তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটের চরাঞ্চলে  বিভিন্ন ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষানীরা

  • প্রকাশ সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১১.৪৬ এএম
  • ৬১ বার ভিউ হয়েছে
লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা।।
বন্যা ও করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমে ব্যস্ত সময় পার করছেন লালমনিরহাটের চরাঞ্চলের  চাষিরা।  যারা জল আর বালুময় নদীতীরে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বসবাস করেন যুগের পর যুগ ধরে।
জানা গেছে, তিস্তা, ধরলা আর সানিয়াজান নদী বেষ্টিত লালমনিরহাটের প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চল রয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব বালু চরে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সব সদস্য একযোগে কৃষি কাজে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। পুরুষদের সঙ্গে পরিবারের নারী সদস্যরাও গৃহস্থলীর কাজ শেষ করে কৃষি কাজে যোগ দেন। চরাঞ্চলের বালুময় জমিতে কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলানোই এক মাত্র আয়ের উৎস ওইসব চরবাসীদের। তাই ফসলের ভালো ফলন পেতে দিনভর মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেন ওই কৃষক-কৃষানীরা গেলো বন্যায় আমন ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে অনেকেরই। অনেক কৃষকের গোলা শূন্য হয়ে পড়েছে। খাদ্যের যোগান ও সংসারের খরচ মেটাতে বালুময় জমিতে ফসল ফলানোর সংগ্রামে নেমে পড়েছেন চরবাসী। চরাঞ্চলের এসব বালু জমিতে প্রচুর সেচ দিয়ে আলু, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, তামাক, বেগুন, টমেটো, শষা, মরিচ, রসুন ও পেঁয়াজসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করেন চরবাসী। তবে সেচ ব্যবস্থায় চরাঞ্চলের চাষাবাদে সব থেকে বড় সমস্যা। বালু জমি হওয়ায় সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে হয় চরাঞ্চলের চাষিদের। তার ওপর প্রত্যেক চাষির সেচ পাম্প নেই। ফলে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি পলিথিনের বিশেষ পাইপ দিয়ে প্রতি ঘণ্টা ১০০ টাকা দামে ক্রয় করতে হয় তাদের। যা ব্যয় বহুল ও পরিশ্রমের। এভাবেই কঠোর শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে নিজেদের ভাগ্যবদলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের চাষিরা। শুষ্ক মৌসুমের চাষাবাদে অর্জিত আয়ে বন্যাকালীনসহ বাকী সময় চলে চরবাসীর প্রতিটি পরিবারের সংসার। তিস্তার চরাঞ্চল কালীগঞ্জের চর বৈরাতি গ্রামের মমিনুল ও আনোয়ারা এবং কাশেম-এর কৃষক দম্পত্তি জানান, বাপ-দাদার ভিটে-মাটি সব তিস্তার হিংস্রো স্রোতে বিলিন হয়েছে। গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান ছিল আমাদের। বর্তমানে কিছুই নেই। যা আছে সবই ধূ-ধূ বালুর চর। তবে সংসার চালাতে কনকনে ঠাণ্ডাকে উপেক্ষা করে এই বালু চরে পানি সেচ দিয়ে ভুট্টা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর চাষাবাদ করছি। একই চরের আফজাল হোসেন ও সহিদুল এক সময় জমি-জিরাত (ফসলের মাঠ) সবই ছিল। তিস্তা তা কেড়ে নিয়েছে। শীত মৌসমে পানি কমে যাওয়ায় সেই বসত-ভিটার জায়গা আবার জেগে উঠেছে। আর সেই বসত-ভিটায় এখন  তামাক আবাদ করছি। তামাক বিক্রি করে সারা বছর সংসারের খরচ চালাবেন। চরের কোন কোন অংশে বোরো আবাদ করেছেন কৃষকেরা আশাবাদী আবাদ ভালো হবে। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর লালমনিরহাট অফিস জানান, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় ৬ হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে শাক-সবজি আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে  বাম্পার ফলন হবে বলে কৃষক-কৃষাণীরা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam