শনিবার-৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৩:১৯

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

আদমদীঘিতে প্রাইভেটকারে অভিযান স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার পার্বতীপুরে ট্রেনে কাটা মহিলার লাশ উদ্ধার দেশের প্রথম খানসামা থানায় করোনা যোদ্ধা কনস্টেবল নাজমুল হোসেন স্মৃতি লাইব্রেরীর ভিত্তি স্থাপন করোনা মুক্তিতে জুমাতুল বিদায় বিশেষ দোয়া পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকল দেশ বাসিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছে রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দ্দী বাপ্পী। সৈয়দপুরে যাত্রী পরিবহনের দায়ে ঢাকাগামী ৬টি নৈশকোচ আটক রাজারহাটে অগ্রীম ঈদ মোবারক ও শুভেচ্ছা জানালেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলতাফ হোসেন।

সুবর্ণচরের চিহ্নিত ইয়াবা সম্রাট কালা ধরা- ছোঁয়ার বাহিরে 

প্রকাশ: বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১ , ২:২৪ অপরাহ্ণ , বিভাগ :
নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালী সুবর্ণচরের চিহ্নিত মাদক সম্রাট উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চরমজিদ গ্রামের যোবায়ের বাজার এলাকার বাসিন্দা কালা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সুবর্ণচরে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন নাগরিকদের  আয়োজনে  উঠান বৈঠক,বিট পুলিশিং সেবায় মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ঘোষণা করেন চর জব্বার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাহেদ উদ্দিন।চর জব্বার থানাতে যোগদানের পর নবাগত ওসি জিয়াউল হক মতবিনিময় সভা, বিট পুলিশং সেবা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উঠান বৈঠকে মাদক ব্যবসায়ীদের জিরো টলারেন্স ঘোষণা।
এলাকাবাসী, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-সবাই জানে,সুবর্ণচর উপজেলার  কোন কোন  এলাকায় মাদকের মূল ব্যবসায়ী কারা।থানায় অনেকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি,পিটিশন মামলাও আছে। প্রশাসনের কাছে আছে তাঁদের বাসাবাড়ির ঠিকানাও। কিন্তু তাঁরা আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নোয়াখালী অফিসের সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার যোদক জানান,কিছু তালিকা অনুযায়ী আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।সুবর্ণচর উপজেলা  এলাকায় মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন হাফিজুর রহমান (খোকন) সর্দ্দার ছেলে কালা  আজাদ (২৬) ২ নং চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের বাসিন্দা সে।পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের রহুল আমিনের পুত্র কালা (৪০) প্রকাশ গাছ ব্যাপারী কালা ওরফে কালা চোরার ছেলে ফারুক অন্যতম।এই চক্রটি চট্রগ্রাম বিভিন্ন জায়গা থেকে ইয়াবা, গাঁজা,চোলাই মদ ও ফেনসিডিল এলাকায় আনেন। বিক্রি করেন তাঁদের সহায়তাকারীরা। এর মধ্যে কালু ওরফে ইয়াবা কালু এলাকায় ‘ইয়াবা সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। গাঁজা ও চোরাই গাছের ব্যবসাও তাঁর হাতে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, তথ্য থাকলেও কৌশল ও জনবলের দিক দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না তাঁরা। আর পুলিশ বলছে, মাদকের এই হোতাদের ধরতে তাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, এই দুই মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁদেরই কোনো কোনো কর্মচারী ও সোর্সদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এরা প্রশাসনের গতিবিধি আগাম জানিয়ে দেয়। কিন্তু এদের চিহ্নিত করতে পারছেন না তাঁরা।
উল্লেখ্য গত ৫ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরজব্বার থানাতে এক মতবিনিময় সভাতে নোয়াখালী-৪ (সুবর্ণচর-সদর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন আমার সুবর্ণচরে মাদক,সন্ত্রাস,ইভটিজিং বিরুদ্ধে যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশের সোর্সদের চিহ্নিত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান মাদকদ্রব্য কর্মকর্তারা ও পুলিশের সদস্যরা।
বর্তমানে কালু  তিনি এলাকায় এসে সহকারীদের হাতে ইয়াবা তুলে দিয়ে চলে যান।
বিভিন্ন সূত্রে কালুর একটি মুঠোফোন নম্বর পাওয়া গেছে। সেই নম্বরে গতকাল মঙ্গলবার  বিকেলে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
যোগাযোগ করা হলে,চরজব্বার থানার অফিসার ইনসার্জ জিয়াউল হক বলেন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কোন মাদক ব্যাবসায়ী কোন প্রার্থীর কর্মী ও ভোটারদের জোর করে ভোট প্রয়োগ করলে,অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।ভুক্তভোগী ভিকটিমের অভিযোগ সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান মাদক ব্যবসায়ী আর স্থানীয় ও বহিরাগত ক্রেতাদের উৎপাতে গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ। তাঁদের প্রশ্ন, মাদক ব্যবসায়ী চিহ্নিত হওয়ার পরও কেন তারা ধরা পড়ছে না। প্রশাসন সবকিছু জানলেও এলাকায় কীভাবে মাদকের বিস্তার ঘটছে?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,আগে গোপনে বিক্রি হলেও দুই বছর ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে এলাকার,বাজার  মসজিদের গলি,সেলিম চেয়ারম্যান প্রজেক্ট,যোবায়ের বাজার স’মিলের সামনের রাস্তা,যোবায়ের বাজার রাস্তার মাথা,যোবায়ের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। স্থানীয় ক্রেতার পাশাপাশি এসব জায়গায় মাদক কিনতে আসেন বহিরাগতরাও।এরা রাস্তা ও গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে নারীদের ইভটিজিংও করে   বলেন জানান অনেকে।মাদক সম্রাট কালুর খুটির জোর কোথায় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান,স্থানীয় ইউপি সদস্য আহছান উল্লাহ মিয়নের ঘনিষ্ঠ সহচর কালু।মিয়ন মেম্বারের ছত্রছায়াতে কালুর রাজত্ব চলে।
এ মাদক সম্রাট কালার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_