সোমবার-২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১১:০৮

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ পার্বতীপুরে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্ট শুরু সুজানগরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম হায়দার আলী শাহ্ এর মৃতুতে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে গো- খাদ্য বিতরণ  বাবা হারালেন শ্রীলেখা মিত্র অনুশীলনে ফিরলেন মেসি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন মঈন আলি

আদমদীঘিতে নারী শ্রমিকেরা পুরুষের সমান কাজ করেও মজুরী পান অর্ধেক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১ , ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
১০ জুন ভরদুপুর। জ্যৈষ্ঠ মাসের তপ্ত রোদে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার একটি ইঁটভাটায় মাটি কাটার কাজ করছিলেন রোকেয়া বেগম (৩৭)। ট্রাকে করে ভাটায় আনা মাটি ডালিতে ভরে ভাটা পর্যন্ত নিয়ে যান। তপ্ত রোদে সকাল সাতটা থেকে বিকেল পর্যন্ত এ কাজ করেন রোকেয়া। ১০ ঘন্টার এই কাজ শেষে মজুরি মেলে ১৩০ টাকা।
রোকেয়া বেগমের সঙ্গে ওই ভাটায় মাটি কাটার কাজ করেন সামসুল আলম (৪২)। একই কাজ করে তাঁর মজুরি ৪০০ টাকা।
দীর্ঘসময় কাজ করেও কম মজুরি ও বৈষম্যের এমন চিত্র বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার বেশিরভাগ ইটভাটায়। পুরুষের সঙ্গে সমান কাজ করেও নারীদের মজুরি প্রায় তিন গুন কম। এ নিয়ে তাঁরা কখনো আপত্তি করেন না বলে দাবি ভাটার মালিকদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এই উপজেলায় নারী শ্রমিকদের মজুরির এ বৈষম্যের চিত্র শুধু ইটভাটাতে নয়, কৃষি, খেতখামার, বাড়ি নির্মাণে, কলখারখানাতেও। বছরের পর বছর নারীরা এই বৈষম্যের শিকার।
আদমদীঘি উপজেলার শাঁওইল বাজার ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকশত তাঁত কারখানা। ঝুট কাপড় থেকে রং আলাদাসহ কম্বল তৈরির কাজে যুক্ত কয়েক শ নারী ও পুরুষ শ্রমিক। শাঁওইলের সুতার আড়ত কিংবা তাঁত কারখানায় একজন পুরুষ শ্রমিক কাজ করে মজুরি পান ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। আর নারী শ্রমিকের মজুরি গড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। শাঁওইল বাজারের একটি সুতার আড়তে কাজ করেন নারী শ্রমিক খোরসেদা বেগম (৪৬)। তাঁর বাড়ি সান্তাহারের কলসা রথবাড়ি মহল্লায়। প্রতিদিন ভোরে এখানে কাজ করতে আসেন তিনি। সারাদিন কাজ করে মজুরি পান তিনি ১৯০ টাকা। যাতায়াত বাবদ তাঁর ২৫ টাকা খরচ হয়।
খোরসেদা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী সুজন আলী পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। বাড়িতে দুটি মেয়ে আছে। স্বামীর একার উপার্জনে সংসার ঠিকমত চলে না। ১০ বছর আগে ৪০ টাকা মজুরিতে এখানে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ১৯০ টাকা পেলে খাওয়া, যাতায়াত বাদ দিয়ে দিনে শ খানেক টাকা হাতে থাকে।
খাদ্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত আদমদীঘিতে রয়েছে ৭০/৮০টি চালকল। এসব চালকলে কাজ করেন কয়েক হাজার শ্রমিক। কাজ ভেদে চাতাল বা চালকলেও পুরুষ শ্রমিকদের মজুরির তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পায়। বাড়ি নির্মাণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পায়।
এ বিষয়ে এ্যাডঃ ও নারী নেত্রী মিনা বেগম বলেন, নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের যত দিন দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পরিবর্তন না হবে, ততদিন এভাবে শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হতেই থাকবে। একই কর্মঘন্টা কাজ করে পুরুষেরা যেখানে ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মজুরী পান, সেখানে একই পরিশ্রম দিয়ে নারীরা কম পাবে কেন? বৈষম্য ঘোচাতে নারীদের প্রতিবাদী হতে হবে, সমান মজুরী আদায়ে সোচ্চার হতে হবে।

 


রংপুর,রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_