রবিবার-২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৮:৩৭

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ লালপুরে নতুন করে একদিনে আরো ৫৮ জন করোনায় আক্রান্ত! শিবগঞ্জে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রয় শুরু  ডোমারে খোলা বাজারে ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ের শুভ উদ্বোধন। পার্বতীপুরে খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি শুরু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে ওএমএস’র বিশেষ কার্যক্রম উদ্বোধন করোনার টিকা নিতে ১ কোটি সাড়ে ১৮ লাখ মানুষের নিবন্ধন

‘ভাগ্যরাজ’কে দিয়ে ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন ট্রলি চালকের

প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ভাগ্যরাজে’র বয়স যখন এক বছর ১০ মাস। তখন তাকে ক্রয় করেছিলেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় চন্ডিগড় ইউনিয়নে চন্ডিগড় গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে হ্যান্ড ট্রলি চালক আজিজুল হক। মাত্র ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একই ইউনিয়নের মউ গ্রামের সিরাজ আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেন এই ষাঁড় বাছুরটিকে।

প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মাস নিজের দুই সন্তানের পাশাপাশি তৃতীয় সন্তানের মতো লালন-পালন করে বাছুর থেকে বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরুতে পরিণত করেছেন। বিশাল আকৃতির এ ষাঁড়টির খ্যাতি এখন উপজেলাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর নাম ছড়িয়ে পড়েছে জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত।

‘ভাগ্যরাজ’কে দেখতে ঢাকা থেকেও লোকজন আসছেন। আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় শ’ খানেক দর্শনার্থী ভিড় জমান তার বাড়িতে। শান্ত প্রকৃতির ষাঁড়টি দর্শনাথীরা হাত দিয়ে গলায় ও শরীরে আদর করেন। সেও আদর পেয়ে নিজের মাথাও এগিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের নিকট।

এখানে সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরে গত ৫ জুন দুর্গাপুর উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন জাতের গবাদি পশুর ভেতরে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের নজরে পড়ে ‘ভাগ্যরাজ’র ওপর।

শুধু নজরে নয়, প্রদর্শনীতে নিজে প্রথম স্থানও দখল করেছে ‘ভাগ্যরাজ’। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে তিন হাজার টাকার চেক। সাথে পেয়েছে আসা যাওয়ার খরচসহ প্রয়োজনীয় ঔষধ।

আজিজুল হক একজন হ্যান্ড ট্রলি চালক। সম্পদের মধ্যে রয়েছে তার বসত ভিটে। দৈনিক উপার্জন করেন নিজের হ্যান্ড ট্রলি চালিয়ে। তার নিজের চাষাবাদের নেই কৃষি জমি। সংসারে রয়েছে তার স্ত্রী সাহেদা খাতুন, স্থানীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় পড়ুয়া সাত বছরের ছোট ছেলে মাহি হাসান। তার বড় ছেলে সোহাগ (১৮) পেশায় টাইলস মিস্ত্রী। দৈনিক আয়ের একটি অংশ সন্তানদের পাশাপাশি ব্যয় করেন ‘ভাগ্যরাজ্যে’র পেছনেও।

দৈনিক আট থেকে ১০ কেজি ভূষি, এক-দেড় কেজি চালের কুড়া, আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এক-দুই হালি কলা, ইসবগুল, খৈলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেন তৃতীয় সন্তান হিসেবে স্থান পাওয়া ষাঁড়টিকে। ১০ হাজার টাকার খড় কিনলে ‘ভাগ্যরাজে’র চলে যায় ছয় মাস।

‘ভাগ্যরাজে’র এসব খাবারের পেছনে আজিজুর হকের প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ-ছয়শত টাকা খরচ হয়। নিজ সন্তানের মতো ভালবেসে খরচও করেন তিনি। এ খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধতা নয়। আরামের জন্য গাঁয়ে গরম যাতে না লাগে সেজন্য তিনি বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা করেছেন ষাঁড়টির জন্য।

সুস্থ রাখতে ‘ভাগ্যরাজ্যে’র গোসলের জন্য বাড়ির টিউবওয়েলে স্থাপন করেছেন বৈদুতিক মটর। ‘ভাগ্যরাজে’র ওপর সন্তান আদরের চেয়ে কোন অংশে কম করেননি এর মালিক। সব মিলিয়ে এর পিছনে খাবার ও চিকিৎসা বাবদ গত ১৫ থেকে ১৬ মাসে খরচও করে ফেলেছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো।

আজিজুল ও তার স্ত্রী সারাদিন ষাঁড়টিকে নিজ সন্তানের মতই লালন-পালন করে থাকেন। তাদের একই গ্রামের প্রতিবেশি হানিফ মিয়ার মতে নিজ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাঁড় গরু ‘ভাগ্যরাজ’।

আজিজুল হক দিনের বেলায় হ্যান্ড ট্রলি নিয়ে বাড়ি থেকে সকালে বের হন। তার স্ত্রী সাহেদা খাতুন দিনের বেলায় সংসারের যাবতীয় কাজের পাশাপাশি ‘ভাগ্যরাজ’কে খাবার দেয়া, গোসল করানো, গরম-ঠান্ডা তারতম্যের জন্য সময় মতো বৈদুতিক পাখার সুইচ বন্ধ ও চালু করতে হয় সাহেদাকেই। সারাদিন পরিশ্রম করে তার স্বামী রাতে খাবার খেয়ে ষাঁড়টিকে রাতে খাবারসহ সার্বিক পরিচর্যায় রাত ১১-১২টা পর্যন্ত জেগে থাকেন।

ষাঁড়টির চিকিৎসার জন্যে মাঝে মধ্যে দুর্গাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা এবিএম আব্দুল রউফের শরনাপন্ন হন। মাঝে মধ্যে ওই কর্মকর্তা তার বাড়িতে গিয়ে ষাঁড়টিকে দেখেন ও বিভিন্নভাবে পরামর্শসহ কারিগরী সহায়তা দেন এবং টিকা ও ভ্যাকসিন সরবরাহ করেন। ষাঁড়টি বড় হলে এ কর্মকর্তার নজরে আসে এবং প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনীতে ‘ভাগ্যরাজ’কে আনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

আজিজুল হক যখন বাছুরটিকে কিনে ছিলেন। তখন থেকে তিনি মনের ভেতরে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন বুনতে থাকেন এবং সে অনুযায়ী নামও নির্ধারণ করেন ‘ভাগ্যরাজ’। ভাবতে থাকেন একে বড় করে বিশাল ষাঁড়ে পরিণত করবেন। দিনে দিনে তার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে থাকে।

স্বপ্ন আরও দেখতে থাকেন বড় পরিসরে গরুর খামার করার। আসন্ন কোরবানী ঈদে বিক্রি করে পরবর্তীতে একাধিক বাছুর ক্রয় করার। সৃষ্টিকর্তা সহায় থাকলে ‘ভাগ্যরাজে’র মাধ্যমে তার স্বপ্ন সফল হতে পারে এই আশাও করেন তিনি।

এরইমধ্যে ঢাকার আশুলিয়ার এক গরুর খামার থেকে চারজনের একটি দল তার ‘ভাগ্যরাজ’কে দেখে খুব প্রশংসা করে গেছেন। প্রায় সময়ই ঢাকা থেকে গরুর ব্যাপারি আসছেন দেখতে। তারাও দেখে বলে যান সামনের ঈদের এর দরদাম করবে।

আজিজুল হক ‘ভাগ্যরাজ’কে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে চান না। তিনি ও তার স্ত্রী উভয়েরই ইচ্ছা একে বাড়িতেই বিক্রি করে দেয়ার আসন্ন ঈদে। আজিজুল হক মনে প্রাণে আশা করেছেন তার ‘ভাগ্যরাজ’ ১০-১২ লাখে বিক্রি করতে পারবেন।


ঢাকা,রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_