সোমবার-২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ১১:২০

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ পার্বতীপুরে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্ট শুরু সুজানগরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম হায়দার আলী শাহ্ এর মৃতুতে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত। ফুলবাড়ীতে গো- খাদ্য বিতরণ  বাবা হারালেন শ্রীলেখা মিত্র অনুশীলনে ফিরলেন মেসি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন মঈন আলি

মধ্যপাড়া পাথর খনি তৃতীয়বারের মতো লাভের মুখ দেখছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রোফিট বোনাস পাচ্ছেন, করোনার মধ্যেও জিটিসির হাত ধরে টানা তৃতীয়বারের মতো এমন কৃতিত্ব রাষ্টয়স্ব কোম্পানীটির

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১ , ৩:৫৯ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

সোহেল সানী :
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনি টানা তৃতীয়বারের আবার মতো লাভের মুখ দেখছে। বৈশি^ক মহামারী করোনার মধ্যেও জিটিসির হাত ধরে টানা তৃতীয়বারের মতো এমন কৃতিত্ব রাষ্টয়স্ব কোম্পানীটির। ফলে খনির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রফিট বোনাসও পাচ্ছেন। যাহ খনির ইতিহাসে নয়া মাইল ফলক।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাসনামলে ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া এলাকায় ১২৮ মিটার গভীরতায় কঠিন শিলা আবিস্কার করে। উত্তর কোরিয়ার মেসার্স কোরিয়া সাউথ কোঅপারেশন কপোর্রেশন (নাম নাম) সাথে পাথর খনি উন্নয়নের ১৯৯৪ সালের ২৭ মার্চ মূল চুক্তি হয়। কয়েক দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর ২০০৭ সালের ২৫ মে পাথর খনির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাথর উত্তোলন কাজ শুরু হয়। প্রতিদিন এক শিফটে পাথর উত্তোলন ছিল ৩০০-৪০০ মেট্রিক টন। বাণিজ্যিকভাবে পাথর উত্তোলন হলেও ছিল না খনির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। সেই সময়ে খনিটি প্রায় কয়েক শত কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম হয়। দেশের অর্থনীতিতে বোঝা হয়ে দাড়ায় উন্নত মানের এই শিলা খনিটি। এতে করে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল সম্ভাবনাময় মধ্যপাড়া পাথর খনিটির ভবিষৎ।
খনিটিকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মধ্যপাড়া পাথর পাথর খনির খনি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং পরিসেবার জন্য জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এবং মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (এমজিএমসিএল) এর মধ্যে ২০১৩ সালে ২ সেপ্টম্বের ৬ (ছয়) বছর মেয়াদী একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিগত ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি কার্যকর হয়। ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খনিতে পাথর উৎপাদন শুরু হয়। সেই সময়ে জিটিসি খনিটির বেশীরভাগ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পায়।
খনিতে জিটিসি পাথর উৎপাদন শুরুর পরে, এমজিএলসি কর্তৃপক্ষ খনি কাজে অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সময়মতো আমদানী করার অনুমোদন না দেওয়া অর্থাৎ দুই বছর বিলম্ব করায় খনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ড্রইং ডিজাইন অনুমোদনে এমজিএলসি কর্তৃপক্ষ ২ বছর বিলম্বের কারণে খনির কাজ দীর্ঘ প্রায় ৩ (তিন) বছর সময় ব্যাহত থাকে। বিদেশী মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশের অভাবে খনিটির উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যাহত না হয়ে গেলে পুরো চুক্তির মেয়াদ পযর্ন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে খনির উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি তাদের চুক্তির মেয়াদে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী স্টোপ নির্মানসহ পাথর উত্তোলন করতে সক্ষম হতো। কিন্তু এতো সব বাধা অতিক্রম করে জিটিসি তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন খনি থেকে পাথর উত্তোলন করে খনির উৎপাদন ইতিহাসে নয়া রেকর্ড সৃষ্টি করে। প্রতিদিন তিন শিফটে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পাথর খনিটি চালু করা হয়েছিল, একমাত্র জিটিসিই সেই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এক দিনে তিন শিফটে ৬ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করে তাদের সক্ষমতার পরিচয় দেয়। শতাধিক বিদেশী খনি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশী প্রকৌশলী এবং সাড়ে ৭শ’ দক্ষ খনি শ্রমিক দিনে-রাতে রেকর্ড পরিমান পাথর উত্তোলন করার কারনে মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে লোকসানের কলংক ঘুচিয়ে প্রথম লাভের মুখ দেখে। সেই অর্থ বছরে খনি কর্তৃপক্ষের প্রায় ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা লাভ হয় এবং মধ্যপাড়া পাথর খনি প্রথম বারের মত লাভের মুখ দেখার পুরো কৃতিত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি’র। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রায় ২২ কোটি টাকা মুনাফা করে দ্বিতীয়বার লাভজনক প্রতিষ্ঠানের ধারা অব্যাহত রাখে পাথর খনিটি। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরেও খনিটি লাভজনক হবে। সেই সাথে পাথর বিক্রি থেকে সরকারের ভ্যাট ও ট্রাক্সসহ কয়েক কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি কে.এম.হাসান, সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান এবং সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি এ,এইচ, এম, শামনুদ্দীন চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইবুনাল কর্তৃক খনিতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান পূর্বক একটি নিদের্শনার মাধ্যমে জিটিসি কে ১ (এক) বছরের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়।
ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস আগেই জিটিসি বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়াবহতা সত্ত্বে বর্ধিত সময়ের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১.১ মিলিয়ন টন পাথর উৎপাদন ও আরও দুইটি নতুন (স্টোপ) নিমার্ন কাজ সমাপ্ত করে তাদের সক্ষমতা ও খনি কাজের সাফল্য প্রমান করেছে ও জিটিসি চুক্তির বর্ধিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ২০% পাথর বেশী উৎপাদন করবে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার এই মহামারিতে কঠোর স্বাস্থ্য বিধি মেনে জিটিসি সকল শ্রমিকদের নিয়ে পাথর উৎপাদন অব্যাহত রেখে মধ্যপাড়া পাথর খনির অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে তার জন্য জিটিসি।
এ ব্যাপারে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (এমজিএমসিএল)’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবু দাউদ মুহম্মদ ফরিদুজ্জামান বলেন, বৈশ্বিক মহামারির করোনার মধ্যে দেশের অন্যান্য খনি প্রকল্পগুলো জনবল অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। পক্ষান্তরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাথর উত্তোলন হয়েছে ১ দশমিক ১ মিলিয়ন টন পাথর। এ হিসেবে অন্তত: ২০ শতাংশ বেশি পাথর উৎপাদন হয়েছে। বর্ধিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগেই আরও দু’টি স্টোপ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কেন না এই উপজেলারই পার্শ্ববর্তী উৎপাদনে থাকা বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ঠিকাদারী চায়না প্রতিষ্ঠান অধিকাংশ শ্রমিককে ছুটি দিয়ে স্বল্প পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। ফলে বেকার হয়ে বসে আছে দুই তৃতীয়াংশ কয়লা খনি শ্রমিক। এখানে লক্ষণীয় যে, জিটিসি তার কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে খনির উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যয় কোন প্রকার বৃদ্ধি ব্যতীরেকেই বিগত ৭ বছর যাবৎ খনি পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেখানে পার্শ্ববর্তী খনিতে দফায় দফায় উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একমাত্র জিটিসিই মধ্যপাড়া পাথর খনিতে দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে খনিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছে। জিটিসির এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে খনিটি সবসময়ই লাভজনক থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপাড়া পাথর খনি পৃথিবীর একমাত্র ভূগর্ভস্থ গ্রানাইট মাইন, যার লাভজনক পরিচালনা, উৎপাদন ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র জিটিসি এর রয়েছে।
হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহবুদ্দীন শাহ বলেন, খনিটিতে প্রতিদিন পাথর বহন ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে খনি এলাকা। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকান-পাট। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পাথর নেয়ার জন্য খনিতে আসে, সেখানে পাথর লোড আন-লোড করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে কয়েক’শ শ্রমিক। এতে করে সেখানকার অর্থনীতি ও জীবন-যাত্রার মান উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা একমাত্র জিটিসির মাধ্যমে দেশের এই সম্ভাবনাময় খনিটির উৎপাদনের চাকা সচল রাখা। তারা বলেন, এই খনি সচল থাকলে তাদের জিবিকা ও অর্থনীতি সচল থাকবে। একমাত্র ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিটিসিই মধ্যপাড়া পাথর খনিতে দৈনিক সাড়ে ৫ হাজার থেক ৬ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে এবং জিটিসি’র এই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে খনিটি সব সময়ই লাভজনক থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপাড়া পাথর খনি পৃথিবীর একমাত্র ভূ-গর্ভস্থ্য মাইন, যার লাভজনক পরিচালনা, উৎপাদন ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র জিটিসি এর রয়েছে। পাথর উৎপাদন ও খনি উন্নয়নের পাশাপাশি খনির সন্মুখে ‘জিটিসি চ্যারিটি হোম’ স্থাপন করে খনি শ্রমিকদের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়তরত সন্তানদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি, এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক নানা কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে এলাকাবাসীদের পাশে দাড়িয়ে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। চ্যারিটি হোমে অভিজ্ঞ এমবিবিএস ডাক্তার দিয়ে প্রতিদিন খনি এলাকার ৪০/৫০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। প্রতিমাসে খনি শ্রমিকদের সন্তানদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তি, নন এমপিভুক্ত মধ্যপাড়া মহাবিদ্যালয়কে মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আর্থিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে। এলাকার মানুষ বলছে, জিটিসি’র এই সেবা মূলক কর্মকান্ড একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_