বৃহস্পতিবার-২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৯:২৯

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

ডোমারে ৮ জন করোনায় আক্রান্ত লালমনিরহাট মৎস্য বিভাগে ৩.৭৩৯ হেক্টর  পুকুর -জলাশয় পুনঃখনন ও ১৯ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা  আশাশুনিতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত বরিশালে ১৫ টাকার ভ্যান ভাড়া ঝগড়া মিটাতে গিয়ে জীবন গেল শালিস দারের! আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ হেরেই চলেছে মোহামেডান যেকোনো সময় ‘শাটডাউন’ ঘোষণা : প্রতিমন্ত্রী

চুরি-ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন সেট সবসময় উদ্ধার হয় না কেন?

প্রকাশ: বুধবার, ২ জুন, ২০২১ , ২:৫৭ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: চুরি, ছিনতাই কিংবা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজে পেতে প্রতিদিনই মানুষ পুলিশের দ্বারস্থ হয়। নিজের মোবাইল ফোন সেট ফিরে পেতে অনেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল উদ্ধার করার সংখ্যা খুবই কম।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি যদি অন্য কেউ ব্যবহার করে তাহলে সহজেই সেটি উদ্ধার করা সম্ভব। তবে সবসময় উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

পুলিশ কীভাবে উদ্ধার করে?

গাজীপুর জেলার টঙ্গি পূর্ব থানার এসআই মোঃ রাজীব হোসেন গত এক বছরে ১০০’র বেশি চুরি, ছিনতাই কিংবা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করেছেন।

তার বর্ণনা অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ফিরে পেতে ভুক্তভোগীরা যখন থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন, তখন সেখানে মোবাইল ফোনের নম্বর, কোন কোম্পানির সেট এবং সেটের আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করতে হয়।

অবশ্য কেউ যদি আইএমইআই নম্বর উল্লেখ করতে না পারে তাতেও কোন সমস্যা নেই। ফোন নম্বর দিয়েও সেট উদ্ধার করা সম্ভব।

থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করার পর সেটি পাঠিয়ে দেয়া হয় জেলার এসপি অফিস কিংবা মহানগরের ক্ষেত্রে সেটি পাঠিয়ে দেয়া হয় পুলিশের ডিসি অফিসে।

সেখান থেকে বিষয়টি পাঠানো হয় পুলিশ সদরদপ্তরে। এরপর পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে পাঠানো হয় বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য।

মোবাইল কোম্পানি তথ্য দেবার পর সেটি পুলিশ সদরদপ্তর হয়ে আবার থানায় ফিরে আসে।

চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি দেশের কোন এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি চিহ্নিত করার মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি বেশ সময় সাপেক্ষ। সেজন্য অনেক সময় খুঁজে পেতে দেরি হয়।

“চুরি হওয়া একটি মোবাইল ফোন পাঁচ থেকে ছয়বার হাতবদল হয়। একটি জায়গায় গিয়ে স্থির হতে ১৫-২০ দিন সময় লেগে যায়।”

সর্বশেষ যে ব্যক্তির কাছে ফোনটি যায় তিনি হয়তো সরল বিশ্বাসে কারো কাছ থেকে ফোনটি কিনে থাকতে পারেন।

সে ব্যক্তি যখন ফোন ব্যবহার করা শুরু করে তখন পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে পারে।

“এটা খুঁজে বের করতে একটু বেগ পেতে হয়, একটু কষ্ট করতে হয়।”

সবসময় উদ্ধার করা কি সম্ভব?

ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এন্ড সায়েন্সেস এর ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।

যারা চুরি বা ছিনতাই করে তাদের অনেকেই জানে যে মোবাইল সেটে সিমের সংযোগ দিলেই সেটির অবস্থান চিহ্নিত করা সহজ হবে।

মি. হাসান বলেন, অনেকে সময় চোর বা ছিনতাইকারী মোবাইল ছিনতাই করার পর সেটের সিম এবং ব্যাটারি খুলে ফেলে।

তারপর সে ফোন সেট নিয়ে কোন চোরাই মার্কেটে গিয়ে নেটওয়ার্ক আইসি পরিবর্তন করে ফেলে।

ফোন সেটের নেটওয়ার্ক আইসি পরিবর্তনের মাধ্যমে সেটের আইএমইআই নম্বরও বদলে ফেলা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন মি, হাসান।

আইএমইআই নম্বর বদলে ফেললে সে ফোন সেট আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

” আইএমইআই নম্বর চেঞ্জ করলেই সেটি নতুন একটি ফোন সেট হয়। পুরনো কোন ইনফরমেশন সেখানে থাকে না”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করতে না পারলে মোবাইল সেটের প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে বিক্রি করা হয়। তখন ফোন সেট আর ট্র্যাক করা সম্ভব হয়না।

মি. হাসান বলেন, “স্যামসাং-এর ভালো একটা মোবাইল ফোনের ডিসপ্লের দাম ৩০-৪০ হাজার টাকা। ডিসপ্লেটা আলাদা করে বিক্রি করতে পারে। এছাড়া প্রসেসর এবং ব্যাটারিও আলাদাভাবে বিক্রি করতে পারে।”


তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_