সোমবার-২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১০:১৫

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ পার্বতীপুরে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্ট শুরু সুজানগরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম হায়দার আলী শাহ্ এর মৃতুতে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে গো- খাদ্য বিতরণ  বাবা হারালেন শ্রীলেখা মিত্র অনুশীলনে ফিরলেন মেসি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন মঈন আলি

অদম্য এক যোদ্ধা স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা.এম আমজাদ হোসেন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১ , ১০:২২ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এস.এম.রকি: নিরবে-নিভৃতে দেশ ও দশের জন্য মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি জনসেবায় কাজ করে যাচ্ছেন অদম্য এক যোদ্ধা দেশবরেণ্য চিকিৎসক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা.এম আমজাদ হোসেন।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে গৌরব ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার “স্বাধীনতা পদক” প্রাপ্ত গুণী এই চিকিৎসক ১৯৫৩ সালের ৫ই জুলাই উত্তরের জেলা দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দণি সুখদেবপুর গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল বাকী মন্ডল এবং মাতার নাম আলহাজ্ব আমেনা খাতুন। দুই সন্তানের জনক অধ্যাপক ডা.আমজাদ হোসেন ও ডা.শামীমা আমজাদ দম্পতির বড় ছেলে আজমত হোসেন (সৈকত) ইংল্যান্ডের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার’স এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশুনা করছেন ও মেয়ে আফিয়া তাসনিম (শর্মী) ওয়াশিংটনের ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কর্মরত।

অধ্যাপক ডা.এম আমজাদ হোসেন ১৯৬৮ সালে চিরিরবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক ও ১৯৭০ সালে দিনাজপুর সরকারী কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ছাত্র অবস্থা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আর্দশের অনুসারী তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি স্বইচ্ছায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তৎকালীন দিনাজপুরের কামারপাড়া, রায়গঞ্জ ও সিলিগুড়ি ক্যাম্পে উচ্চতর প্রশিণ প্রাপ্ত হয়ে ৭নং সেক্টরের অধীনে টিম লিডার হিসেবে সরাসরি দিনাজপুর বড় গ্রাম, নিউটাউন ও রুদরানীসহ বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্যাম্প ও স্থাপনার উপরে গেরিলা আক্রমণ করেন। অতঃপর ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই ফুলবাড়ী ভেড়াম গ্রামে এক গেরিলা যুদ্ধে শত্রু সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে দু’পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাঁর সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রক্তাক্ত আমজাদ হোসেনকে বালুরঘাট সরকারী হাসপাতাল এবং লক্ষ্মৌ ও বিহারের রামগড় সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেন। এরপরে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেন ১৯৭৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হতে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ও ১৯৮৬ সালে অর্থোপেডিক বিষয়ে এম এস ডিগ্রি অর্জন করেন।

চিকিৎসার সুবাদেই দেখা হয় আমেরিকান চিকিৎসক ডা.আর জে গাষ্টের সাথে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে চিকিৎসক হয়ে ডা. গাষ্টের আহবানে সরকারি কাজের পাশাপাশি অবৈতনিক ভাবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টে দায়িত্ব পালন করেন। এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কাজ করেন এরপরে তিনি সহকারী,সহযোগী ও অধ্যাপক হিসেবে নিটর,সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৮ সালে চাকুরী হতে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ল্যাবএইড স্পেশালাইড হাসপাতালে অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগে চীফ কনসালটেন্ট হিসেবে অদ্যাবধি কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থোপেডিক সার্জারী চিকিৎসায় তিনি বাংলাদেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসার অন্যতম কারিগর।

