বৃহস্পতিবার-২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-সন্ধ্যা ৬:৩৮

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ ২৪ ঘণ্টায় ২৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪৪ ফুলবাড়ীতে বেড়েই চলছে জ্বর- সর্দির প্রকোপ  পাঁচবিবির ১৭ জন অসহায় নারীরা পেল জেলা পরিষদের সেলাই মেশিন পাঁচবিবিতে ভাতাভূগীদের নিয়ে হেলথ্ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীাগের সভাপতি মোঃ হায়দার আলী শাহ্ মৃত্যুতে থানা প্রেসকাবের শোক। ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতির মৃত্যুতে জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের শোক। ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সভাপতির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ॥

শেবাচিমের করোনা ইউনিটের বজর্য ভাঙারির দোকানে

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১ , ২:২৭ অপরাহ্ণ , বিভাগ :
মনির হোসেন, বরিশাল \ দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বজর্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পরেছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাস্ক, গ্লোভস, সিরিঞ্জসহ প্লাস্টিকের নানান বজর্য হাতবদল হয়ে যাচ্ছে ভাঙারি দোকানে। যা আবার পরিবহন করে পাঠানো হচ্ছে রাজধানীসহ বিভিন্নস্থানের ক্রেতার কাছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
বজর্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একে অপরকে দুষছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি কপোর্রেশন। সিটি মেয়র বলছে, বজর্য অপসারণের দায়িত্ব হাসপাতালের। আর হাসপাতাল বলছে, নগর কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও সেবা দানকারী সংস্থার মধ্যে রশি টানাটানির মধ্যে নগরীতে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো বরিশাল বিভাগের চেয়ে সিটি কপোর্রেশন এলাকায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রায় চারগুণ। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের বর্জ‌্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সমাধান না হলে সংক্রমণ আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের করোনা ইউনিট ভবনের সামনে কয়েক টন বজর্য স্তুপ করে রাখা। এরমধ্যে রয়েছে করোনা রোগীদের ব্যবহার করা গ্লোভস, মাস্ক, বিছানার চাদর, সিরিঞ্জ, পানির বোতল, রোগীর পোশাকসহ নানান প্লাস্টিক সামগ্রী। হাসপাতালের স্টাফ ক্যান্টিনের পেছনেও রয়েছে এমন বজর্য। ষাটোর্ধ্ব রহিম মিয়া করোনা ইউনিটের সামনের বজর্য সংগ্রহ করছেন। তার সাথে নেই কোনো সুরক্ষা সামগ্রী, মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই তার।
করোনা ইউনিটের এসব বজর্য তিনি কেন সংগ্রহ করছেন জানতে চাইলে রহিম মিয়া বলেন, এহান দিয়া প্লাস্টিকের বোতল, কাগজ আরও অনেক কিছু লইয়া ভাঙারির দোকানে বেচি। যে ভাঙারির দোকানে তিনি এসব বজর্য বিক্রি করেন, কথা হয় সে দোকানের এক কর্মচারীর সাথে। তারা বলেন, গ্লোভস ও প্লাস্টিক-জাতীয় জিনিসগুলো কিনে নিয়ে তা পূর্ণরায় ঢাকার কাস্টমারদের কাছে বিক্রি করা হয়। ক্রেতা বা প্রতিষ্ঠানের নাম কী এমন প্রশ্নে তারা বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। পাওয়া যায়নি দোকান মালিককেও।
অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হাসপাতালের বজর্য সংগ্রহ করে সিটি কপোর্রেশন। কিন্তু গতবছর হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করার পর থেকে সিটি কপোর্রেশন বিনা ঘোষণায় বজর্য সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক বাকির হোসেন জানান, হঠাৎ কেন বজর্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়া হলো, কেনই বা চালু করছে না, তা একাধিকবার জানতে চাইলেও সিটি কপোর্রেশনের কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। তারা শুধু জানিয়েছে, হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বজর্য সংগ্রহ ও ধ্বংস করতে হবে। এরপর থেকেই বজর্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিপাকে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সদ্যযোগদান করা হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি কপোর্রেশনের এসব বজর্য অপসারণ করার কথা। কিন্তু তারা তা করছে না। বর্তমানে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আমরা মাটি খুঁড়ে বজর্যগুলো চাঁপা দেয়ার চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, পযার্প্ত জনবল না থাকায় ও করোনা ইউনিটে এখন রোগী বাড়ায় টনের পর টন বজর্য সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যালের আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৌরভ সুতার বলেন, এমনিতেই হাসপাতালের বজর্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তা যদি হয় করোনা আক্রান্ত রোগীর, সেগুলোতো আরও মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব বজর্য পুড়িয়ে বা মাটিচাঁপা না দিলে যে কেউ সহজেই সংক্রমিত হতে পারে।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বজর্য অপসারণের দায়িত্ব মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের। মেডিক্যালের বজর্য মেডিক্যালেই ধ্বংস করতে হবে। ওই বজর্য নিয়ে বজের্যর গাড়িগুলো সারা নগরীতে ঘুরে নগরবাসীকে হুমকির মধ্যে ফেলবে আমি তা হতে দেবোনা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিটি কপোর্রেশনের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টার কথা জানিয়ে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডাঃ মনোয়ার হো‌সেন ব‌লেন, শুধু শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যালই নয়; এখন সদর জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের বর্জ‌্যও নিচ্ছে না সি‌টি ক‌পোর্‌রেশন। নিয়মানুযায়ী হাসপাতা‌লের বর্জ‌্য অপসারণ কর‌বে সি‌টি ক‌পোর্‌রেশন। কিন্তু সেটা করা হ‌চ্ছেনা। তিনি বলেন, গত বৃহস্প‌তিবার এক‌টি অনলাইন বৈঠকে এ বিষয়টি তোলা হয়। সেখানে ছিলেন বিভাগীয় ক‌মিশনার, সিটি মেয়র ও বিভাগীয় স্বাস্থ‌্য প‌রিচালক। ওই বৈঠকেও সিটি মেয়র সরাসরি ব‌লেছেন, তিনি বর্জ‌্য নি‌তে পার‌বেন না। বর্জ‌্য নি‌লে তার কর্মীরা আক্রান্ত হ‌বে। এখন ক‌পোর্‌রেশন বর্জ‌্য না নি‌লে কী করার আছে। সমস‌্যা সমাধা‌নে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_