবজাতকের পাশাপাশি একটা গাছ যেমন বেড়ে উঠবে, সেই ছোট্ট শিশুটি আস্তে আস্তে বেড়ে উঠবে এবং এভাবেই সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন সফলতা লাভ করবে।
যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালের একটি ঘটনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি লন্ডনে যেই পাড়াটায় থাকতাম, আমার তিন-চারটি বাসা পরে একটা বাসা ছিল। তিনতলা বাসা। সেই বাসায় সামনে দুটি গোলাপ গাছ ছিল দরজাটার দুপাশে। গোলাপ গাছগুলো —ক্লাইম্বিং রোজ যেটাকে বলে; গোলাপ গাছগুলো বেড়ে বেড়ে অলমোস্ট তিনতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। একদিন বাসার যে মালিক ওর সাথে আমার দেখা হল। আমি বললাম যে তোমার এই গাছগুলো খুব সুন্দর। বেশি দূর থেকে খুবই সুন্দর লাগে দেখতে। ভদ্রলোকের তিনটা সন্তান। তিনি বললেন, ‘যখন আমার যেই সন্তান জন্ম হয়েছে, আমি তখন তার নামে একটা করে গাছ লাগিয়েছি …দুটো সামনে আছে, একটা বাসার পিছনে আছে’। তিনটা গাছ এখন বড় হয়ে গেছে প্রায় তিনতলার সমান হয়ে গেছে…দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। সেদিন থেকে আমার কাছে মনে হয়েছে যে, দেশে ইনশাল্লাহ ফিরলে আমার পক্ষে কখনো সুযোগ হলে এই কথাটি আমি বলার চেষ্টা করব। আমি সেজন্যই আজকে আপনাদের সামনে এই কথাগুলো আমি তুলে ধরলাম।
সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবে আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সরকার গঠন করার পরে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলেন্টিয়ারিজম চালু করার একটা পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকা নিউজ এসছে স্কুলগুলোতে। একসাথে স্কুলের একটা প্রোগ্রাম ছিল, একসাথে প্রায় ৯০ হাজার এর মত গাছ বিভিন্ন স্কুলে সেদিন রোপণ করা হয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভারনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। সরকারের এই উদ্যোগগুলো যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যকর এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠন করতে ইনশাল্লাহ সক্ষম হব।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এবছর জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষ মেলার যে আয়োজন, এটা যেমন বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটা নিরাপদ বিনিয়োগ বলে আমি মনে করি। এই আয়োজনটা কেবলমাত্র একটা বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই যদি সীমাবদ্ধ থাকে, সেটা বোধহয় থাকা উচিত হবে না। বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মত এই যে বিষয়টা, এটা আমাদের একটা নৈমিত্তিক অভ্যাসে যদি আমরা পরিণত করতে পারি; তাহলে আমরা সকলের বক্তব্যে যে কথাগুলো বলি যে, একটা স্বাস্থ্যকর বসতি গড়ে তোলা দরকার, আমাদের গড়ে তোলা উচিত—এসবগুলো তাহলে ধীরে ধীরে আসলেই বাস্তবে রূপ নিতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা এখানে পরিবেশকর্মীসহ বৃক্ষরোপণ বা বাগান তৈরি বা এই কাজগুলোতে যারা জড়িত আছেন, যারা উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্নার থেকে… আপনাদের মত মানুষগুলো বা প্রতিশ্রুতিশীল তারুণ্য যদি থাকেন, দেশে এটার সংখ্যা যদি বৃদ্ধি পায়, নিশ্চয়ই ইনশাল্লাহ আমরা একটা সবুজ বসতি গড়ে তুলতে সক্ষম হব এই বাংলাদেশে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যেই কথাটি মনে করি, সেই কথাটি আপনাদের সামনে বলতে চাইছি সেটা হলো, দেশ হোক সকল প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কিংবা বনায়ন—এটাই বোধহয় শেষ কথা বলা উচিত হবে না। বনায়ন পশুপাখি, বিভিন্ন প্রাণী কীটপতঙ্গের জন্য নিরাপদ বাসস্থান কিংবা প্রয়োজনীয় আহারের যোগান দিতে পারে কি না, এটিও কিন্তু আমাদের চিন্তার মধ্যে থাকা প্রয়োজন। কারণ আমরা অনেক গাছ অনেক কিছু কেটে ফেলার কারণে যেটি হচ্ছে সমস্যা; অনেক পোকামাকর অনেক কিছু কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যেটাও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে ছিল যে, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। ইচ্ছামত যদি আমরা গাছ রোপণ করি, তাহলে কিন্তু এই লক্ষ্যটা সফল হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা বিশ্বাস করি যে, কোন কোন পরিবেশে কোন মাটিতে কী ধরনের আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, এটি সম্পর্কেও কমবেশি আমাদের একটি ধারণা থাকতে হবে এবং সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছগুলোকে আমাদের রোপণ করতে হবে। আমাদের পরিবেশের জন্য যে গাছগুলো ক্ষতিকারক, সেই গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। সেই গাছগুলোকে আমাদের এনকারেজ করা উচিত না রোপণের জন্য এবং একই সাথে নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ এগুলোকে রোপণ করা খুবই দরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গাছপালা প্রাণী অর্থাৎ জীব এবং মাটি, পানি, বায়ু, পরিবেশ সবকিছু যাতে স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে বনায়নের মাধ্যমে, ফরেস্ট্রেশনের মাধ্যমে—এরকম একটা ইকোসিস্টেম বজায় এবং বহাল রাখার আমরা চেষ্টা করছি। বর্তমান সরকার যে কাজগুলো করছে, তার ভেতর দিয়ে এই পুরা জিনিসটাকে একসাথে রাখার পরিবেশ যেন ঠিকঠাক থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। শুধু যে গাছ লাগাব, শুধু যে প্লাস্টিক সরাব- তা নয়। অনেকগুলো ইন্টিগ্রেটেড জিনিস আছে, সেগুলোকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি। তবে এই যেই গাছটাকে আমরা রোপণ করলাম, এটা নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, বেড়ে উঠতে পারছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাও খুব বেশি জরুরি।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম