মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক : মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ গতকাল মঙ্গলবার ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন আরব বিশ্বের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মরক্কোর রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক নিয়োগের কথা নিশ্চিত করা হয়। ফাতিমা মানসুরি এর আগে দেশটির নগর-পরিকল্পনামন্ত্রী এবং পর্যটন নগরী মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নিজের নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এটিকে "সত্যিই ঐতিহাসিক" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম একজন নারী সরকারপ্রধান হওয়া শুধু তাঁর জন্য নয়, গোটা দেশের সব নারীর জন্যই এক বিরাট গর্বের বিষয়।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফাতিমার নেতৃত্বাধীন ও রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ‘অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সর্বোচ্চ ৯৭টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসনের ঘাটতি থাকায় তাঁকে এখন জোটসঙ্গী খুঁজতে হবে।
ফলে জোট সরকার গঠন করাই হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা মানসুরির প্রথম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) সহ কয়েকটি দল বিরোধী আসনে বসার ঘোষণা দিয়েছে।
জোট গঠনের পাশাপাশি নতুন সরকারকে স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি ও এ সংক্রান্ত শতকোটি ডলারের বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করতে হবে। সূত্র: আল–জাজিরা