অর্থোপেডিক বিষয়ে আরো অভিজ্ঞতার জন্য ভারত,সিঙ্গাপুর,জার্মানী,আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া,সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে অর্থোপেডিক সার্জারী বিষয়ে প্রশিণ গ্রহণ করেন এবং নিউ ইয়র্কের “হসপিটাল ফর স্পেশাল সার্জারী”তে জটিল জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারীতে প্রশিণ নেন। আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থোপেডিক রোগীদের বিদেশে যাওয়া অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পেরেছে এবং তাঁর নেতৃত্বেই দেশে কোমর ও হাঁটু প্রতিস্থাপন (হিপ অ্যান্ড নি রিপ্লেসমেন্ট) সার্জারিতে এসেছে বৈপ্লবিক সাফল্য। সদা হাস্যেজ্জ্বল এই মানুষটি চিকিৎসক হিসেবে সবার কাছে তিনি প্রিয়।কেননা সহকর্মী, সিনিয়র-জুনিয়র সবার সাথেই তাঁর ভালো আচার-আচরণের কারনে তিনি সবার কাছে পছন্দের শীর্ষে।

অধ্যাপক ডা.এম আমজাদ হোসেন বলেন,বর্তমান সময়ের মত সুন্দর শিার পরিবেশ,পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা কোনটাই সহজ ছিল না আমার শৈশব কেটেছে গ্রামের ফসলি জমিতে,দুরন্ত কৈশরে গ্রামের খাল- বিল ও পুকুরে মাছ ধরা আর জমির আইলে খেলায় মেতে। চিকিৎসক হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে স্বপ্ন দেখতে থাকি কিভাবে অসহায়,গরিব,প্রতিবন্ধি ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানব কল্যানে কাজ করা যায়। শিাই একমাত্র সমাজকে বদলাতে পারে,এই স্বপ্নটাই ছিল একটি শিতি সমাজ গঠনে অন্তত আমার বেড়ে ওঠা জায়গায় কিভাবে শিার আলো দিয়ে দেশ ও জাতিকে উচ্চ শিখরে পৌছানো যায়। সেই চিন্তা থেকেই ২০০০ সালে নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বাবা-মায়ের নামে এবি ফাউন্ডেশন গঠন করে ‘শিাই জাতির মেরুদন্ড’ এ নীতিতে শিতি সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মানে প্রতিষ্ঠা করি আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ। সেই প্রতিষ্ঠানের আলোয় আলোকিত হয়ে চিরিরবন্দর হয়ে উঠেছে শিানগরী।

এবার আমেনা-বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মেডিকেল চান্স পাওয়া ৮জনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ অর্জন প্রমান করে আমার কষ্ট ও পরিশ্রম স্বার্থক হতে চলছে। আমার সাথে আমার পরিবারের সকল আত্বীয় স্বজন,আমার জীবিত মা,সহধর্মীনি ডা.শামীমা আমজাদ,সন্তান আজমত হোসেন ও আফিয়া তাসনিম,অধ্য মিজানুর রহমান,শিকসহ এবি ফাউন্ডেশনের নিয়োজিত ব্যক্তিরা,সকল এবিয়ানসহ অভিভাবকবৃন্দ,স্থানীয় জনগন,প্রশাসন ও সাংবাদিক বৃন্দের আন্তরিকতায় আজকের এই সফলতা।

স্বাস্থ্য ও শিা বিভাগের পাশাপাশি জনসেবায় তিনি সর্বদা নিবেদিত। গরীব ও অবহেলিত মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সাধ্যমত পাশে দাঁড়ান এবং করোনাসহ যেকোনো দূর্যোগে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসার যোগ্য দাবিদার।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ডা.এম আমজাদ হোসেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অর্থোপেডিক সার্জারি অ্যান্ড ট্রমালোজি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশন অব সার্ক কান্ট্রিজ-এর সভাপতি হিসেবে আছেন। তিনি বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ঢাকাস্থ দিনাজপুর জেলা কল্যাণ সমিতির দুই মেয়াদে সভাপতি হিসেবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে আছেন।

স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধ্যমত সর্বদা মানবিক কাজ করার চেষ্টা করব । এজন্য সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।


রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_