শুক্রবার-২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ২:২৬

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনকে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ ২৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইউজিসির সতর্কতা সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু দাখিল পরীক্ষা গাইবান্ধা জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত বাতিল হচ্ছে ২১০ পত্রিকার ডিক্লারেশন

দেশের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প

ফুলবাড়ীতে ২৫২ গৃহহীন পরিবারের ঠিকানা “শেখ হাসিনা ভিলেজ”

প্রকাশ: শনিবার, ২৯ মে, ২০২১ , ২:৩৮ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

সোহেল সানী : দেশের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বালুপাড়ায়। এখানে একসাথে ২৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিত্যক্তা, অতিশয় বৃদ্ধ, বিধবা, ভিক্ষুক, দুস্থ পরিবারের জন্য নান্দনিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা ভিলেজ’। এখানকার বাসিন্দারা এর নাম দিয়েছে “শেখ হাসিনা গ্রাম”। ফলে এ আবাসন প্রকল্প হয়ে উঠেছে একটি আদর্শ গ্রাম। ভূমি ও গৃহহীনদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির জন্য প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানির ব্যবস্থার জন্য বসানো হয়েছে অগভীর নলকূপ। উম্মুক্ত খেলার মাঠ, বাচ্চাদের ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল, মসজিদ, মন্দির ও কাচা বাজার। পশ্চিমে কবরস্থান এবং পূর্বে শ্বশান ঘাট। পুরো শেখ হাসিনা ভিলেজ ঘিরে থাকবে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলের আওতায়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দেয়া হবে গ্রাম পুলিশের স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর অভিনব ও চমকপ্রদ একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ইতিমধ্যে খয়েরবাড়ী বালুপাড়ায় সরকারি খাস জমিতে ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি পরিবারের জন্য দুই শতক জমি। তার ওপর ২টি রঙ্গিন টিনসহ ইটের ঘর, ২টি প্লেন্ট শীট জানালা, দরজা ও পাকা মেঝে। রয়েছে বারান্দা, রান্না ঘর ও আলাদা স্থানে টয়লেটের ব্যবস্থা। আর এসব প্রতি বাসগৃহের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ‘ক’ শ্রেনির ভূমিহীনদের মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলীয় দলিল, নামজারী খতিয়ান ও ডিসিআর প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বালুপাড়ায় “জয় বাংলা ভিলেজ” নামে ২৫২টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারের জন্য ঘর। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘরগুলো উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ভূমি ও গৃহহীনদের দেওয়া হয়। আর এসব আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা নির্বাচন করা হয় জনপ্রতিনিধি, ভূমি ও প্রকল্প অফিসের সমন্বয়ে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কথা হয়, খয়েরবাড়ী বালুপাড়া “শেখ হাসিনা ভিলেজ” এ সুবিধাভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী মা জোবেদা বেওয়া (৯০) ও ছেলে বাকপ্রতিবন্ধি অহিদুল ইসলামের (৫৬) সাথে। মা জোবেদা বলেন, মুই অচল চলিবার পারো না বাহ, মোর ঘর তৈরি করার মুরদ আছিলো না। ঘর পায়য়া মুই খুব খুশি। জীবনেও মুই পাকা ঘরোত থাকিবার পারিম কখনো ভাবো নাই।
“শেখ হাসিনা গ্রাম” এর দফাদার গ্রাম পুলিশ লুৎফর রহমান বলেন, রাবেয়া বেগম মা-ছেলের রানা-বান্না তাদের গোসলটা করেন দেন। শুধু কি তাই তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। সবার সহযোগিতায় কাচা-বাজার করে দেয়া হয়। এমন লোকই এই আবাসনে জায়গা হয়েছে।
সেলিনা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতাম, থাকতাম ঘর ভাড়া। খুব কষ্টে দিন কাটত। এখন আমার নিজের বাড়ি হয়েছে।
ইউএনও অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০-২১ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে ভূমি ও গৃহহীনদের মর্যাদার সাথে বসবাসের লক্ষে সরকারের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।
উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরে ১৩৬টি, দৌলতপুর ইউনিয়নে ১০৬টি, বেতদিঘী ইউনিয়নে ১৩৪টি, এলুয়াড়ীতে ১৪০টি, কাজিহাল ইউনিয়নে ১৩১টি ও শিবনগর ইউনিয়নে ৩৫টি বাড়ি। উপজেলায় ৭৬৯ ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজ উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে গৃহ নির্মাণকাজ চলছে। বালুপাড়ায় একসাথে ২৪৯টি বাড়ি নির্মাণ করায় দেশের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প এটি। বাসিন্দারা এ গ্রামের নাম দিয়েছে ‘শেখ হাসিনা গ্রাম’। তিনি বলেন, শুধু ফুলবাড়ীতে নয়, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প বালুপাড়ার “জয়বাংলা ভিলেজ”। একসাথে এতো পরিবারের বসবাস দেশের আর কোনো প্রকল্পে নেই। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে প্রথম ধাপে উপজেলায় প্রতিটি বাড়ীর জন্য ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যায়ে ৭টি ইউনিয়নে ৭৮২টি বাড়ী নির্মান করা হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি ঘর ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০টি ও পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যতিত সমতলের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টির জন্য ২০টি বাড়ী নির্মান করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের নির্মান কাজ চলছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, লাগাতার ৭ বারের স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী অ্যাড, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির একান্ত প্রচেষ্ঠায় এ উপজেলায় সবচেয়ে গৃহহীনদের বেশি বাড়ী বরাদ্ধ হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়মিত প্রকল্পের বাড়ী পরিদর্শক করে থাকেন।


রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_