বুধবার-২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৮:৩৮

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ শিগগিরই আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে ট্রেন চলবে আগামী বছর ডিসেম্বরে : রেলমন্ত্রী ফরাসি মিডিয়ার রোষানলে মেসি করোনায় আরও ৩৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১,৩৭৬ সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত শেষ হলো ১৬তম নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত প্রভাব মোকাবেলায় পার্বতীপুরে দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করলেন

ডিমলায় ভালো নেই নিম্ন আয়ের মানুষ।

প্রকাশ: সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১ , ১২:১৩ অপরাহ্ণ , বিভাগ :
শামীম ইসলাম ডিমলা  নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনে বাড়তি চাপ পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের উপর। তার ওপর সামনে কোরবানির ঈদ। ইতিমধ্যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে এসেছে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষজন। এতে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্মহীন এসব মানুষজন
কেউ চালাচ্ছে রিক্সা, কেউবা আবার দৈনিক চুক্তি ভিত্তিক কাজ করে সংসারের অভাব অনটন দুর করতে কাজ করলেও এখন আর তেমন কাজও নেই। করোনা আতঙ্কিত চারদিকে শুধুই শুন্যতা আর শূন্যতা। এদিকে পরিবহণ শ্রমিকরা কঠোর লকডাউনের ফলে কর্মহীন অলস সময় পার করছে। ফলে সংসারের অভাব-অনটনে অর্ধহারে-অনাহারে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিলও। গেলো বছর করোনায় দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে আর্থিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলার সাধারণ মানুষ। লকডাউনকালীন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে জীবনযুদ্ধ করছিলেন এই উপজেলার নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।
এমন বাস্তবতায় দেশে পূর্বের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় বেড়েছে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে গত (১লা জুলাই/২১) প্রথমে ৭দিন পরবর্তীকালে আরো ৭দিন কঠোর লকডাউন বর্ধিত করে সরকার। যার ফলে ডিমলায় সাধারণ মানুষের কাছে যেনো অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন এ উপজেলার নিম্ন ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষেরা। এ সময়ের মধ্যে ফার্মেসি আর নিত্যপণ্যের (কাঁচা বাজার) দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য  মানুষকে ঘরে রাখতে চলছে নানা কার্যক্রম। ফলে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষজন।
সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্যদিকে খাবারে চিন্তা সব মিলিয়ে ভালো নেই উপজেলার শ্রমজীবী মানুষ জন। করোনাভাইরাসের সকল সতর্কতা জেনেও যারা পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তাও পাচ্ছেন না কাজের সন্ধান। আর যারা ভ্যান  কিংবা অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান তারাও পাচ্ছেন না যাত্রী। এতে ঘর থেকে বের হলেও রোজগার হচ্ছে না প্রয়োজনীয় অর্থ। এ নিয়ে বিপাকে আছেন বেশিরভাগ মানুষ।  অটোরিকশা চালক (গয়াবাড়ীর) রেজাউল ইসলাম  বলেন, ”গাড়ির আয় দিয়েই”  আমার সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। কঠোর লকডাউনে আমাদের না খেয়ে মরার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এমনিতেই গতবছরের অভাব-অনটন সেরে উঠতে পারছি না। এখন আবার কঠোর লকডাউনের পর আরো লকডাউন হলে না খেয়েই মরতে হবে।কয়েক জন ক্ষুদ্র (ফুটপাতে বসে ব্যবসা করে) ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিদিন ব্যবসা করে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চলতো। কিন্তু বর্তমানে মানুষের সমাগম  বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা ও মোবাইল কোর্টের ভয় তৎসঙ্গে পুলিশের কঠোর নজরদারি এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতা তেমন নেই। এখন আমরা গরীব মানুষ কোথায় যাব। এভাবে লাগাতার চলতে থাকলে  আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।অটোচালক মোজাম্মেল হোসেন  বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ নেই। রুজি রোজগার  করব কী ভাবে। কিন্তু রোজগার না করলে তো সংসার চলে না। সব মিলেয়ে আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।
এছাড়া গত বছর/২০২০ইং ডিমলায় লকডাউন চলাকালে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ খাদ্যসামগ্রী, আর্থিক অনুদান বিতরণ করেছিল। তবে এবছর লকডাউনে  সেসব সাহায্য দিতে কাউকে তেমন দেখা যাচ্ছে না এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহুর রহমান বলেন, এ উপজেলায় ৭২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী যেমন, চাল, ডাল, তেল, লবন ইত্যাদি বিতরণ চলমান আছে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে। এছাড়া আসছে কোরবানী ঈদের পূর্বে ৬৭,১০০ হাজার পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া ঈদের আগে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের অসহায় ছিন্নমুল মানুষকে দেওয়া হবে।

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_