বুধবার-২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-রাত ৮:৪৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ টস জিতে ব্যাটিংয়ে হায়দরাবাদ টিকার জন্য ১১ কোটি সিরিঞ্জ কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন শিগগিরই আইপি টিভির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে ট্রেন চলবে আগামী বছর ডিসেম্বরে : রেলমন্ত্রী ফরাসি মিডিয়ার রোষানলে মেসি করোনায় আরও ৩৬ মৃত্যু, শনাক্ত ১,৩৭৬ সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত

মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন : ১১ জুলাই, ১৯৭১

প্রকাশ: রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১ , ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা নিয়ে ‌’মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন’ নামের এই আয়োজন।

 

এবিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম পাঠকদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে (১১ জুলাই) ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হল-

 

  • মুজিবনগরে ১১ জুলাই পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিবাহিনীর সেক্টর অধিনায়কদের প্রথম সম্মেলন শুরু হয়। সাত দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
  • সভার শুরুতে সেক্টর অধিনায়কদের মধ্যে কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধে নতুন নেতৃত্ব বা কমান্ড কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব রাখেন। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ওয়ার কাউন্সিলে সাতজন সামরিক সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়। সেক্টর অধিনায়কদের কয়েকজন এ প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন, খালেদ মোশাররফ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এবং সি আর দত্ত নিরপেক্ষ থাকেন। ওয়ার কাউন্সিলের প্রস্তাবকে ওসমানী তাঁর নেতৃত্বের জন্য হুমকি মনে করে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সভা থেকে বেরিয়ে যান। এতে সম্মেলনে কার্যক্রম কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত থাকে।
  • খালেদ মোশাররফ ওয়ার কাউন্সিল গঠনের বিরোধিতা করে বলেন, এই কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি থেকে অপসারণের যেকোনো প্রচেষ্টা তিনি সর্বতোভাবে প্রতিরোধ করবেন। প্রধানমন্ত্রী সভা থেকে বেরিয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করানোর জন্য ওসমানীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। ওয়ার কাউন্সিলের প্রস্তাবকেরা ওসমানীর পদত্যাগ, তাঁর প্রতি সরকার প্রধানের সমর্থন এবং সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি—এসব বিবেচনা করে তাঁদের অবস্থান থেকে পিছিয়ে যান।
  • সম্মেলনের কার্যক্রম প্রথম দিন স্থগিত থাকে। পরে এ নিয়ে আর আলোচনা হয়নি। ওসমানীর পদত্যাগপত্রও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেননি।
  • সম্মেলনে সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এম এ জি ওসমানী, এ কে খন্দকার, এম এ রব, এম কে বাশার, কাজী নূরুজ্জামান, সি আর দত্ত, জিয়াউর রহমান, কে এম সফিউল্লাহ, খালেদ মোশাররফ, মীর শওকত আলী, আবু ওসমান চৌধুরী, নাজমুল হক, এ আর আজম চৌধুরী, এম এ জলিল, রফিকুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম।
  • ১১ জুলাই নিউইয়র্কে ঘোষণা করা হয়, বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্যার্থে ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনসে একটি কনসার্ট করতে রাজি হয়েছেন। বিটলসের জনপ্রিয় গায়ক জর্জ হ্যারিসন ভারতের প্রখ্যাত সেতারবাদক রবিশঙ্করের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে কনসার্টের আয়োজন করছেন। অনুষ্ঠান থেকে আয় করা অর্থ বাংলাদেশের শরণার্থী, বিশেষত শিশুদের জন্য জাতিসংঘের তহবিলে দেওয়া হবে। জর্জ হ্যারিসন আর রবিশঙ্কর ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী যোগ দেবেন।
  • লন্ডনের সানডে টাইমস এই দিন বাংলাদেশ নিয়ে পুরো পাতার নিবন্ধ প্রকাশ করে। নিবন্ধে বলা হয়, ‘পূর্ববঙ্গ শান্ত’ পাকিস্তানের এই দাবি অসত্য। মারে শেলির লেখা সে রিপোর্টে বলা হয়, শরণার্থীদের ছেড়ে যাওয়া একটি এলাকায় তিনি ঘুরে দেখেছেন। সেখানে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাবাহিনী হিন্দু ও মুসলমানদের নির্বিচার গুলি করে মেরেছে। তিনি পাকিস্তানি একটি শরণার্থী শিবিরেও গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো লোক ছিল না।
  • ভারতের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী আর কে খাদিলকর কলকাতায় রাজভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, পৃথিবীর সব বড় শক্তিই ভারত-পাকিস্তান শক্তিসাম্য রক্ষা করতে চায়। ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে পাকিস্তান হঠকারীর মতো ভারতকে আক্রমণ করে বসতে পারে। বিষয়টি ভারত সতর্কতার সঙ্গে বিচার–বিবেচনা করে দেখছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এখনো যথেষ্ট নয়। সে কারণে ভারত এখনই প্রসঙ্গটি জাতিসংঘে নিয়ে যেতে চায় না।
  • ভারতে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত উজামা জয়পুরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত সরকার যে মনোভাব গ্রহণ করেছে, তা খুবই ঠিক। বহু মিত্রদেশ তা সমর্থন করে।
  • উত্তরাঞ্চলের রাজশাহীতে মুক্তিবাহিনীর একটি গেরিলা দল খুব সকালে নওহাটায় ছোট বিমান অবতরণ ক্ষেত্রে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে দুটি পাকিস্তানি হেলিকপ্টার ছিল। গেরিলারা গ্রেনেড নিক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টার দুটির পাইলট ইঞ্জিন চালু করে বিমান অবতরণক্ষেত্র থেকে চলে যান। কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হয়।
  • মুক্তিবাহিনীর আরেকটি গেরিলা দল কুমিল্লার মিয়াবাজার এলাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দলকে অ্যামবুশ করে। এরপর দুই পক্ষে চার ঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধে পাকিস্তানিদের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
  • খুলনা জেলায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে পাইকগাছা থানার কপিলমুনির রাজাকার ঘাঁটিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়।
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিবাহিনীর শালদা নদী অবস্থানের ওপর পাকিস্তানি বাহিনী ভারী কামান ও মর্টারের সাহায্যে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুজন মুক্তিযোদ্ধা তাজুল মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক মারাত্মকভাবে আহত হন। এ ছাড়া দুজন বেসামরিক লোক নিহত ও আটজন বেসামরিক লোক আহত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস, সেক্টর দুই, সাত ও নয়; ইত্তেফাক, ১২ ও ১৩ জুলাই ১৯৭১; আনন্দবাজার পত্রিকা ও যুগান্তর, ভারত, ১২ ও ১৩ জুলাই ১৯৭১।


মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_