রবিবার-৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-সকাল ৬:৫৯

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ বঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করা উচিত : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আগামীকাল থেকে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু রাজনগরে অপহৃত এক শিশুকে সিলেট থেকে উদ্ধার ক্যাটরিনার বিয়েতে দাওয়াত পাননি সালমান-রণবীর! নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ দল ঘোষণা গুরুতর আহত প্রিয়াঙ্কা শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে শিবগঞ্জের অভিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শিক্ষার্থীদের ‘ইউনিক আইডি’ কতদূর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১ , ৩:০১ অপরাহ্ণ , বিভাগ :

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: অভিন্ন পরিচয়পত্র বা ইউনিক আইডি। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন এ পরিচয়পত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো চলছে এর কার্যক্রম। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ইউনিক আইডি ফরম পূরণে পড়ছেন নানা জটিলতায়। অভিভাবকদের মনে এ বিষয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছে নতুন একটি পরিচয়ের আশায়।

কেন তৈরি করা হচ্ছে ইউনিক আইডি

ইউনিক আইডির প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মৌলিক ও শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এক জায়গায় রাখার জন্য ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে। অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় বর্তমানে কোনো শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করছে। আর যারা ১৮ বছরের ওপরে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) আছে। এই দুই স্তরে পরিচয় ও সনাক্তের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু মাঝখানে বাদ পড়ে যাচ্ছে প্রি-প্রাইমারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচের প্রায় সাড়ে তিন কোটি শিক্ষার্থী। এদের আইডেন্টিফিকেশনের আওতায় আনার জন্যই ইউনিক আইডি তৈরি করা হচ্ছে।

ইউনিক আইডি যে বিষয়ে ব্যবহার হবে

একজন শিক্ষার্থীর সমস্ত প্রকার সেবা যেমন বই নেয়া থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ, রেজিস্ট্রেশন, বৃত্তি, উপবৃত্তির অর্থ নেয়া অর্থাৎ যত ধরনের নাগরিক সেবা আছে সবই দেয়া হবে এই আইডির মাধ্যমে। আর যখন শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে এই ইউনিক আইডিই জাতীয় পরিচয়পত্রে রূপান্তর করবে।’

এ বিষয়ে ইউনিক আইডি প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীরা কোন স্কুলে পড়ছে, ঝড়ে পড়ল কি না? চাকরি পেল কি না ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য এই আইডির মধ্যে সংরক্ষিত থাকবে।

উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় সঠিক তথ্য না থাকায় চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণ বই ছাপানো হয়। এর ফলে সরকারে আর্থিক ক্ষতি হয়। কিন্তু যখন ইউনিক আইডি তৈরি হয়ে যাবে, তখন কোনো ডুপ্লিকেট শিক্ষার্থী থাকবে না। কারণ তখন শিক্ষার্থীর সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে থাকবে।’

ফরমে যেসব তথ্য দিতে হয়

স্ট্যাবলিশমেন্ট অফ ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশনাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইইআইএমএস) প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা চার পৃষ্ঠার ফরমে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফরমে শিক্ষার্থীর নাম, জন্মনিবন্ধন নম্বর, জন্মস্থান, জেন্ডার, জাতীয়তা, ধর্ম, অধ্যয়নরত শ্রেণি, রোল নম্বর, বৈবাহিক অবস্থা, প্রতিবন্ধিতা (ডিজঅ্যাবিলিটি), রক্তের গ্রুপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কি না, মা-বাবার নামসহ বেশ কিছু তথ্য ঘর রয়েছে। বৈবাহিক অবস্থার অপশন হিসেবে অবিবাহিত, বিবাহিত, বিধবা, বিপত্নীক ছাড়াও স্বামী-স্ত্রী পৃথক বসবাস, তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহবিচ্ছেদের ঘরও রয়েছে ফরমে।

কীভাবে ভুল সংশোধন করা হবে

ইউনিক আইডির তথ্য ভুল হলে তা সংশোধনের কোনো সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থী এবং বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে আমরা বেশির ভাগ তথ্য নেব। সেখানে যদি কোনো ভুল থাকে তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। সংশোধন করতে হলে আগে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র ঠিক করতে হবে।’

তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

ইউনিক আইডির ফরমে যেসব তথ্য শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন তা যেন কোনো ভাবেই অন্যের হাতে না যায় তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তথ্য সুরক্ষায় আমরা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি। তথ্য সুরক্ষায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথাও জানান তিনি।

জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তি

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ভোগান্তি চরমে। কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের জাতীয় পত্র নিচ্ছে আবার কোথাও জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন চাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ এনআইডি থাকলে কেন জন্মনিবন্ধন লাগবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক শামসুল আলম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এখন জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সমস্যা হলো জন্মনিবন্ধনের কোনটা ম্যানুয়াল কোনটা ডিজিটাল। যেসব শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন ম্যানুয়াল, তাদের ডিজিটাল অর্থাৎ অনলাইনে এন্ট্রি দেয়া জন্মনিবন্ধন লাগবে। কারণ ইউনিক আইডি দেয়ার অন্যতম শর্ত হলো শিক্ষার্থীর বাবা-মার জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিল থাকতে হবে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো পাঠাব অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে। তারপর সেখান থেকে যাবে নির্বাচন কমিশনে। এরপর তারা ইউনিক আইডি তৈরি করবে। এটাই সিস্টেম। এ জন্য কোনো শিক্ষার্থীর যদি অনলাইন জন্মনিবন্ধন না থাকে তাহলে সে ইউনিক আইডি পাবে না।’

অনলাইনে জন্মনিবন্ধন

অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করতে কিছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক নানা ভোগান্তিতে পড়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, জন্মনিন্ধন অনলাইনে এন্ট্রি দেয়ার জন্য অফিস অফ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে অনেক আগেই অফিস আদেশ জারি করেছে। শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধনে বাবা-মার জন্মনিবন্ধন কেন প্রয়োজন হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করতে গেলে শিক্ষার্থীর বাবা-মার জন্মনিবন্ধন আগে করে নিতে হবে। এটা জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন-২০১৯ অনুযায়ী করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা ইউনিক আইডি পাবে কবে?

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হবে ইউনিক আইডি। প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর শেষ হবে ইউনিক আইডির ফরম পূরণের কার্যক্রম। এরপর ডাটা এন্ট্রি দেয়া হবে। আশা করছি, আগামী বছরের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে ১ কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দেয়া সম্ভব হবে। তবে এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ডিসেম্বরে আমরা কিছু উপজেলায় ইউনিক আইডি বিতরণের পরিকল্পনা করছি।’

প্রাথমিকে যে অবস্থা

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক আইডির ডাটা এন্ট্রির সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগামী মাস থেকে ডাটা এন্ট্রি দেয়া শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তৈরি হবে ২ কোটির বেশি ইউনিক আইডি।

এ বিষয়ে প্রাথমিকের ইউনিক আইডির প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল আলম প্রধান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি তৈরির জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী মাস থেকে সফটওয়্যারে ডাটা এন্ট্রি শুরু হবে। এ জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল


শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_