শুক্রবার-৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-সকাল ৬:১৮

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিল ফেসবুক ১৮ বছর বয়সীদের টিকার নিবন্ধন ৮ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ: রাজধানীতে ৫৬৮ জন গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভাই বোনের মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে রাজাপুর গ্রাম থেকে গুইসাপ উদ্ধার, পরে বনে অবমুক্ত ডোমারের চিলাহাটি রেলষ্টেশন ট্রাইলে ভারতীয় ২টি পাওয়ার ইঞ্জিন। সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভীড়

আদমদীঘিতে শ্রমিক সংকট, পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

প্রকাশ: রবিবার, ২ মে, ২০২১ , ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি(বগুড়া)প্রতিনিধি ঃ
শস্য ভা-ার খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ইরি-বোরো ধানের তে সোনালী রঙ্গের সমারোহে ভরে উঠেছে। ফসলের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। আশাতিত ফলনের প্রত্যাশায় চাষীদের মুখে ফুটে উঠেছে খুশির ঝিলিক। তবে লক ডাউনে গনপরিবহন বন্ধ থকায় ডোমার, চিলাহাটি, সোনাতলা, ভেরপাড়া বিভন্ন এলাকা থেকে যে শ্রমিক আসতো তারা না আসতে পারায় শেষ মুহূর্তে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে এলাকার কৃষকরা। তারা বলছেন, পাওনার চেয়ে বেশি দামেও মিলছে না শ্রমিক।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষে ল্য মাত্রার চেয়ে অধিক ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইরি-বোরো েেতর ধান কাটা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এলাকাবাসী বলছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের লোক এসে কাজ করত। এর ফলে শ্রমিক সংকট হতো না। কিন্তু এবার এই চিত্র একে বারেই আলাদা। বিশেষ করে লক ডাউনে যানবাহন চলাচল না করায় শ্রমিকরা আসতে পারছেনা।
আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের গোরগ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন জানান, এবার তিনি ৫ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপন্ন হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ মণ। আর বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান মোটাজাতের বিক্রি হচ্ছে ৮০০থেকে ৯০০ টাকা দরে। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে পানি বাবদ-১৫০০ টাকা, সার ২ হাজার টাকা, কিটনাশক ৫০০ টাকা, ধান কাটা ৩ হাজার টাকা, ধান মাড়ায় করা ৪০০ টাকা মোট ৭ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হচ্ছে। আর বাজারে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি মন ধান ৮০০ টাকা দরে। এতে উৎপাদনের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ার বিপাকে পড়েছে চাষিরা।
উপজেলার পৌঁওতা গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, এবার আট বিঘা জমিতে ইরি-বোরো চাষ করেছি। শ্রমিক না পাওয়ার কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু জানান, স্থানীয় যারা মাঠে শ্রমিকের কাজ করত তারা অনেকেই এখন চার্জার ভ্যান ক্রয় করে ভাড়ায় ব্যবহার করছে। এর ফলে এই এলাকায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র অধিকারি বলেন, এবার ল্য মাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে কৃষকরা ইরি-বোরো রোপন করেছে। তিনি আরোও প্রত্যাশা করেন, এবার আদমদীঘি উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের উৎপাদন ল্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। শ্রমিক সংকট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা স্থানীয় চাহিদার ওপর নিভর করে। আর এক সঙ্গে ধান পাকার কারণে কৃষকদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে ধানের দাম আর একটু বেশি হলে কৃষকের ভালো হতো।


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_