শনিবার-২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৩:৪৬

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ কলা খাবেন যে কারণে আজ টেলিভিশন সাংবাদিকতার রূপকার মিশুক মুনীরের জন্মদিন স্কুলে এসে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: শিক্ষা উপমন্ত্রী বাংলাদেশ ‘উন্নয়নের বিস্ময়’ ফুটবলে ক্যারিশমা দেখিয়ে অষ্টমবারের মতো গিনেস বুকে বাংলাদেশের ফয়সাল ম্যাচ জয়ের পর ২৪ লাখ রুপি জরিমানা কলকাতার পাঁচবিবিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

পেয়ারা চাষিরা লোকসানের আশঙ্কায়

প্রকাশ: রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১ , ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো॥ বরিশাল বিভাগের তিন জেলার ৫৫ গ্রামে ফলন হয় পেয়ারার। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের কাছে ‘পেয়ারাথ অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ ও জীবিকার অবলম্বন। আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষায় এসব এলাকার নদী-খালজুড়ে পেয়ারার সমারোহ। দেরিতে ফুল থেকে ফল আসায় আষাঢ়ের শেষের দিকেও পেয়ারা কুষিতেই রয়েছে। পরিপক্ক হয়ে বিক্রি করার সময় হতে আরো প্রায় মাসখানেক লাগবে।
যখন পেয়ারার মৌসুম শুরু হবে তার আগ থেকেই লকডাউন শুরু। একারণে পেয়ারা পরিবহন করতে না পারায় পাইকাররা আসবে না। অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে।কিন্তু এ বছর মহামারি করোনার কারণে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সবদিক থেকেই জনশূন্য থাকবে ভাসমান পেয়ারার হাট। তাই বড় ধরনের তির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।লোকসানের আশঙ্কায় দেখছেন কয়েক হাজার কৃষক। ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কৃষকরা জানান,পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানার বিখ্যাত পেয়ারা সরবরাহ হয় সারাদেশে। প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হতো ।কিন্তু এ বছর করোনা, কম ফলন এবং ছিটপড়া রোগের কারণে পেয়ারার ভরা মৌসুমেও বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। চাষিরা জানান, আষাঢ়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় পেয়ারার মৌসুম। প্রতিবছর মৌসুম জুড়ে প্রতিদিন নৌকা, ট্রলার আর ট্রাকে করে স্বরূপকাঠির পেয়ারা যেত দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষি, বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কোলাহলে মুখর থাকত প্রতিটি পেয়ারা বাগান। কিন্তু এ বছরের চিত্র ভিন্ন। করোনা এবং ফলন কমের জন্য পাইকারদের আনাগোনা অর্ধেকেরও কম। অন্যদিকে পেয়ারা বাগান কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কার্যক্রমও নিষ্প্রাণ। ফলে স্বরূপকাঠির পেয়ারাকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এ বছর বড় ধস নেমেছে।
পেয়ারার রাজ্যখ্যাত পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা এবং পার্শ^বর্তী জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি, ধলহার, রাজাপুর প্রভৃতি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে বাগানগুলোতে তেমন ফলন হয়নি। যেসব গাছে ফলন হয়েছে তারও অর্ধেক ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত। জিন্দাকাঠি গ্রামের প্রবীণ পেয়ারা চাষি মোক্তার হোসেন জানান, আটঘর-কুড়িয়ানাকে পেয়ারার রাজ্য বলা হলেও পার্শ^বর্তী বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি পেয়ারার সাম্রাজ্য।

বরিশাল বিভাগের অন্যত্র ছিটে ফোঁটা পেয়ারা হলেও বরিশাল জেলার বানারীপাড়া, ঝালকাঠী জেলার ঝালকাঠী সদর ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী ঘিরেই মূলত পেয়ারার বাণিজ্যিক চাষ। বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার ১৬ গ্রামে ৯৩৭ হেক্টর, ঝালকাঠী জেলার ১৩ গ্রামে ৩৫০ হেক্টর জমিতে, স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়।
এসব এলাকার মধ্যে ঝালকাঠীর কীর্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদশকাঠী, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাপুড়াকাঠী, জগদীশপুর, মীরকাঠী, শাখা গাছির, হিমানন্দকাঠী, আদাকাঠী, রামপুর, শিমুলেশ্বর এই গ্রামে বৃহৎ অংশজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ হচ্ছে।
স্বরূপকাঠীর ২৬ গ্রামের মধ্যে রয়েছে সঙ্গীতকাঠী, খায়েরকাঠী, ভদ্রানন্দ, বাচ্চুকাঠী, ভাংগুরা, আদাবাড়ী, রাজাপুর, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, জিন্দাকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, পূর্ব জলাবাড়ি, ইদিলকাঠী, আরামকাঠী, মাদ্রা, গণপতিকাঠী, আতাকাঠী, জামুয়া, জৈলশার, সোহাগদল, আদমকাঠী, অশ্বত্থকাঠী, সমীত, সেহাংগল, আন্দারকুল।বরিশালের বানারীপাড়ার পেয়ারা বাগানগুলো হলো তেতলা, সৈয়দকাঠী, মালিকান্দা, ব্রাহ্মণবাড়ি, বোয়ালিয়া, জম্বুদ্বীপ, বিশারকান্দি, মরিচবুনিয়া, মুরার বাড়ি, উমরের পাড়, লবণ সড়া, ইন্দির হাওলা, নরেরকাঠী, রাজ্জাকপুর, হলতা, চুয়ারিপাড়। এসব গ্রামের কয়েক হাজার কর্মজীবী পরিবার যুগ যুগ ধরে পেয়ারার চাষ করছে।পেয়ারার চাষ, ব্যবসা ও বাজারজাতকরণেও রয়েছে কয়েক হাজার মৌসুমী বেপারি এবং শ্রমিক। এ সময় অন্তত কুড়িটি স্থানে পেয়ারার মৌসুমী মোকামের সৃষ্টি হয়। এগুলো হলো ভিমরুলী, আতাকাঠী, ডুমুরিয়া, গণপতিকাঠী, শতদশকাঠী, রাজাপুর, মাদ্রা, আদমকাঠী, জিন্দাকাঠী, বর্ণপতিকাঠী, আটঘর, কুড়িয়ানা, আন্দাকুল, রায়ের হাট, ব্রাহ্মণকাঠী, ধলহার, বাউকাঠী। এসব মোকামের মৌসুমে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ হাজার মণ পেয়ারা কেনা-বেচা হয়ে থাকে।
পেয়ারার আদি ইতিহাস‘পেয়ারাথ কবে থেকে এই মাটিতে এই প্রশ্নে স্থানীয় মানুষরা জানান,- শত, শত বছর ধরেই তারা বংশানুক্রমে পেয়ারার চাষ করছেন। তাদের মতে আনুমানিক ২শ বছর আগে স্থানীয় কালীচরণ মজুমদার ভারতের ‘গয়াথ থেকে এই জাতের পেয়ারার বীজ এলাকায় রোপণ করেন। সেই থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে পেয়ারার চাষ।

তবে প্রাচীন পেয়ারা চাষিরা জানালেন আগে বিচ্ছিন্ন আবাদ হলেও ১৯৪০ সাল থেকে শুরু হয়েছে পেয়োরার বাণিজ্যিক আবাদ। এই আবাদ ক্রমশ বাড়ছে। ২০১০ সালে অন্তত ১৯৩২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক পেয়ারার আবাদ হয়েছে। এ সময় ফলন হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন পেয়ারা।
পেয়ারার চাষজ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে ভাদ্রের শেষ এই তিন মাস পেয়ারার মৌসুম। তবে ভরা মৌসুম শ্রাবণ মাসজুড়ে। এরপর ক্রমশ কমতে থাকে পেয়ারার ফলন। চৈত্র বৈশাখের মধ্যেই পেয়ারা চাষিরা বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত ছোট ছোট খাল, নাল দিয়ে বাগানগুলো মূলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। চাষিরা মৃতপ্রায় গাছের ডাল কেটে, মাটি আলগা করে পেয়ারা গাছে আলাদা করে যতœ নেয়। বাগানের চতুর্দিক জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নালা কেটে মাটি পেয়ারা গাছের গোড়ায় দেয়া হয়। চাষিরা জানান, পেয়ারা গাছে তেমন কোন সার বা আলাদা করে কিছু দেবার প্রয়োজন নেই। শুধু পরিচর্যাই যথেষ্ট।
সারাবছর তেমন কোন কিছু করার দরকার হয় না। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসেই পেয়ারা গাছে ফুল আসতে শুরু করে। তবে বৃষ্টি শুরু না হলে পেয়ারা পরিপক্ক হয় না। জমি ভালো হলে হেক্টর প্রতি ১২ থেকে ১৪ মেট্রিক টন পেয়ারার উৎপাদন হয়। বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলায় পেয়ারা চাষের বিস্তৃতি ঘটেছে। এ তিন উপজেলার ৩৫ গ্রামে গত এক যুগ ধরে চাষ হচ্ছে বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারার।কুড়িয়ানার পেয়ারা চাষি বঙ্কিম ম-ল বলেন, এ বছর বাগানে তেমন ফলন হয়নি। তার ওপর করোনার ভয়ে চাষিরা বাগানের যথাযথ পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রতিটি বাগান। যে কারণে এ বছর প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়। অথচ গত বছর প্রতিমণ পেয়ারা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকায়। ৃপেয়ারা চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহর ম-ল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর পেয়ারার ফলন ৪০ ভাগ কম হয়েছে। রোগবালাইও বেশি ও করোনার প্রভাব পড়েছে বাজারমূল্যে। ফলন কম হওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।ঝালকাঠি জেলা উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: ফজলুল হক জানান,পেয়ারা বাগানে ফুল হওয়ার সাথে সাথেই সর্ব ক্ষনিক মাঠে কৃর্ষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মিদের সহাতায় কৃষকদর পরামর্শ দেই।বর্তমান কৃর্ষিবান্ধব সরকারর দেয়া সার কিটনাশক ও কৃষি উপকরন দিয়ে সহায়াতা করছি।

স্বরূপকাঠি উপজেলা উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড.নজরুল ইসলাম জানান,আমি এ উপজেলাল নতুন এসেছি পেয়ারা বাগান ভিজিট করে কৃষকদের সাথে কথা বলে সকল সমস্যা সমাধান করবো। ৃৃৃঘূর্ণিঝড় ও করোনার কারণে পেয়ারার উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আর করোনার প্রভাবে চাষিরা যথাযথভাবে পরিচর্যা করতে না পারায় ছিটপড়া রোগের বিস্তার ঘটেছে। এ কারণে ফলন এ বছর কম হয়েছে। এ বছর পেয়ারা চাষিরা যাতে তি কাটিয়ে উঠতে পারেন এ জন্য তাদের বিনামূল্যে উপকরণ (বীজ, সার, কীটনাশক) সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা জানান,তবে বিশেষ কোনো প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। অপরদিকে ভাসমান পেয়ারা হাট দেখতে বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে।কিন্তু এ বছর মহামারি করোনার কারণে দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সবদিক থেকেই জনশূন্য থাকবে ভাসমান পেয়ারার হাট। তাই বড় ধরনের তির মুখে পড়তে হবে কৃষকদের। লোকসানের আশঙ্কায় চরম বিপর্যয়ের কারণে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন কয়েক হাজার পেয়ারা বাগানী কৃষক।


বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


বান্দরবানের লামায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় উত্তম কুমার বড়ুয়া (৩৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চম্পাতলী এলাকার প্রমোদ বড়ুয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উত্তম কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিষয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে। বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) রেজুয়ানুল ইসলাম বার্তাবাজারকে বলেন, ‘ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন সব বলা যাচ্ছে না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।’ প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২১ মে ) সন্ধ্যায় লামা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চম্পাতলী এলাকার কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের ঘর থেকে মাসহ দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন- নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৪০) বড় মেয়ে রাফি (১৩) ও ছোট মেয়ে নুরি (১০ মাস)। ঘটনার পরদিন শনিবার নিহতের মা লালমতি খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই ঘটনায় সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া নিহতের দেবর, বোনসহ ছয়জনকে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
_