মঙ্গলবার-২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১১:১৯

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু জিম্বাবুয়ে সফরের আগে বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার না হলে ‘হরতাল’ করোনার টিকাকে বিশ্বব্যাপী সাধারণ পণ্য ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিবগঞ্জে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে পন্ড হলো জুয়ার আসর  শেরপুরে আনসার ভিডিপির বৃক্ষরোপন উদ্বোধন এসএসসি-এইচএসসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই: শিক্ষামন্ত্রী

’হামার ধানেরও দাম নাই,হামারো দাম নাই’ আদমদীঘিতে ধানের দরপতন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ , ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ সোনার ফসল ঘরে আসবে দেখে,আশায় বুক বেধে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিল কৃষক মোবারক । ধান বিক্রি করে সেই সমিতির টাকা শোধ করে আর কিছু টাকা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোষাক কেনার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু ধানের দাম না পেয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি। ঈদের পোষাকও কেমন করে কিনবে জানেনা সে।
মোবারক বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের বাসিন্দা। কৃষক মোরারক জানান, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান অবাদ করেছিল সে। আবাদও খুব ভালো হয়েছিল তার। ঈদুল ফিতরের আগে ঘরে ধান আসতে দেখে খুব খুশি হয়েছিল সে ও তার পরিবার। কিন্তু ধানের দাম পড়ে যাওয়াতে নিরাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। এই ধানের উপর চলে তার ৫ সদস্যের পরিবার। এখন স্ত্রীর জন্য একটি শাড়ী কিনতে বিক্রি করতে হয়েছে একমন ধান। ধান আবাদ করে এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে তার।
কৃষক সোহেল রানা বলেন, ’হ্যামার ধানের দাম নাই,হামাকেও দাম নাই। হামরা তো হরতাল দিবার পারি না। খালি ভোটের সময় হলে নেতারা হামাকোক বুকে চাপা ধরে, এখন হামাকে কথা কেউ ভাবিচ্ছে না। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা একটু লেখেন, হামরা তো দুঃখে শেষ হয়া গেনু। হ্যামাকে ঈদও হবে না। প্রধানমন্ত্রী যদি এখন ধানের দামের বিষয় বিবেচনা করেন।’ এসব কথা বলেন আর চোখ মোছেন কৃষক সোহেল রানা।
কৃষক আবজাল জানান, এই উপজেলায় ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে। এভাবে প্রতি বছর ধানের দরপতনে কৃষি আবাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলবে অনেক কৃষক। তাই সরকার যদি এখন প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ভালো দামে ধান কেনে, তাহলে কিছুটা আস্থা ফিরে আসবে কৃষিকাজের প্রতি কৃষকের।
উপজেলার নশরৎপুর ইউনিয়নের আরেক কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে খরচ হয় প্রায় ৯ হাজার টাকা। সেই এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ ৭ থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা আসে। বিঘা প্রতি আমাদের ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান যাচ্ছে। এই লোকসানের টাকাটা আমরা কীভাবে পূরুণ করবো? আমরা অনেক আশা করে ছিলাম,এবারের বাম্পার ফলনের কারনে ঈদটা ভালো কাটবে, কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। তিনি বলেন, প্রতি বছর লচ দিয়া হামরা কেমনে আবাদ করমু? বাব-দাদার পেশা ছাড়বা পারি না। কিন্তু এ ভাবে হামরা তো নিঃস হয়া যামু। সরকার হামাকের ফসলের নায্য দামের কিছু করবা না ? এত লচ কী মেক্যাপ করা যায় ?
ধানের মন্দা প্রভাব পড়েছে ঈদের মার্কেটের উপর। উপজেলার বিপনি-বিতান গুলিতে তেমন ক্রেতা নাই।
উপজেলার প্রানকেন্দ্র সান্তাহার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন জানান, ধান মাড়াই শুরু হলে বেচা বিক্রি বেড়ে যায় অনান্য বার। কিন্তু এবারে আশানুরুপ ক্রেতা নেই। কৃষকদের মতো আমরাও কিছুটা হতাশ। এই ঈদের ব্যবসার মুনাফা দিয়ে আমাদের আগামী ছয় মাস চলতে হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৬ ইউনিয়ন ও ১ পৌর এলাকা মিলে মোট ১৩ হাজার ৭’শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের ল্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে গত বছর ইরি-বোরোর বাম্পার ফলন না হলেও এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধান মোটাজাতের বিক্রি হচ্ছে ৮০০থেকে ৯০০ টাকা দরে।সরকার নির্ধারিত বাজার মূল্যে ধান সংগ্রহ শুরু করলে বাজারে ধানের মূল্য বাড়বে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_