তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যে বিপাকে বিজেপি সরকার

  • প্রকাশ শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১, ৫.১৫ এএম
  • ৬৫ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতের ‘ভিক্ষা স্বাধীনতা’ মন্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এর প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।

কঙ্গনাকে দেওয়া পদ্মশ্রী সম্মাননা অবিলম্বে ফেরত নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সরকার পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে, যা সামাল দেওয়ার  বিষয়ে কেউ কূলকিনারা পাচ্ছেন না।

চারদিন আগে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ রাষ্ট্রপতি ভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে কঙ্গনার অসামান্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে পদ্মশ্রী সম্মাননা।

তা গ্রহণের পর শুক্রবার এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, ভারত স্বাধীন হয়েছে ২০১৪ সালে (নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতা গ্রহণের বছর)।

১৯৪৭ সালে পাওয়া স্বাধীনতা ছিল ‘ভিক্ষা’। এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দাবি, অবিলম্বে কঙ্গনাকে দেওয়া সম্মাননা প্রত্যাহার করা হোক। কোনো কোনো দলের নেতা তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও এনেছেন। এই সম্মিলিত দাবির মুখে শাসক দল বিজেপি ও সরকার বিব্রত বোধ করছে।

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা টুইট করে বলেছেন, এখনই কঙ্গনার পদ্মশ্রী খেতাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক। রাষ্ট্রপতিকে ট্যাগ করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের সম্মাননা অর্পণের আগে দেখা উচিত প্রাপক মানসিক দিক থেকে স্থিতিশীল কি না।

বিজেপি নেতা প্রবীণ শঙ্কর কাপুর হিন্দিতে টুইট করে লিখেছেন, ‘এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর ছেলে হিসেবে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের তরফে আমি কঙ্গনা রনৌত যে মন্তব্য করেছেন, ভারতকে স্বাধীনতা ভিক্ষা দেওয়া হয়েছিল, এটাকে স্বাধীনতার (বাক-স্বাধীনতার) সবচেয়ে বড় অপব্যবহার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের অপমান বলে মনে করি।’

একইসঙ্গে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপ করার দাবি তুলে তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘তিনি যা বলেছেন তা খারাপ এবং যদি কোনও বিধান থাকে তাহলে অবশ্যই আইনত ব্যবস্থা করতে হবে।’

মহারাষ্ট্রের শাসক শরিক দল এনসিপি নেতা নবাব মালিক সরাসরি কঙ্গনাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

শিবসেনার নেতা নীলম গোরে বলেন, কালক্ষেপণ না করে কঙ্গনার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের হোক। একই দাবি আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও। মুম্বাই পুলিশকে তিনি কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিজেপির সাংসদ বরুণ গান্ধী কঙ্গনা বিতর্কে টুইট করে বলেন, কখনো গান্ধীজির আত্মত্যাগের সমালোচনা, কখনো তার হত্যাকারীর বন্দনা, এখন মঙ্গল পান্ডে, রানি লক্ষ্মীবাঈ, ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ও লাখ লাখ স্বাধীনতাসংগ্রামীকে অবজ্ঞা করা হলো। এটা কি নিছক পাগলামি নাকি দেশদ্রোহ?

কঙ্গনা রনৌত কিছুকাল ধরে মোদি সরকার ও বিজেপির স্বঘোষিত সমর্থক হয়েছেন। নানা বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে শুধু সমর্থনই তিনি করছেন না, বিবাদেও জড়াচ্ছেন।

এতকিছুর পরও সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বার্তা আসেনি।

এবিএন

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam