বৃহস্পতিবার-২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৮:৫৭

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিল ফেসবুক ১৮ বছর বয়সীদের টিকার নিবন্ধন ৮ আগস্ট থেকে বিধিনিষেধ: রাজধানীতে ৫৬৮ জন গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভাই বোনের মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে রাজাপুর গ্রাম থেকে গুইসাপ উদ্ধার, পরে বনে অবমুক্ত ডোমারের চিলাহাটি রেলষ্টেশন ট্রাইলে ভারতীয় ২টি পাওয়ার ইঞ্জিন। সুজানগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার টিকা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভীড়

তুচ্ছ লুডু খেলাও, সে অর্থে তুচ্ছ নয় !

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১ , ৯:১২ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: গুরুজনরা বলেন, মানুষ তার নিজের চিন্তা-চেতনা কিংবা ইচ্ছে-খায়েশ খুব বেশী সময় চাপা দিয়ে রাখতে পারেনা। একসময় ছাই চাপা আগুনের মত সেটা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে। সে অনলে অনেকে পুড়ে ছারখার হয়, অনেকে সে আগুনে আলুপোড়াও খায়।
ছাত্রজীবনে পরীক্ষার আগে আগে সিনেমার ভূত অদ্ভূত ভাবে চাগিয়ে উঠত। সাথে ২৯ খেলার উপর মহব্বতের নহর বইত। শুরুটা হত অনেকটা এভাবে। দুপুরে ডাইনিং এ লান্চ সেরে একলগে রুমে ফেরার সময় একজনের ২৯ এর খুঁজলি উঠত। আরেক জন সেটারে চুলকায়ে চরমে তুলতো। এরপর ২৯ এর আসর কখন রাতের খাবারের সময়ে পৌছে যেত কারও খেয়াল থাকতো না। ডাইনিং বয়দের ডাকাডাকিতে আবার ডাইনিং এ হাজির হতাম। খাওয়ার পরে সম্বিৎ কিছুটা ফিরলেও টানা ২৯ খেলার ধকলে ম্যাড়ম্যাড়ে শরীরের ভিতর থেকে আওয়াজ আসতো, “পড়াশোনায় জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেলো”।
পরক্ষনেই পরীক্ষায় ফেলের ভয় মনকে প্রায় গ্রাস করতো। মনে মনে ২৯ এর কাছে মাফ ও দোয়া চেয়ে নিতাম। পরের দিন সকাল থেকে সিরিয়াস হওয়ার পণ করে পরীক্ষার আগে শেষ মুভিটা দেখতে বসে পড়তাম। আমির-শাহরুখ-সালমান কিংবা বলিউডের ব্লকবাস্টার নতুন সিনেমা থাকলে সেটা দেখার পর শুরু হতো উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা। ২৯ বা সিনেমা না দেখার ওয়াদা ইজরাইল-ফিলিস্তিনের শান্তি চুক্তির মত বড় জোর ২/৪ দিন টিকে থাকতো। কয়েক দিন পর ইজরাইলিদের মত ‘২৯ ও সিনেমা’ ফিলিস্তিনের ন্যায় আমাদের দুর্বল হ্রদয়ে হানা দিত। এরপর সেই কুকুরের বাঁকা লেজ সোজা করার মতই ওয়াদার মিশন ব্যর্থ হতো। কম বেশি আমরা সকলে সেই দিনগুলো ফেলে এসেছি। তখন ওভাবে সময় নষ্ট করে আফসোস হতো, এখন সেসময় টা নেই বলে পরিতাপ হয়। বন্ধুরা হঠাৎ মিলিত হলে এক চিলতে অতীত হামাগুড়ি দিয়ে মনের দুয়ারে হাজির হয়।
সেরকম একদিনের ঘটনা। অতীতের মতই প্রথমে এক বন্ধুর খুঁজলি উঠে। বাকীরাও অনুঘটক হয়ে উঠলে তান্জামের আন্জাম হয়ে যায়। তবে এবার ২৯ এর নয়, আসর বসে মোবাইলে লুডু খেলার। উদ্যোগী বন্ধুর উৎসাহ ও উত্তেজনায় বোঝা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে সে খেলাটা উপভোগ করছে। লুডু খেলায় প্রথম কাজ ছক্কা উঠানো। ছক্কা উঠানোকে স্নাতক পাশের সার্টিফিকেট অর্জনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। মানে আপনি কিছু অর্জনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হলেন। কিংবা বলা যায় বয়স ১৮ হলে যেমন ভোটের অধিকার জন্মায় সেরকম কিছু। তখন চাইলে ভোট দিতে পারবেন, মন না চাইলে নাই।
তবে ছক্কা ওঠা মানে খেলা শুরু হলো মাত্র। গন্তব্য বহু দুরে, ফার ওয়ে টু গো। দানে দানে পয়েন্ট নিয়ে ধৈর্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু মাঠে আছে আরও ৩ জন মারকুটে প্রতিদ্বন্দ্বী। আপনি এগিয়ে গেলে নির্ঘাত তারা পিছনে পড়ে থাকেন। আর ওদিকে গুটি দিয়ে আপনাকে ল্যাং মেরে ঘরে পাঠানোর নিয়ম আছে এ খেলায়। জীবনের খেলায়ও মানুষ একজন আরেকজনকে ল্যাং মেরে এগিয়ে যেতে চায়। অনেকেই বৈধতার ধার ধারেন না। নেইমার যেমন পিএসজিতে এসেই ইন্জুরিতে পড়লেন, তখন অন্যদের খেলা দেখা ছাড়া তার কিছুই করার ছিলো না। অন্যরা আপনার গুটি কেটে দিলে আপনার অবস্থাও তথৈবচ। লুডু খেলায় ইন্জুরি থেকে দ্রুত ফিরতে হলে দ্রুত ছক্কা পিটাতে হবে। খেলা থেকে যাতে বাদ পড়তে না হয় সেজন্য ১ টি গুটি পাকানোর চেয়ে ছক্কা মেরে আরও গুটি উঠাতে হবে। বেশি গুটি উঠানো মানে আপনার একটা গুটি কাটা গেলেও খেলা চালিয়ে যেতে পারলেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হতে হলে একটা ব্যবসায় সব পুজি না ঢেলে অন্য ব্যবসা চালু করতে হবে। একটাতে ধরা খেলে যাতে পা হড়কে একেবারে না পড়ে যান, তখন অন্য ব্যবসা আপনাকে দেউলিয়া হতে বাঁচাতে পারে। টিকে থাকার একই নিয়ম, হোক সেটা ব্যবসা কিংবা লুডু খেলা।
নিজে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে অন্যদের অবস্থানও খেয়াল করতে হবে। কারও গুটি বেশি এগিয়ে গেলে যেভাবে হোক আপনার গুটি রেডি রাখতে হবে। প্রমিজিং বা রাইজিং কোন ব্যবসা এগিয়ে গেলে জেফ বেজোসের আমাজন সেটারে খেয়ে দেন। আমাজন স্টাইলে প্যাঁচ মেরে ঘ্যাচ করে আপনাকেও অন্যের গুটি খেয়ে দিতে হবে। এরপর “খেলা হবে” বলে আওয়াজ দিতেই পারেন। “মহাকাশে ঘুরতে যাওয়া ‘বেজোস’ যাতে পৃথিবীতে ফিরতে না পারেন” বলে হাজারও মানুষ যেমন দরখাস্তে দস্তখত করেছেন, আপনার কপালেও সেরকম লান্চনা-শংকা জাগতে পারে। দরখাস্তকারীর হুমকিতে বেজোস পিছু হটেনি, আপনারও পিছু হটার কোন কারন নাই। যদি অন্তত ২ টা গুটি পাকিয়ে ফেলতে পারেন তাহলে আর পায় কে!
এসময় নিজেকে বেশ ফুরফুরে লাগবে। যে আগে আপনাকে অচল পয়সা মনে করত, সেই আপনার প্রশংসায় মশগুল থাকবে। তবে এ সময়টা বেশ ক্রিটিক্যালও। অন্য কেউ নিজের ১ টা গুটি খেয়ে দিলে খাদে পড়ে যেতে পারেন। ভালো খেলতে না পেরে এবারের ইউরো থেকে বাদ পড়ে এমবাপ্পেরা যেমন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জেতার স্মৃতিরোমন্থন করেও মনে সান্তনা মিলছেনা। শেষ সময়ে নিজের গুটি কাটা পড়লে ঐরকম লাগতেই পারে।
ছক্কা-ডিফেন্স-এ্যাটাকিং কৌশলে লুডু খেলে যেতে হবে শেষ পর্যন্ত। ওরকম সাবধানী মুডে থাকলে সফলতা আসবেই আসবে। তখন বেকার ও অথর্ব বলে যে পাড়া-পড়শি মুখ-ঝামটি দিতো, তাঁদের চওড়া হাসি ম্যাট্রিক না সনাতনি স্কেলে মাপলে জুতসই হবে সেটাও ভুলে যেতে পারেন। ট্রয় নগরীর পতনের পরও একিলিস নয় বরং ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে হেক্টরের নাম। বাস্তব জীবনের হিসেব যদিও গ্রিক মিথলজির ক্যালকুলেটরে নির্ণয় করা যায় না।
তবে মানুষের জীবন লুডু বা গ্রিক মিথলজি, কোনটার সাথে যায় না। অন্যদের পিছনে ফেলে নিজে এগিয়ে গেলে শুধু একজন মানুষ সফল হয়। মানুষ তার চেয়েও বেশি সফল হতে পারে সকলকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে। এতে যেমন কেউ পিছন থেকে টেনে ধরতে পারেনা, তেমনি পারেনা সামনে থেকে চোখ-রাঙ্গাতেও। লেখক : পার্বতীপুরের কৃতি সন্তান সাজিদুর রহমান সাজিদ


রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_