মঙ্গলবার-২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-দুপুর ১২:২৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ছয় দফা সুপারিশ রাজারহাটে জলবায়ু ঝুকিপূর্ণ ফোকাস গ্রুপের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সুজানগরে বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ ও ৬ষ্ঠ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত আবারও বিয়ে করেছেন ইভা রহমান শ্রীমঙ্গলে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক ৭ আপ ৮ ডাউন এক জোড়া মেইল ট্রেন এখনো বন্ধ সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটের ।। লালপুরে ইমো প্রতারক চক্রের আরো ৬ সদস্য আটক

আদমদীঘিতে বাবুই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে

প্রকাশ: বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১ , ২:৪৪ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ
বাবুই পাখিকে নিয়ে কবি রজনী কান্ত সেন তার স্বাধীনতার সুখ কবিতায় লিখেছেন,‘‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়ই,কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কতো কষ্ট পাও রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে, বাবুই হাসিয়া কহে, সন্দেহ কি তায় ? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়। পাকা হোক তবু ভাই, পরেরও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা। কবির সেই চিরচেনা বাবুই পাখির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। বসবাস উপযোগী পরিবেশ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে শৈল্পিক বাসার কারিগর বাবুই পাখি। কালের বিবর্তনে বগুড়ার আদমদীঘিতে বাবুই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। তালগাছের পাতায় মোড়ানো নিপুণ কারুকার্য খচিত বাবুই পাখি ও তার বাসা আর আগের মতো দেখা মিলে না। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাবুই পাখির বাসা বিলীন হতে চলেছে। অথচ এক যুগ আগেও গ্রাম-গঞ্জের মাঠ-ঘাটের তালগাছে দেখা যেতো এদের বাসা। চমৎকার বাসা বুনে বাস করে বাবুই পাখি। এক সময় বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে গ্রাম বাংলার মানুষের সকাল বেলার ঘুম ভাঙতো। বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আর তাহয় না। সান্তাহার প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম আমবিয়া লুলু বলেন, এখন গ্রাম-গঞ্জেও আর আগের মতো চোখে পড়ে না বাবুই পাখি এবং তার তৈরি দৃষ্টিনন্দন বাসা। আষাঢ় মাস আসতে না আসতে কিচিরমিচির শব্দে মাঠে প্রান্তরে উড়ে উড়ে খড়কুটো সংগ্রহ করে তালগাছে বাসা বাঁধে বাবুই পাখি। বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত হয়। কথিত আছে বাবুই পাখি নিজের বাসা উজ্বল রাখতে রাতে জোনাকি পোকাধরে এনে বাসায় রাখে। এরা প্রতিটি তালগাছে প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি বাসা তৈরি করে। বাসা তৈরি করতে এদের সময় লাগে ১০-১২ দিন। তালপাতা, খড়-কুটা, ঝাউ, কাশবন ও লতাপাতা দিয়ে বাবুই পাখি উঁচু তালগাছে বাসা বাঁধে। প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখির শক্তবুননের এ বাসা টেনেও ছেড়া কঠিন। পুরুষ বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী করে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও ডোবার পানিতে গোসল করে গাছের ডালেডালে নেচে বেড়ায়। প্রজনন সময় ছাড়া অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে পিঠে তামাটে কালো দাগ হয়ে থাকে। আউশ ও আমন ক্ষেতের ধান পাকার সময় হলো বাবুই পাখির প্রজনন সময়। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং হয় গাঢ় বাদামি। প্রেমিক বাবুই পাখি যত প্রেমই দেখাক না কেন, প্রেমিকা ডিম দেওয়ার সাথে সাথেই প্রেমিক বাবুই আবার খুঁজতে থাকে নতুন সঙ্গী। পুরুষ বাবুই পাখি এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পরপরই বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য স্ত্রী বাবুই পাখি ক্ষেত থেকে দুধ ও ধান সংগ্রহ করে। বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, বিভিন্ন প্রজাতির পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু ও রেনু খেয়ে জীবনধারণ করে। পাখি প্রেমিক সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন জানিয়েছে, অসংখ্য প্রজাতির পশু, পাখি, কীট-পতঙ্গ আমাদের পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বাবুই পাখি বিচরণ ধরে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ সহঃ কর্মকর্তা মোঃ আকছার আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে অনেক প্রাণি হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক প্রাণি বিলুপ্তির পথে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরূপ প্রভাবেই এরা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে দেশের গ্রাম বাংলায় এখনো হঠাৎ করেই চোখে পড়ে বাবুই পাখির বাসা। যা আদমদীঘি উপজেলার কেসরতা গ্রামে দেখা যায়।


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_