রবিবার-২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-সন্ধ্যা ৬:০০

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ ডোমারে খোলা বাজারে ওএমএস এর চাল ও আটা বিক্রয়ের শুভ উদ্বোধন। পার্বতীপুরে খোলা বাজারে চাল-আটা বিক্রি শুরু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে জায়গা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামে ওএমএস’র বিশেষ কার্যক্রম উদ্বোধন করোনার টিকা নিতে ১ কোটি সাড়ে ১৮ লাখ মানুষের নিবন্ধন টানা ৬ দিন বন্ধের পর আজ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু দিনাজপুরে ১৩টি উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে আমন চার্ষীরা বিপাকে পড়েছে ॥

‘হিরো আলমের মতো এত বড় গরু আর দেখি নাই’!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ , ১:০০ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে মানুষকে বিনোদন দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তিত্ব হিরো আলম। সারা দেশেই তিনি আলোচিত নাম। সেই হিরো আলমের নামেই রাখা হয়েছে ফ্রিজিয়ান জাতের ৩১ মন ওজনের ষাঁড়ের নাম। ষাঁড়টি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের প্রবাসী কামরুজ্জামানের স্ত্রী জয়নব বেগমের খামারের।

এই হিরো আলমের বয়স প্রায় চার বছর। লম্বায় সাড়ে আট ফিট। উচ্চতা পাঁচ ফিট সাত ইঞ্চি। গরুটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।

হিরো আলমের মালিক জয়নব বেগম জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গরুর খামার করেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য তিনটি গরু প্রস্তুত  করেছেন। তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বড় ষাঁড়টির নাম হিরো আলম। এর ওজন প্রায় ৩১ মণ। ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি তিনি প্রায় দেড় বছর আগে পাবনা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কেনেন। এরপর ষাঁড়টির নামক করা হয় আলোচনার শীর্ষে থাকা হিরো আলমের নামে। এমন নাম রাখায় লোকজন প্রতিদিনই ষাঁড়টি দেখতে আসেন।

তিনি জানান, হিরো আলমকে এবার ঢাকার অন্যতম গাবতলীর হাটে বিক্রির জন্য ওঠান হবে। ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা। গরুটিকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে।

গরুর নামকরণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেকেই গরুর নাম রাখে- ‘সাকিব খান, ডিপজল, সুলতান, সিনবাদ, মানিক, রতন, রাজা-বাদশা, খোকাবাবু ইত্যাদি। তাই আমিও তাদের মতো আমার গরুর নাম রেখেছি হিরো আলম। হিরো আলম এখন অনেক জনপ্রিয় নাম তাই তার নামেই নামকরণ করেছি।

হিরো আলম উপজেলার সব চেয়ে বড় গরু বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় মোস্তফা কামাল জানান, হিরো আলমের মতো এত বড় গরু আমাদের এই এলাকায় আরেকটিও নাই। হিরো আলমকে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। এত বড় গরু দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। ভবিষ্যতে আমরার চেষ্টা করব গরুর খামার করতে।

স্থানীয় ডলার মিয়া জানান, হিরো আলমের মতো এত বড় বড় গরু আমার জীবনে দেখি নাই। আমি এই গরু দেখে খুবই উৎসাহিত হচ্ছি। আমি ভবিষ্যতে চেষ্টা করব এমন একটি গরু পালন করতে।

জয়নব বেগমের স্বামী কামরুজ্জামান বলেন, গরু লালন-পালন করতে আমার খুব ভালো লাগে। প্রবাসে যাওয়ার আগে আমি নিজেই গরুর খামার করেছিলাম। আমি প্রবাসে থাকায় স্ত্রীকে দিয়ে প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য একাধিক গরু প্রস্তুত করি। গত বছর বিক্রি করা ষাঁড়টির নাম ছিল ‘সোনা বাবু’। সেটির ওজন ছিল প্রায় ৩৫ মণ। ঢাকার গাবতলীর হাটে সোনা বাবুর দাম ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্রেতারা বলেছিল। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে বাড়িতে ফেরত আনতে গিয়ে গাড়ি থেকে নামানোর সময় ওই ষাঁড়টির গা ভেঙে যায়। এরপর ষাঁড়টি তিন লাখ টাকায় বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয় তাকে। এবারও তিনটি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। হিরো আলম নামের গরুটি দেলদুয়ার উপজেলার সবচেয়ে বড়। তাকে এবার বিক্রি করা হবে। আমরা ষাঁড়টির দাম চাচ্ছি ১২ লাখ টাকা। তবে বর্তমানে দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে ষাঁড়টি বিক্রি ও ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত রয়েছেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনায়েত করিম বলেন, ‘নিয়মিত ষাঁড়টিকে দেখাশোনা করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে ষাঁড়টি লালন-পালন করছেন জয়নব বেগম। তার ষাঁড়টিই উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বড়।’

তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে কোরবানির পশু বিক্রি ও ন্যায্য মূল্য নিয়ে খামারিরা চিন্তিত রয়েছেন। আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির জন্য অ্যাপস তৈরি করেছি। ওই অ্যাপস-এর মাধ্যমে যে কেউ কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবেন।’

তিনি জানান, তবে এখন পর্যন্ত অ্যাপসে হিরো আলমের দরদাম হয়নি। হিরো আলম বিক্রিতে আমরাও জয়নব বেগমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।


অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_