রবিবার-১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-দুপুর ১২:৪৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ ব্রেন্টফোর্ডকে হারিয়ে শীর্ষে চেলসি কলাপাড়ায় হতদরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ। বার্নলিকে হারিয়ে জয়ে ফিরল ম্যান সিটি রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ম্যানইউকে হারাল লেস্টার ফিরমিনোর হ্যাটট্রিকে লিভারপুলের গোল উৎসব দেশে টিকা দেওয়া হয়েছে ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৭২ হাজার ডোজ মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৩ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে প্রতিমা তৈরীর মহোৎসব

প্রকাশ: রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১ , ১:৩২ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
দেশের হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূঁজাকে ঘিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে অতীতের তুলনায় বন্যা এবং করোনার প্রভাবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির খরচ বেশি পড়ছে। সেই তুলনায় প্রতিমার দাম কম হওয়ায় লোকসানের চিন্তায় প্রতিমা কারিগররা। প্রণোদনা কিংবা স্বল্প সুদে ঋণ পেলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে এই শিল্পে নিয়োজিত মৃৎ শিল্পীরা।
চলতি বছর জেলার ৯টি উপজেলায়-৫৫৪টি মন্ডপে পূঁজোর আয়োজনের কার্যক্রম চলছে। জেলায় অর্ধ শতাধিকেরও বেশি কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। গেল কয়েক বছরের তুলনায় এবারে চাহিদাও কমে গেছে। ফলে হতাশ প্রতিমা শিল্পীরা। তাই বলে থেমে নেই প্রতিমা তৈরীর কাজ। লোকসান হলেও বাপ-দাদার পেশায় আঁকড়ে থাকা মানুষ গুলো লেগে আছে প্রতিমা তৈরীর কাজে। এখানে জেলা ছাড়াও রংপুর,লালমনিরটহাট এবং গাইবান্ধা জেলা থেকে আসেন হিন্দু ধর্মালম্বরা প্রতিমা কিনতে।
রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজারের প্রতিমা তৈরির কারিগর বিরান মালাকার বলেন, একটি করে প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে কমপক্ষে ৩মাস। ছোট প্রতিমা তৈরি করতে ৭/৮হাজার টাকা এবং বড় প্রতিমা ১৫/১৮হাজার টাকা খরচ হয়। পুঁজো উপক্ষ্যে আমি ১৫টি প্রতিমা তৈরি করেছি। কিন্তু বিক্রি তেমন নেই। যে গুলো প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে সেগুলো দু’এক হাজার লাভে ছাড়তে হচ্ছে। পরিশ্রম অনুযায়ী এবার প্রতিমা তৈরিতে লোকসান যাচ্ছে।
একই এলাকা প্রতিমা তৈরির কারিগর অজেয় রায় বলেন,কুড়িগ্রামের সব থেকে বড় প্রতিমার হাট এই বৈদ্যের বাজার। আমি ৮টি প্রতিমা তৈরি করেছি। শুধু কুড়িগ্রাম নয় রংপুর,লালমনিরহাট,রংপুর,কাউনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিমা নিতে আসে মানুষ। বৃষ্টি,বন্যা আর করোনার কারণে উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা লোকসানে পড়তে হবে কারিগরদের। সরকার যদি পিছিয়ে পরা প্রতিমা শিল্পীদের জন্য স্বল্প সূদে ঋণ বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে কিছুটা ক্ষতি সামাল দেয়া যেতো।
কাউনিয়া থেকে আসা প্রতিমা ক্রেতা সঞ্জিব রায় বলেন, প্রতিবছর কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিমা নিয়ে যাই। এখানকার প্রতিমা গুলো বেশ ভালো। দাম দর মিললে ২টি প্রতিমা নিয়ে যাবো। কয়েক বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার কিছুটা দাম কম মনে হচ্ছে।
পুঁজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবি বোস বলেন,পূঁজোর শেষ প্রস্তুতি চলছে। এই শিল্পে নিয়োজিতরা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে। করোনাকালিন তারা কোন সহযোগিতা পাননি। ব্যাংক থেকেও তাদেরকে কোন ঋণ দেয়া হয় না। কিংবা কোন বেসরকারি সংস্থাও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। সরকারকের কাছে আমাদের অনুরোধ এই শিল্পে নিয়োজিতদের আর্থিক প্রণোদনাসহ অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে স্বাবলম্বি করতে সহযোগিতা করবে।
ফুলবাড়ি উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বাসিন্দা শিল্পি রাণী বলেন,দূর্গা পূঁজা আমাদের হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে এবারের উৎসব নিয়ে কিছুটা চিন্তিত আমরা। বিশে^ শান্তি-শৃংখলা বয়ে আনুক এই পূঁজোয়।
সরকারি হিসেব মতে,কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায়-৫৫৪টি মন্ডপে এবারে পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম সদরে-৮৭টি, ফুলবাড়ি-৬৯টি,রাজারহাটে-১২৮টি, ভূরুঙ্গামারী-২০টি, নাগেশ^রী-৯০টি, রৌমারী-৭টি,উলিপুরে-১১৯টি, চিলমারী-৩২টি এবং রাজিবপুরে-২টি মন্ডপ রয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন,আইন শৃংখলা বাহিনী সার্বক্ষনিক পূঁজা উদযাপন কমিটির সাথে যোগাযোগ রাখছে। যে কোন ধরনের সমস্যা হলে সেটা দ্রুত সমাধান করা যায়। এছাড়াও মন্ডপ গুলোতে তাদেরকে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। যেন বিদ্যুত চলে গেলেও সমস্যা না পড়েন। অপরদিকে মন্ডপ গুলোতে আধুনিক গান না বাজিয়ে তাদের ধর্মীয় গান বাজিয়ে আরতি উদযাপন করতে বলা হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনে শহরে বিকল্প পথ রাখা হয়েছে। আমরা আইনশৃংখলা বাহিনী মোবাইল টিমসহ সচেষ্ট রয়েছি তারা যেন শান্তিপূর্ণ,নির্বিঘেœ পুঁজো উদযাপন করতে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কোভিড কালিন সময় ও বিভিন্ন দুর্যোগের সময় তাদের সমস্যা গুলো আমরা শুনেছি। তাদেরকে গ্রুপ ভিত্তিক এখানে আসতে বলা হয়েছে। যাতে ব্যাংক থেকে যে সকল প্রণোদনা আছে এবং অন্যান্য লোন কার্যক্রম রয়েছে। সেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গুলো আমরা নিবো এবং তাদের পাশে দাঁড়াবো।


ঢাকা,বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_