শনিবার-১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১১:১১

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

করোনামুক্ত হলেন ক্যাটরিনা মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা লকডাউন বাড়তে পারে আরও ৭ দিন ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে বিকল্প পাঠদানে জোর: শিক্ষাসচিব কবরীর মৃত্যুতে শোকাহত জয়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি উদ্ধার  লালপুরে আগুনে বসতবাড়ি পুুড়ে ছাই

ছাতকে মামুনুল হকের অনুসারীদের বিক্ষোভ, থানায় হামলা-ভাংচুর, আটক ৯

প্রকাশ: রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১ , ১২:৫৪ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

 

ছাতক প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহা সচিব মাওলানা মামুনুল হককে স্ব-স্ত্রীক আটকের ঘটনায় ছাতকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মামুনুল হকের অনুসারীরা। একপর্যায়ে উত্তেজিত সমর্থকরা লাঠি-সোটা নিয়ে থানায় হামলা চালায়। এসময় গোটা শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহুর্তের মধ্যে শহরের সকল দোকানপাঠ ও বিপনীবিতান বন্ধ হয়ে যায়। শহরে আসা লোকজন দিক-বেদিক ছুটাছটি করতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। শনিবার রাত প্রায় ৯টায় ছাতক শহরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় ৫পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ব্যক্তি আহত হয়। থানার গোলঘরসহ আরো ৪টি দোকানকোটা ভাংচুর করে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ দেড়শতাধিক রাবার বুলেট ও টিআর সেল নিক্ষপ করে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৯জনকে আটক করেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান, সিনিয়র এএসপি ছাতক সার্কেল বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শহরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেফাজতের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা মামুনুল হক রিসোর্টে আটকের খবরে তার অনসারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড-খন্ড বিক্ষোভ মিছিল শহরের আসতে থাকে। লাঠি-সোঠা নিয়ে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার সময় মিছিলকারীরা ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে কর্মরত পুলিশ পয়েন্ট সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। এসময় মিছিলকারীরা ওই দোকানে আশ্রয় নেয়া পুলিশের উপর হামলার উদ্দেশ্যে জমির উদ্দিনের আল আমিন ষ্টোর, বিশ্বজিত ঘোষের রাধারানী এন্টারপ্রাইজ, রতনমনি ঘোষের সুশিলা ষ্টোর ও রাজন ঘোষের এনআর ফার্মায় হামলা ও ভাংচুর চালায়। পরে বিক্ষোভকারীরা মিছিল সহকারে থানায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা থানা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিআরসেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ সূত্র মতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে তারা ১০৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২৬ রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভকারিরা থানার গোলঘর ভাংচুরসহ পুলিশ সদস্য রাকিব, দিলসাদ, রবিউল আলম, সাইদুল ও সুবল দাস, পথচারী জুয়েল, সুজন মিয়া, দোকান কর্মচারী আলী আহমদসহ অন্তত ১০ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের ছাতক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জয়নাল আবেদীন (২৮), রাজন আহমদ (২৬), একরাম হোসেন (২২), সামছুদ্দিন (২৩), সুমন আহমদ (২০), আলী হোসেন (২৮), মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম (১৯), জনি আহমদ (১৯) ও আবুল হোসেন (৩০)কে আটক করে পুলিশ।
এব্যাপারে হেফাজত ইসলামের উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হান্নান জানান, এ হামলার ঘটনার সাথে হেফাজতের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন ৯জন আটকের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিনা উসকানীতে আকস্মিক পুলিশের উপর হামলা করেছে মামুনুল হকের সমর্থকরা। ঘটনার সময় থানার অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা গোবিন্দগঞ্জে খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রিয় আমির মাওলানা শফিক উদ্দিনের যানাজায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।


সারাদেশ,সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_