রবিবার-২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-বিকাল ৫:৩৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ পার্বতীপুরে খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি শুরু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে ওএমএস’র বিশেষ কার্যক্রম উদ্বোধন করোনার টিকা নিতে ১ কোটি সাড়ে ১৮ লাখ মানুষের নিবন্ধন টানা ৬ দিন বন্ধের পর আজ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে আমন চার্ষীরা বিপাকে পড়েছে ॥ বরিশালে দুইজনের লাশ উদ্ধার

পার্বতীপুরে বনাঞ্চল থেকে দলছুট হয়ে আসা হনুমানটি, নয় মাস ধরে অবস্থান করছে লোকালয়ে

প্রকাশ: রবিবার, ২০ জুন, ২০২১ , ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পার্বতীপুর বনাঞ্চল থেকে ছুটে আসা মুখপোড়া হনুমানটি দীর্ঘ নয় মাস ধরে পার্বতীপুরে অবস্থান করছে। পথ হারিয়ে হনুমানটি মহাবিপদে। গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে যত্রতত্র ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে। কখনও গাছের উঁচু ডালে, আবার নিমিষে নেমে আসছে নাগালের মধ্যে। বিভিন্ন সময় শহরের বিল্ডিংয়ের ছাদে ও অতি ভোরবেলা ফাঁকা রাস্তায় পায়চারি করতে দেখা গেছে। কিছুদিন আগে অত্র উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের একটি বাড়িতে আটকা পড়ে হনুমানটি। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা রাজশাহীতে অবস্থিত বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদফতরে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে তারা করোনাকালীন ভাইরাস বহনের আশঙ্কার কারণে হনুমানটিকে আটক বা স্পর্শ না করে মুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়। প্রয়োজনীয় খাদ্য খাবার না পেয়ে হনুমানটি দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা অতি নিকটে হিলি সীমান্ত। ওপারে পাহাড়ী বনাঞ্চল থেকে দলছুট হয়ে হনুমানটি গাছে গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে মুখপোড়া বা লালচে হনুমান বানর প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশ নেপাল, ভুটান, চীন, ভারত এবং মায়ানমারে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হচ্ছে ক্রান্তীয় ও নিরক্ষীয় ও শুষ্ক বনভূমি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, শিল্পায়ন ও কৃষিক্ষেত্রের সম্প্রসারণের দরুন বনভূমির পরিমাণ হ্রাসের কারণে এদের অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বর্তমানে পুরো বিশ্বে এরা বিপন্ন বলে বিবেচিত। চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, ঘুম, বিশ্রাম, প্রজনন সবকিছু গাছেই সম্পন্ন করে। শক্তপোক্ত একটি পুরুষের নেতৃত্বে দলের সব স্ত্রী, পুরুষ ও বাচ্চারা থাকে। এরা শান্তিপ্রিয়। দলবদ্ধ এই প্রাণীদের একেকটি দলে সচরাচর ২ থেকে ১৪টি প্রাণী থাকে। এরা মূলত পাতাভোজী। গাছের কচি পাতা, বোঁটা, কুঁড়ি ও ফল খায়। তবে বট, চালতা, আমড়া, আমলকি, হরিতকি, বহেড়া ইত্যাদি ফলও তাদের বেশ পছন্দ। এরা বিভিন্ন উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গাছের গর্ত ও পাতায় জমে থাকা পানি দিয়ে জলপান ও গোসল করে। দুপুরে বিশ্রাম নেয়। এরা খেলাধুলা ও লাফালাফি করতে অনেক পছন্দ করে। বাচ্চা বুকে নিয়ে মা সহজেই এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফিয়ে পড়তে পারে। এরা অনেকটা কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের মতো করে ভুকভুক শব্দ করে। অন্য কাউকে ভয় দেখাতে মুখে ভেংচি কাটে। মুখপোড়া হনুমান ছাড়া আরও দুই প্রজাতির হনুমান রয়েছে। এরা হলো- উত্তুরে হনুমান ও চশমাপরা কালো হনুমান। উত্তুরে হনুমান এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে চশমাপরা হনুমানের অস্তিত্ব এখনও টিকে আছে। এদের চোখের চারপাশে গোলাকার বৃত্তের মতো সাদা রং থাকে বলে এদের চশমাপরা হনুমান বলা হয়ে থাকে। এই প্রাণীটি গত প্রায় ৩ দশকে বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এই জাতীয় পরিমাণ কমে যাওয়ায় গবেষকরা আশঙ্কা করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২-৩ প্রজম্মের (প্রতি প্রজম্ম ১০-১২ বছর) পরে এরা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এরা বিপন্ন হলে বাংলাদেশে প্রকৃতিক বনায়ন হুমকির মুখে পড়বে। কারণ এদের খাদ্যের ১৪ শতাংশ ফল ও বীজ। খাদ্য গ্রহণ শেষে ফলের বীজ বনের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা বনকে নতুন জীবন দান করে। ৩ প্রজাতির হনুমানের মধ্যে অন্যতম সুন্দর চশমাপরা হনুমান। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু বনে এদের দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে ভারত, চীন, মায়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, লাউস, ভিয়েতনামের বন জঙ্গলে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইইউসিএল এ প্রাণকে বিপন্ন হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রথম বাংলাদেশের চশমাপরা হনুমানের ইকোলজি নিয়ে প্রাইমেট কনজারভেশন জার্নাল গবেষণপত্র লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল এ্যানথ্রোপলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ক্রেইগ স্ট্রানফোর্ড। এ নিয়ে তিনি ১৯৯০ সালে পিএইচডিও করেন। তখন চশমাপরা হনুমানের সংখ্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৩শ’। গত ৩ দশকে এ প্রাণীর সংখ্যা এখন কমে এসেছে ৮০ শতাংশে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এখন পর্যন্ত মৌলভীবাজারের লাওয়াছড়া ও হবিগঞ্জের সাতছাড়ি জাতীয় উদ্যানে ১৩ গ্রুপে মোট ১৪৫টির মতো হনুমান রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হাবিবুন নাহার চশমাপরা হনুমান কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বনভূমি উজাড় হওয়া বলে উল্লেখ করেছেন। এখনই এদের রক্ষায় গুরুত্ব না দিলে একসময় এরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ।

প্রাণী বিজ্ঞানীদের মতে, হনুমান হচ্ছে বহুকোষী এবং সুকেন্দ্রিক জীবের একটি বৃহৎ গোষ্ঠী। তারা পরভোজী (heterotroph) অর্থাৎ তারা জীবন ধারণের জন্য অন্য জীবের ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বানর প্রজাতির প্রাচীনতম এই প্রাণীটি আজ থেকে ৫৪২ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীতে বাস করত। অন্যদিকে হনুমান প্রভুভক্ত ও সহজে পোষ মানে। এ কারণে ভারতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিধানে হনুমান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হয়েছে ।


ঢাকা,রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_