তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
সদ্য সংবাদ :
মৌলভীবাজারে পানিবন্দি মানুষকে ঈদ উপহার একাটুনা ইউনিয়ন উন্নয়নে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে মাদকসহ তিন চোরাকারবারী আটক ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৩ ছিনতাইকারিকে পুলিশে সোপর্দ ২টি সিএনজি আটক নিরাপদ ও টেকসই পোল্ট্রি উৎপাদনে সবধরনের সহায়তা দেবে সরকার -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আদমদীঘিতে ৪ দিন ব্যাপী মাছ চাষ ও খাদ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষনের উদ্ধোধন শ্রীমঙ্গলে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্টানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা জয়-পুতুলকে নিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে প্রধানমন্ত্রী সুবর্ণচরে ফের ৪ রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীকে আটক করল স্থানীয়রা ঢাবির ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পাশের হার ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ

সৈয়দপুরে ধান ক্ষেতে মাজরা পোকা, কারেন্ট পোকা ও পঁচানী রোগে কৃষক দিশেহারা \ কৃষি বিভাগ নির্বিকার

  • প্রকাশ সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ৯.৫৭ এএম
  • ৩৯ বার ভিউ হয়েছে
মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি \
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলতি আমন আবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। ধানের ক্ষেতে একের পর এক পোকা ও রোগের আক্রমনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে মাজরা ও কারেন্ট পোকায় আক্রান্ত হয়ে ধানগাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ফলন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে ¯’ানীয় কীটনাশক দোকানদারদের পরামর্শে ধান রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যা”েছন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ ফাইলেরিয়া হাসপাতাল সংলগ্ন কৃষি মাঠে একের পর এক জমিতে মাজরা পোকার আক্রমনে ফলন্ত ধানের শীষগুলো সাদাবর্ণ ধারণ করেছে এবং দানা নষ্ট হয়ে গেছে। জমির প্রায় এক তৃতীয়াংশ ধানগাছ এভাবে আক্রান্ত হয়েছে। যারা দ্রæত ব্যব¯’া নিয়েছে তাদের ফসল কিছুটা রক্ষা পেলেও অনেকের ক্ষেত প্রায় পুরোটাই নষ্ট হওয়ার পথে।
ধলাগাছ সর্দারপাড়ার কৃষক মোঃ সামসুল হক (৪৫), পিতা- মৃত মনির উদ্দিন এসময় তার জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতেছিলেন। তিনি জানান, আমি চলতি বছর প্রায় ৪ বিঘা (২ একর ৪০ শতক) জমিতে স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা ধান আবাদ করেছেন। চারা রোপনের পর থেকে নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রথম দিকে কারেন্ট পোকার আক্রমন ঘটে। পরে পাতা মরা ও পঁচানী রোগ দেখা দেয়। এখন শুরু হয়েছে মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমন। তিনি বলেন, এবার যে হারে মাজরা পোকা ধরেছে, আগে কখনও এমনটা দেখা যায়নি। এই পোকার কারণে ধান গাছে ফলন্ত শীষগুলোর দানা নষ্ট হয়ে সাদা হয়ে পড়েছে। দ্রæত এ রোগ এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছড়িয়ে পড়ছে। বার বার ওষুধ দিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এত সমস্যায় থাকলেও আজবধি কৃষি বিভাগের কারও কোন সহযোগিতা পাইনি। এমনকি কামারপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার (বিএস) দেখাও পাইনি দীর্ঘ প্রায় ১ বছর যাবত। আগে বাসুদেব নামে যিনি বিএস ছিলেন তিনি মাঝে মাঝে পরিদর্শনে আসলেও বর্তমান বিএস আসাদুজ্জামান আশা কে পাওয়া যায়না। ফলে বাধ্য হয়ে ¯’ানী সার ও কীটনাশক দোকানদারদের পরামর্শ নিয়ে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছি।
একইভাবে অভিযোগ করেন সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়ার গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, ফাইলেরিয়া হাসপাতালের পূর্বপার্শে কামারপুুকুর ইউনিয়নে ২ একর জমিতে স্বর্ণা-৫ ধান আবাদ করেছি। রোপনের পর থেকে পঁচানী, কারেন্ট পোকা ও এখন মাজরা পোকার আক্রমনে ফসল ধ্বংসের মুখে। ফলন নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। কৃষি বিভাগের কারও কোন প্রকার সহায়তা বা পরামর্শ পাইনি। তারা কোন দিনই মাঠ পর্যায়ে আসেন না। ফলে কৃষকরা চরম সমস্যায় আছে।
কামারপুকুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) আসাদুজ্জামান আশার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদে অব¯’ান করছি। কিছুক্ষণ আগেই ধলাগাছ এলাকা পরিদর্শণ করে এসেছি। কোথাও তো মাজরা পোকার আক্রমন চোখে পড়েনি। তাছাড়া কোন কৃষকও তো এ ব্যাপারে জানায়নি। জানালে অবশ্যই মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসতাম।
মাঠের পর মাঠ মাজরা পোকার আক্রমনের কারণে পথচারীসহ সকলের দৃষ্টিতে আসলেও আপনারা দেখতে পান না কেন? আপনারা কি আদতেই মাঠে যান, না কি না গিয়েই কৃষকের খবরের অপেক্ষায় থাকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠে গিয়ে তো আর পরে থাকতে পারবোনা। কৃষকদের মোবাইল নম্বর দেয়া আছে তাদের সমস্যা হলে জানালেই তো হয়। সাংবাদিকদের ডেকে আনতে পারে আর আমাকে জানাতে পারেনা?
এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিএস কে জানানো হয় যে, কোন কৃষকই সাংবাদিকদের জানায়নি। বরং সাংবাদিকরা পথে যেতেই ধানের ক্ষেতের বেহাল দশা দেখে কৃষকদের খোজ নিয়েছেন। যা আপনাদেরই (বিএস) দায়িত্ব ছিল। দায়িত্ব পালন না করে উল্টো কৃষকদের দোষারোপ করা কি ঠিক হ”েছ প্রশ্ন করলে তিনি নিরুত্তর হয়ে পড়েন।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানা বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কৃষকরা যদি আমাদের না জানায় তাহলে তো তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব না। আমার কৃষি উপসহকারীরা মাঠেই অব¯’ান করছেন। এমনকি আমিও এ মুুহুর্তে মাঠে আছি। আমরা সর্বতভাবে চেষ্টা করছি কৃষকদের সমস্যা সমাধানের।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam