তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

আদমদীঘিতে ইরি বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা

  • প্রকাশ সোমবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২২, ৯.৫৩ এএম
  • ২২ বার ভিউ হয়েছে

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : উত্তরাঞ্চলের খাদ্য শস্য ভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ইরি বোরো চাষ-আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। কুয়াষা ঢাকা কনকনে শীতের সকালের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বোরো আবাদের ধুম চলছে। ভোরের আলো ফুটতেই কোমর বেঁধে ফসলের মাঠে নেমে পড়ছে কৃষকরা। যদিও গত কয়েক দিন থেকে শীতের তীব্রতা অনেক বেশী রয়েছে এ উপজেলায়। বীজতলায় ধানের চারা পরিচর্যার পাশাপাশি জমি চাষবাদের কাজ চলছে পুরোদমে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা। কোথাও গভীর নলকুপ থেকে চলছে পানিসেচ, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ। আবার বোরো ধান রোপনের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা। কৃষকের ব্যস্ততায় শীত যেন তাদেরকে স্পর্শ করছেনা। শরীরে রয়েছে হালকা পোষাক, মাথায় গরম কাপড়। সবমিলিয়ে ফুরফুরে মেজাজে বোরো আবাদে ব্যস্ত রয়েছে উপজেলার কৃষক। আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মওসুমে সান্তাহার পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন মিলে এবার ১২ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নে ২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগানো হবে, সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় ৪৮৫ হেক্টর, আদমদীঘি সদর ইউনিয়নে ২ হাজার ২০হেক্টর, নসরতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর, কুন্দগ্রাম ইউনিয়নে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, চাঁপাপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৪২০ হেক্টর ও সান্তাহার ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে স্থানীয় জিরাশাইল, পারিজা, ব্রি-২৮, ২৯, ৫০ এবং বি আর-১০ জাতের ধান রোপন করা হবে। অপর দিকে কৃষকদের মনে শঙ্খা থেকে যায় ধানের বাজার দর নিয়ে। আদমদীঘির কৃষক, জলিল, আফজাল, ফজলু,রহিম বলেন, এ অঞ্চলে ধানের বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করে বড় বড় ব্যবসায়ী ও মিলাররা। তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ৫-৬ বছর ধরে আমরা ধানের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। অনেকে ধার দেনা বা এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে। প্রয়োজনের তাগিদে আগেই ভাগেই তাদের ধান বিক্রি করতে হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, এলাকার বড় বড় ধান ব্যবসায়ী ও মিলাররা এসব ধানের বাজার দর নির্ধারণ করে থাকে। সরকারি বেধে দেয়া দামের চেয়েও তারা কম দামে ধান কিনে থাকে। যখন আমাদের গোলায় আর ধান থাকে না তখন ধানের দাম অটোমেটিক বাড়িয়ে যায়।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার মিঠু চন্দ্র অধিকারি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত ধান-চালের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam