সোমবার-২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৯:৫২

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ পার্বতীপুরে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্ট শুরু সুজানগরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম হায়দার আলী শাহ্ এর মৃতুতে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে গো- খাদ্য বিতরণ  বাবা হারালেন শ্রীলেখা মিত্র অনুশীলনে ফিরলেন মেসি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন মঈন আলি

লালপুরে সুর্যমুখীতে সম্ভাবনার হাতছানী

প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১ , ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মো. আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর প্রতিনিধি
এই প্রথম সরকারের দেওয়া প্রণোদনার বীজে বানিজ্যিক ভাবে সূর্যমুখী চাষ করে এখন লাভের স্বপ্ন দেখছেন নাটোরের লালপুরের চাষিরা। ইতিমধ্যে সুর্যমুখীর ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ শেষ হয়েছে।
উপজেলার প্রায় মাঠে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের। মাঠে সবুজের বুক চিরে হলুদ সুর্যমুখীর এরকম হাসি দেখে মন জুড়িয়ে যায়। জমিতে একেকটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় জমাতে দেখা গেছে অনেকেই।
‘অনুকুল আবহাওয়া ও তেমন রোগবালাই না থাকায় (৯০-১০০ দিনে) কম সময়ে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা খরচ করে ১২-১৪ হাজার টাকায় উৎপাদিত সুুর্যমুখীর বিজ বিক্রয় করে সুুর্যমুখী চাষে সম্ভাবনার হাতছানী দেখছেন এই এলাকার চাষীরা।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে,‘এই উপজেলায় আগে কখনো বানিজ্যিক ভাবে সুুর্যমুখীর চাষ হয়নি।এই প্রথম উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা প্রকল্পের আওতায় ২৫ হেক্টর জমিতে সুর্যমুুখীর চাষ হয়েছে। এই সকল জমি থেকে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন সুর্যমুখীর বীজ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ’
কথা হয় উজেলার মাঝ গ্রাম এলাকার চাষি আমজাদ হোসেনর সঙ্গে তিনি জানান, ‘অন্য ফসলের মতো সুর্যমুখীর তেমন রোগবালাই নেই।কম সময়ে এই ফসল ঘরে তোলা যায়।’ লাভ কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘আগে এই এলাকায় এই ফসলের চাষ হয়নি। তিনিই প্রথম সুর্যমুখীর চাষ করেছেন। প্রতি মন সুর্যমুখীর বিজ বর্তমানে বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ২হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায়। বিঘা প্রতি ৫মন সুর্যমুখীর বিজ উৎপাদন সম্ভব। এক বিঘা জমি থেকে উৎপাদিত সুর্যমুখীর বীজ বর্তমান বাজারে বিক্রয় হয় ১২-১৪ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে আয় হয় ৪-৫ হাজার টাকা।’
কথা হয় হোসেন পুর গ্রামের সুর্যমুখী চাষি বাবুুল আক্তারের সঙ্গে তিনি বলেন,‘এই প্রথম তিনি কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তার এক বিঘা জমিতে সুর্যমুখীর চাষ করেছেন।নিয়েমিত পরিচর্যা করায় সুর্যমুখীর ফলনও ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন তার সুর্যমুখীর বাম্পার ফলন হবে।’
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান,‘কৃষি প্রণোদনার আওতায় এই প্রথম লালপুরে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করা হয়েছে।সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ২০০জন চাষিকে বিনা মূল্যে সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া হওয়ায় সুুর্যমুখীর চাষও ভালো হয়েছে। রোগবালাই ও খরচ অনেক কম হয়ায় লাভজনক ফসল হিসেবে ইতিমধ্যে সুর্যমুখী চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়।এ ছাড়া সূর্যমুখী বীজের তেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।তেলের চাহিদা কমিয়ে আনতেই চাষীদের সুর্যমুখী চাষে আগ্রহী করা হচ্ছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে ১টি প্রদর্শনী খেত তৈরি করা হয়েছে। আগামী দিনে এই উপজেলায় সুর্যমুখীর চাষ অনেক বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।’


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_