মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের প্রায় ১৯ দিন পর বাড়ির উঠান থেকে মাটি খুড়ে এক জায়েদা বেগম (৩৮) নামের নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
নিহত জায়েদা বেগম বেগম রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নানের মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন করিমপুর চা বাগান এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩ জুলাই জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৪২, তারিখ: ০৩/০৭/২০২৬) করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে রাজনগর থানার এসআই (নিঃ) অরূপ সরকার ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তাকে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে ৫ জুলাই পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটককৃত আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি তার সহযোগীসহ জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। একদিন পরে মরদেহ নিজ বসতবাড়ির উঠানে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে ঘাতক স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামীসহ ২ জন পুলিশ হেফাজতে আছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।