বৃহস্পতিবার-২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৯:৫৬

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিল ফেসবুক ১৮ বছর বয়সীদের টিকার নিবন্ধন ৮ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ: রাজধানীতে ৫৬৮ জন গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভাই বোনের মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে রাজাপুর গ্রাম থেকে গুইসাপ উদ্ধার, পরে বনে অবমুক্ত ডোমারের চিলাহাটি রেলষ্টেশন ট্রাইলে ভারতীয় ২টি পাওয়ার ইঞ্জিন। সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভীড়

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে-

টুং টাং শব্দে সরগরম আদমদীঘিতে কামারদের দোকান গুলো

প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১ , ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
কোভিড-১৯ করোনা মহামারীর মধ্যেও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত কামারের দোকানগুলো টুং টাং শব্দে সরগরম হয়ে উঠেছে। আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে অবিরাম কাজ করছেন তারা। আগুনের শিখায় লোহা পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে এসব ছুরি, দা, বঁটি, চাপাতি। পশু কোরবানির পাশাপাশি মাংস কাটার জন্য এসবের প্রোয়জন। এগুলো কিনতে কামারের কাছে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, করোনা মহামারীর অজুহাতে এ বছর এসব সরঞ্জামের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় কামাররা এখন বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এছাড়া করোনা মহামারীর কারনে এ শিল্পের উপকরণ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও জানান তারা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দূর থেকেই শোনা যাচ্ছে হাপরের হাঁসফাঁস আর হাতুড়ি পেটার শব্দ। লোহায় হাতুড়ি পেটায় ছড়াচ্ছে স্ফুলিঙ্গ। সেখানে যেন নেই কোনো দিন-রাত; অবিরাম চলছে কাজ আর কাজ। কামাররা জানান, বছরের ১১ মাসে তাদের ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানীর ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। উপজেলার কয়েকজন কামারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। ব্যবহার করা হয় এ্যাঙ্গেল, রড, স্টিং, রেললাইনের লোহা, গাড়ির পাত ইত্যাদি। অনেকে লোহা কামারদের কাছে এনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে। এর মজুরিও লোহাভেদে নির্ধারণ করা হয়। বেশির ভাগ কামারদের কাছ থেকেই লোহা কিনে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করে বা রেডিমেট বানানো জিনিস নিয়ে যায় ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা জানান, লোহার মানভেদে একটি দা ৫শ থেকে ৭শ টাকা (পাকা লোহা), আর কাঁচা লোহার দা ৪শ থেকে ৫শ টাকা। পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১শ থেকে সাড়ে ৩শ, পশু জবাইয়ের বিশেষ ছুরি ৫শ থেকে ৩ হাজার, কুড়াল ৬শ থেকে ১হাজার, বঁটি ৩শ থেকে ৮শ, চাপাতি ৫শ থেকে ১হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশীয় এসব দা-বঁটির পাশাপাশি চায়না থেকে আমদানি করা বিভিন্ন মানের ও আকারের ছুরি-চাপাতিও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, প্রতি পিচ ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়, চাপাতি ৪শ থেকে ৬শ টাকায়, মাঝারি আকারের ছুরি ১শ থেকে ২শ টাকায় এবং বঁটি ২শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকায়। আদমদীঘি উপজেলার তালসন গ্রামের শ্রী সাধন চন্দ্র কর্মকার জানান, লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা আমার পেশা। বাপ-দাদার পৈতিক সূত্রে আমি এই পেশায় জরিত। একটি মাঝাড়ি ধরণের দা ও কাটারি তৈরি করে ওজন অনুযায়ী ৩ শ টাকা থেকে ৪ শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। সাড়া দিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে যে কয়টি জিনিস তৈরি করি তা বিক্রয় করে খুব বেশি লাভ না হলেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থে আদি এই পেশা আমি ধরে রেখেছি। তবে সাড়া বছর কাজ-কর্মের ব্যস্ততা তেমন না থাকলেও কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে আমার কর্ম ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সাড়া বছর এই রকম কাজ থাকলে ভালই হত। সান্তাহার নতুন বাজার এলাকার নারায়ন চন্দ্র কর্মকার জানান, আমার বাপ-দাদার মূল পেশা ছিল এটা। তারা গত হওয়ার পর ওই সূত্রে ধরে আমার জীবনেরও শেষ মূহুর্তে এই পেশা ধরে রেখেছি। সাড়া দিন চাকু, বটি তৈরি করে যা আয় হয় তা দিয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বাচি। কেন না এই পেশা ছেড়ে অন্য কোন ভাল পেশায় যাব এই রকম আর্থিক সংগতি আমার নেই। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ পেশায় যারা জড়িত তাদের ঘুড়ে দাড়ানো সম্ভব হবে।

 


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_