তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন

কুড়িগ্রামে হানাদার মুক্ত দিবস আজ

  • প্রকাশ রবিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮.৪১ এএম
  • ৪৩ বার ভিউ হয়েছে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ আজ সোমবার ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে বাংলার দামাল ছেলেরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে কুড়িগ্রামকে স্বাধীন করেন মুক্তি যোদ্ধারা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ৬ ডিসেম্বর না হলেও সেদিনই বাংলার দামাল ছেলেরা কুড়িগ্রামকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ খচিত পতাকা উত্তোলন করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলো বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন হাতে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গোটা কুড়িগ্রাম জেলা ছিল ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন। একমাত্র রৌমারী উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারেনি ফলে ঐ থানার অধিন রৌমারী অঞ্চল মুক্তাঞ্চল হিসাবে থেকে যায়। পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য সেখানেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়।এ ছাড়া অনেকেই সীমান্ত লাগোয়া ভারতের মাইনকার চরে প্রশিক্ষণ নিয়ে রৌমারীতে আসেন। কুড়িগ্রাম অঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম থেকেই ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগীতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি আক্রমণ তীব্র হয়। একে একে পতন ঘটতে থাকে পাকিস্তানী সেনাদের শক্ত ঘাঁটিগুলো।মিত্রবাহিনীর অভিযানের ফলে নভেম্বরেই হানাদার মুক্ত হয় জেলার ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, উলিপুরসহ জেলার অধিকাংশ এলাকা। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকিস্তানি সেনারা তাদের ঘাটি গুটিয়ে কুড়িগ্রাম শহরে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একের পর এক বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানদার বাহিনীর সেনারা। মিত্রবাহিনীর সাঁড়াশী আক্রমণে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।৫ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর ভোররাত পর্যন্ত সমস্ত হানাদার বাহিনী কুড়িগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে পালিয়ে তিস্তা ও কাউনিয়া হয়ে রংপুর অভিমুখে যায়। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৬ ডিসেম্বর ভোর। কুড়িগ্রাম হয় হানাদার মুক্ত। ওই দিন ৬নং সাব সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার মো. আবদুল হাই সরকার বীর প্রতীকের নেতৃত্বে বিকেলের দিকে একটি অগ্রগামী দল কুড়িগ্রাম শহরে প্রথম প্রবেশ করে। তাদের উপস্থিতিতে নতুন শহরের ওভারহেড পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনার ওপর স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে জেলার নাগরিক সমাজ।সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানাতে হাজারো মুক্তিকামী জনতা রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে। উল্লসিত জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরের মোড়ে মোড়ে বিজয় মিছিল বের হয় । তাদের মিছিল যখন শহরের প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করছিল তখন দুই ধারের বাসা-বাড়ি থেকে শত শত নারী-পুরুষ বেরিয়ে তাদের অভিনন্দন জানায়।মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ রাখতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ৬নং সাব সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার মো. আবদুল হাই সরকার (বীর প্রতীক) বলেন,জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ ও গণতন্ত্রের বিকাশসহ বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগ করুক এটাই এই দিনে আমার চাওয়া।’ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার সকাল ১০ টায় শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা, সংর্বধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam