শনিবার-১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১০:৫৮

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

করোনামুক্ত হলেন ক্যাটরিনা মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা লকডাউন বাড়তে পারে আরও ৭ দিন ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুললে বিকল্প পাঠদানে জোর: শিক্ষাসচিব কবরীর মৃত্যুতে শোকাহত জয়া শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ : কোটি টাকা মুল্যের সরকারি জমি উদ্ধার  লালপুরে আগুনে বসতবাড়ি পুুড়ে ছাই

তিন জেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নিহত ১৩

প্রকাশ: সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ , ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :
মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: চৈত্রের শেষভাগে এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। গাছ ভেঙে পড়ে তিন জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। রবিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানা এ ঝড়ে গাইবান্ধায় ১০ জন, ফরিদপুরে দুজন এবং কুষ্টিয়ায় একজন নিহত হয়।

গাইবান্ধা : কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য বসতবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কবলে ঘর ও গাছের চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে শিশু-নারীসহ ১০ জনের। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ। রবিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পাঠানো মৃত্যুর প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- পলাশবাড়ি উপজেলার গোফফার রহমান (৪২), জাহানারা বেগম (৪৮) ও মমতা বেগম (৫৫), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ময়না বেগম (৪০), ফুলছড়ি উপজেলার শিমুলি আকতার (২৭) ও হাফেজ উদ্দিন (৪৪), সাদুল্লাপুর উপজেলার আবদুস ছালাম সর্দার (৪৫), সদর উপজেলার শিশু মনির মিয়া (৫) ও আরজিনা (২৮) এবং বাদিয়াখালির শেফালি বেগম (৬৫)। এর মধ্যে গাছের চাপা পড়ে মৃত্যু হয় শিশু মনির, গোফফার, জাহানারা ও ময়না বেগমের। ঘরের নিচে চাপা পড়ে শিমুলি আকতার ও অটোরিকশা উল্টে মৃত্যু হয় হারিস মিয়ার। এ ছাড়া দোকান থেকে বাড়ি ফিরেই মৃত্যু হয়েছে আবদুস ছালামের। আরজিনা ও হাফেজ উদ্দিন আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা গেছেন। এদিকে, প্রচণ্ড গতির দমকা ঝড়ে সদর, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভূতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়েই। দীর্ঘসময় অন্ধকার অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, হঠাৎ দমকা বাতাস ও গাছপালা ভেঙে জেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে বিকেল থেকেই জেলা ও উপজেলা শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভেঙে পড়া খুঁটিসহ তার মেরামতের কাজ চলমান থাকলেও ভোর পর্যন্ত জেলায় মিলবে না বিদ্যুৎ সংযোগ। বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক জানান, ঝড়ো বাতাসে বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। শহরের চেয়ে গ্রামে ক্ষতি বেশি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খুঁটি ও তারের ওপড় ভেঙে পড়েছে গাছপালা-ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়া গাছপালা সরানোসহ বিদ্যুতের খুঁটি মেরামতে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চললেও রাতের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব নয়। এ কারণে রাতভর জেলাজুড়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় জেলা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মিলন কুমার কুণ্ডু জানান, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। প্রায় ৩২ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত ও চেকিং করতে ইতোমধ্যে বিভিন্নস্থানে কাজ করছে কয়েকটি টিম। তবে রাতেই পুরো লাইন চেক করা সম্ভব হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সোমবার দুপুরের আগে সব লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, ঝড়ো হাওয়ায় জেলার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ নিরূপণে সাত উপজেলাতে কাজ চলছে। ঝড়ে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। ভেঙে পড়া গাছ অপসারণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক রাখতে জেলাজুড়েই বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফরিদপুর : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রবিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের জাহিদের স্ত্রী হালিমা (২৬) তার এক বছর চার মাস বয়সী শিশু কন্যা আফছানাকে নিয়ে ভ্যানে করে তার বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে টাবনী ঘোষবাড়ির সামনে পৌঁছলে রাস্তার পাশের সজনে গাছের একটি বড় ডাল তাদের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই হালিমার মৃত্যু ঘটে। মারাত্মক আহত অবস্থায় শিশুটিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাফেজা খানম মিলি বলেন, শিশুটিকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে আসা টিনের আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার মহিষাডোরার আল্লারদর্গা এলাকার শশীধরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রয়াত রবিউল ইসলাম (৪০) স্থানীয় বাসিন্দা সাদ মন্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন, রোববার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এদিকে, দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদত হোসেন বলেন, ঝড়ে টিন উড়ে একজন নিহত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে বিস্তারিত তথ্য জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ রওনা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে রবিউল ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া হাটের আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ঝড়ের কবলে পড়ে আল্লারদর্গা এলাকায় দফাদার ফিলিং স্টেশনের কাছে এক দোকানে আশ্রয় নেন। এ সময় ঝড়ের তোড়ে পাশের দোকানের চালা থেকে টিন উড়ে রবিউলের ঘাড়ের আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রবিউলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_