বৃহস্পতিবার-৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ-২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,-সকাল ১০:৩৩

Reg No-36 (তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত)

শিরোনামঃ সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে মুরাদকে অব্যাহতি কানাডার উদ্দেশ্যে টিকিট কেটেছেন মুরাদ শুভ জন্মদিন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বেগম রোকেয়া ছিলেন বাঙালি নারী শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত: প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যের শক্তিই গড়বে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় বিপিন রাওয়াত সস্ত্রীক নিহত ফুলবাড়ীতে গাঁজাসহ অটোরিকশা চালক কাম মাদক ব্যবসায়ী আটক

শুক্রবার অনুষ্টিত হবে কমলগঞ্জে মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী উৎসব মহারাসলীলা

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১ , ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ , বিভাগ :

মৌলভীবাজা প্রতিনিধি: আগামী শুক্রবার ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব মনিপুরী মহারাসলীলা।
ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনির মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের অবতার পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ ও তার সখি রাধারলীলাকে ঘিরে দিনটি পালিত হবে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরে মণিপুরী অধ্যুষিত গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় এখন চলছে রাস উৎসবের আমেজ। মন্ডপে মন্ডপে চলছে রং আর সাজগোজ। এলাকাবাসী মুখিয়ে আছেন রাস উৎসবের অপেক্ষায়। এই দিন দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। তাই মণিপুরী পল্লীর বাড়ির উঠোনে ছেলেমেয়েরা আছে এখন নাছের মহড়ায় মগ্ন। জানাযায়, এবার মাধবপুর জোড় মন্ডপে ১৭৯ তম রাস উৎস অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে। মাধবপুরের রাসমেলার আয়োজক হচ্ছে মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়। উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। অন্যদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরী মৈতৈ সম্প্রদায় আয়োজন করছে পৃথক রাসমেলার। মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় মহোৎসব “রাসলীলা”। রাসোৎসবে মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার লোকজন মেতে উঠবে একদিনের আনন্দ উৎসবে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে মাধবপুর ও আদমপুরের মন্ডপগুলো। সেখানে মণিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুণ নৃত্যাভিনয় রাতভর মনমুগ্ধ করে রাখবে লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। মণিপুরী পল্লীর এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকেও মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনসহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অনেকেই ছুটে আসেন মহারাসলীলা অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য। এখানেও থাকবে যথারীতি রাখাল নৃত্য ও রাসলীলা। তবে মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়া ও মণিপুরী মৈতৈ এরা আলাদা স্থানে আয়োজন করলেও উৎসবের অন্ত:স্রোত, রসের কথা, আনন্দ-প্রার্থণা সবই একই। উৎসবের ভেতরের কথা হচ্ছে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সত্যসুন্দর মানবপ্রেম। আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাস উৎসবকে সফল করতে প্রায় মাস খানেক ধরে ছয়টি বাড়িতে রাসনৃত্য এবং রাখালনৃত্যের প্রশিক্ষণ ও মহড়া চলছে। ৩ টিতে রাসনৃত্য ও ৩ টিতে রাখাল নৃত্য। মাধবপুরে ৩ টি জোড় মন্ডপের আওতায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একেকটি মন্ডপে আছেন একজন পুরোহিত। সেই পুরোহিতের পরামর্শে একজন প্রশিক্ষক ধর্মীয় বিধিবিধান মতো গোপী বা শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেন। গোপীবেশী শিল্পীদের বয়স ১৬ থেকে ২২ বছর। শুধুমাত্র রাধার বয়স ৫ থেকে ৬ বছর। নৃত্যের প্রতিটি দলে ন্যুনতম ১২ জন অংশ নিয়ে থাকে। একইভাবে রাখাল নৃত্যেরও প্রতিটি দলে ২০ থেকে ২২ জন ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালক অংশ নিয়ে থাকে। কমলগঞ্জের মাধবপুর ও আদমপুরে রাসমেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, মহারাসলীলাল মূল উপস্থাপনা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে ‘গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য’ দিয়ে। গোষ্ঠলীলায় রাখাল সাজে কৃষ্ণের বালকবেলাকে উপস্থাপন করা হবে। এতে থাকবে কৃষ্ণের সখ্য ও বাৎসল্য রসের বিবরণ। গোধূলি পর্যন্ত চলবে রাখালনৃত্য। রাত ১১টা থেকে পরিবেশিত হবে মধুর রসের নৃত্য বা শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলানুসরণ। রাসনৃত্য ভোর (ব্রাহ্ম মুহূর্ত) পর্যন্ত চলবে। রাসনৃত্যে গোপিনীদের সাথে কৃষ্ণের মধুরলীলার কথা, গানে ও সুরে ফুটিয়ে তুলবেন শিল্পীরা।
মাধবপুর মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, ইতিমধ্যে রাসোৎসবের সকল প্রস্তুতি চলছে। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের রাসোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এবারের রাসোৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম, এ, মান্নান এমপি।


রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


_