শনিবার-১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১১:১৪

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

করোনামুক্ত হলেন ক্যাটরিনা মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা লকডাউন বাড়তে পারে আরও ৭ দিন ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে বিকল্প পাঠদানে জোর: শিক্ষাসচিব কবরীর মৃত্যুতে শোকাহত জয়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি উদ্ধার  লালপুরে আগুনে বসতবাড়ি পুুড়ে ছাই

‘ঘর দিন না হলে টাকা ফেরত দিন’

ইউপি কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগিদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১ , ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :
এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় গরিব ও অসহায়দের ঘর দেয়ার নামে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্র, গরিব ও অসহায়দের ঘর দেয়ার নামে টাকা নেয়ার তিন বছরেও ঘর পাননি তারা। তাই বাধ্য হয়েই ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে বিােভ করেছেন। এসময় তারা বলেন ঘর দিন না হলে টাকা ফেরত দিন।
তাদের অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু সরকারি বরাদ্দের ঘর দেয়ার নামে ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে সান্দিড়া, দমদমা, ছাতনিসহ বিভিন্ন গ্রামের সাধারন মানুষের কাছে থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা ঘরের আশায় চেয়ারম্যানের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করলে তিনি কখনো ‘জমি আছে বাড়ি নাই প্রকল্প, আশ্রয়ন প্রকল্প, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রকল্পের ঘর’ দেয়ার আশ^াস দেন। কিন্ত আজ পর্যন্ত তাদের কোনো ঘর বরাদ্দ দিতে পারেন নি। চেয়ারম্যান সরকার দলীয় নেতা হওয়ায় গত তিন বছরেও প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। হঠাৎ মঙ্গলবার সকালে ভুক্তভোগী সুমন হোসেন, মেহেরুন, হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, মোসলেমা ও হোসেন আলীসহ বেশ কয়েকজন ইউপি কার্যালয়ের সামনে সমাবেত হয়ে বিােভ শুরু করেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, চেয়ারম্যান গত ৩ বছর আগে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের ঘর দেয়ার জন্য মহিলা মেম্বার সফুরা বেগমের মাধ্যমে প্রত্যকের কাছ থেকে ১৫-১৮ হাজার টাকা করে নেয়। এরপর সফুরা মারা গেলে তারা ঘর পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। সমাধান চেয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি তাদের কিছু টাকা ফেরত দেন এবং পরবর্তীতে বাঁকি টাকা দেয়ার আশ^াস প্রদান করেন।
এছাড়া ওই ইউপির সান্দিড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহারের বাড়ি নির্মাণ শুরু হলে তিনি প্রতিবন্ধী মেয়ে রঞ্জনা আক্তারের জন্য চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিকভাবে একটি বাড়ির আবেদন করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান নানা খরচের কথা বলে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চেয়ারম্যানকে ৪৫ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তিনি এখন আর বাড়ি বা টাকা কোনোটায় ফেরত দিচ্ছেন না।
এ ব্যাপরে সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু বলেন, ঘর দেয়ার নামে তিনি কারো কাছে থেকে অর্থ গ্রহন করেননি। তবে সান্দিড়া গ্রামের মেম্বার কিছু টাকা নিয়েছিলেন, তিনি মারা যাওয়ার পর ভুক্তভোগিরা তার কাছে অভিযোগ করলে তিনি সাধ্যমতো কিছু টাকা দিয়েছিলেন। তিনি আরো জানান, ‘এখন আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যাতে আগামী নির্বাচনে আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট হয়।’ তাছাড়া যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি।


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_