বৃহস্পতিবার-২৪শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৯:২৪

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

বরিশালে ১৫ টাকার ভ্যান ভাড়া ঝগড়া মিটাতে গিয়ে জীবন গেল শালিস দারের! আরও ২৯৭৩ বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ হেরেই চলেছে মোহামেডান যেকোনো সময় ‘শাটডাউন’ ঘোষণা : প্রতিমন্ত্রী ইউরোর শেষ ষোলোতে কে কার মুখোমুখি হচ্ছে? বিএসএফের বাধায় ফুলবাড়ী – নাগেশ্বরী সড়কের ৩শ মিটার এলাকার কাজ বন্ধ ঝিনাইগাতী হাতীবান্ধা ইউনিয়নে রাস্তার সিসি ঢালাই কাজের উদ্বোধন

পার্বতীপুরে উত্তর পশ্চিম মৎস্য খামারে গলদা চিংড়ি উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১ , ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার উপকন্ঠে অবস্থিত উত্তর পশ্চিম মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। গলদা চিংড়ির উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এই গলদা চিংড়ী বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। প্রতিদিনই তরতর করে এগিয়ে চলছে গলদা চিংড়ী উৎপাদনের সাফল্য। এ খামারটি ৫০ একর জমির উপর অবস্থিত।
মুসা কালিমুল্লা খামার ব্যবস্থাপক জানান, এ অঞ্চলের মাটি ও পানি চিংড়ি চাষের উপযুক্ত নয় এমন ধারনা করা হয়েছিল। চিংড়ির জন্য অধিক খারত্বযুক্ত মাটি ও পানি বেশী উপযোগী, তাই বলে এ অঞ্চল চিংড়ি চাষের জন্য একেবারে অযোগ্য এ কথা মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষায় ভূল প্রমানিত হয়েছে। অথাৎ এ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ সম্ভব। তৎকালীন মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রী আ স ম আব্দুর রব ২০০০ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকল্প কমপ্লেক্সে গলদা হ্যাচারী উদ্বোধন এ অঞ্চলে গলদা চিংড়ি চাষের সম্ভাবনাকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুটা ছিল পরীক্ষামূলক, এতদিনে তা ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। রংপুর জেলার ৫৮ উপজেলা, কুড়িগ্রাম ও রংপুর সদরের শুঠিবাড়ী ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে। পার্বতীপুরের মত তারাও চিংড়ি চাষ করে চাষিদের মাঝে পোনা বিতরনকরছে।
২০২১ সালের জুন কর্ম পরিকল্পনায় এই খামারে ৪.৫০ লক্ষটি গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। গলদা চিংড়ির পি এল উৎপাদনের ক্ষেত্রে জীবন চক্রের শুরুতে ব্রাইন ওয়াটার বা লোনা পানির প্রয়োজন হয় । এক্ষেত্রে কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে ব্রাইন ওয়াটার বা লোনা পানি সংগ্রহ করে স্বাদু পানি বা মিঠা পানির সাথে খাপ খাওয়ায়ে পিএল উৎপাদন করা হয়। উৎপাদনের ক্ষেত্রে বরগুনার আমতলীর পায়রা নদী থেকে গলদা চিংড়ির মা মাছ ( ব্রুড় মাছ) সংগ্রহ করে আনা হয়। মা মাছ থেকে লার্ভা সংগ্রহ করে ২৮- ৩৫ দিনের মধ্যে পি এল উৎপাদন করা হয়।এছাড়াও এখানে কার্প জাতীয় রুই, কাতলা, সিলভার, বিগ হেড ,গ্রাসকাভ,কালীবাউস ,বাটা ও দেশীয় প্রজাতি সিং,মাগুর, কই, গুলসা, টেংরা ও পাবদার পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ৩ জুন মৎস্য খামার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্বতীপুর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। সবক্ষেত্রে অনিয়ম, অব্যবস্থায় খামারটি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। প্রশিক্ষন কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান, হ্যাচারী কর্মকর্তা মাহফুজুল হক, সম্প্রসারন কর্মকর্তা প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও সহকারী হ্যাচারী কর্মকর্তা আমিনুল সরকারকে সাথে নিয়ে খামার ব্যবস্থাপক মোঃ মুসা কালিমুল্লা তার সৃজনশীল মেধা ও কর্মদক্ষতায় মৃতপ্রায় খামারটিকে উৎপাদনমুখী খামারে পরিনত করতে সক্ষম হয়েছেন।

৫০ একর জমি জুড়ে পার্বতীপুর শহরের পৌর এলাকায় প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত খামারটি ১৯৬৪ স্থাপিত হলেও দীর্ঘদিন আলোর মুখ দেখেনি। আজ খামারটি দেশের একমাত্র আদর্শ খামারে পরিণত হতে চলেছে। খামারে রয়েছে মাছের পেনা উৎপাদনের জন্য ৪৬ টি পুকুর, প্রশিক্ষন কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবন।
খামার ব্যবস্থাপক বলেন, কিছু সরকারি নিয়ম পরিবর্তন করলে খামারটি দেশের মধ্যে আদর্শ খামারে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমান পূর্বের নিয়ম হলো- উৎপাদিত পোনার বিক্রয়লব্ধ রাজস্ব সরকারী তহবিলে জমা দিতে হতো। বর্তমান নিয়মে পোনা উৎপাদনের মোট ব্যয় ধরে আয়ের টার্গেট করে সে পরিমান অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা জারী রয়েছে।এক্ষেত্রে মাছের পোনা বিক্রি হোক বা না হোক টার্গেট অনুযায়ী রাজস্ব জমা দেওয়ার বিকল্প নেই । এতে মাছের পোনা উৎপাদনে সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন মানসিক চাপে । তাই এ নিয়ম প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞ, মাছ চাষে সংশ্লিষ্ট ও বিশিষ্টজনরা ।
এ পর্যায়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় দিনাজপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. এস এম রেজাউল করিম ও রংপুর বিভাগের মৎস্য দপ্তরের উপ- পরিচালক ড.সাইনার আলমের সাথে। তিনি( উপ- পরিচালক) জানান, রংপুর বিভাগের সকল কর্মকর্তা ,কর্মচারি তার নেতৃত্বে দলবদ্ধভাবে কাজ করছে । এতে মাছ চাষের ক্ষেত্রে আমরা অনেকদূর অগ্রসর হয়েছি।


রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_