তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

পৌরসভা আইনে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে

  • প্রকাশ সোমবার, ৪ অক্টোবর, ২০২১, ১.২৭ পিএম
  • ৩৭ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বাংলাদেশের পৌরসভা পরিচালনায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনে আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ।
সোমবার বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সভায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

 

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে অনুমোদনের তথ্য জানান। বাংলাদেশে সর্বশেষ পৌরসভা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল ২০০৯ সালে।

আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে

 

এতোদিন পৌর মেয়রদের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যেতেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই তাদের দায়িত্ব ছাড়তে হবে।

 

নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব ছাড়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত প্রশাসক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন অফিসার বা সরকার নির্ধারিত কোন ব্যক্তি হতে পারেন। প্রশাসক ছয়মাসের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

এর আগে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও পৌরসভার ক্ষেত্রে এসব বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান যুক্ত করা হল।

 

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হলে সেই পৌরসভা বাতিল করা হবে।

 

এতদিন পৌরসভা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে দেড় হাজার মানুষের বসবাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশোধিত খসড়ায় সেটা দুই হাজার করা হয়েছে।

 

এছাড়া পৌরসভার সচিব পদের নাম পরিবর্তন করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা করা হচ্ছে। কোন ইউনিয়ন পরিষদকে যদি পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়, সেখানে যদি কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, তার দায়িত্ব যদি পৌরসভার অর্গানোগ্রামে উপযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।

 

কেন এসব পরিবর্তন

 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ”এর আগে আইনে ছিল, পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ওই কমিটি বা ওই চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকবেন। এর ফলে দেখা গেছে, অনেক জায়গাতে পাঁচ বছর পরে বিভিন্ন ইস্যুতে চেয়ারম্যান সাহেবরা বা বিভিন্ন লোক মামলা মোকদ্দমা করে ১৫ বছর, ১৬ বছর, ১২ বছর ধরে চেয়ারম্যান থেকে যাচ্ছেন। যেহেতু আইনে কিছু পরিষ্কার ছিল না, সেজন্য কিছু করা যাচ্ছিল না।”

 

এটা নিয়ে এর আগেও মন্ত্রিসভাতেও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই আইনটি সংসদে পাস হওয়ার পর এখনো মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভা যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের অপসারণে আর বাধা থাকবে না।

 

বিশেষ খাতকে অত্যাবশ্যক ঘোষণার বিধান

 

অত্যাবশ্যক পরিষেবা আইন ২০২১ নামের আরেকটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা।
এসেনশিয়াল সার্ভিসেস অ্যাক্ট ১৯৫২ এবং এসেনশিয়াল সার্ভিসেস সেকেন্ড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৮ মিলিয়ে নতুন আইনটি করা হয়েছে।

 

এই আইনটি সংসদে পাস হলে সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘোষণা করতে পারবে যে, এই এই খাত অত্যাবশ্যকীয় বিভাগ, এখানে ধর্মঘট করা যাবে না। মালিকরা লে অফও করতে পারবেন না। যদি কেউ করেন, তাহলে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

 

অত্যাবশ্যক বলতে, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইন্টারনেট, ডিজিটাল সেবা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবাহের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে, জল, স্থল বা আকাশপথে যাত্রী পরিবহন, বিমানবন্দর, স্থল বন্দর, নদী বন্দর পরিচালনা, কাস্টমসের মাধ্যমে পণ্য ছাড় করণ, প্রতিরক্ষা বা সশস্ত্র বাহিনীর কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহের সাথে সম্পৃক্ত কার্যক্রম ইত্যাদি বোঝাবে।

 

সরকার ছয়মাসের জন্য এসব খাতকে অত্যাবশ্যকীয় বলে ঘোষণা করতে পারবে। তখন সেখানে ধর্মঘট, লেঅফ বা কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না।

 

কেউ সেটি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার বা ৫০ হাজার অথবা ৬ মাসের কারাদণ্ড হবে। মালিকদের ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা জরিমানা বা এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

 

এবিএন

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam