তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

আদমদীঘিতে ঐতিহ্যবাহী সান্তাহার সাইলো ও অত্যাধুনিক খাদ্যগুদাম এর নির্মাণশৈলি যেকোনো মানুষের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম

  • প্রকাশ রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২, ৯.৪৮ এএম
  • ৩৫ বার ভিউ হয়েছে

এএফএম মমতাজুর রহমান আদমদীঘি (বগুড়) প্রতিনিধি ঃ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে মাত্র দুইটি অত্যাধুনিক বহুতল বিশিষ্ট খাদ্য গুদাম রাইস সাইলো (মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ গ্রেইন খাদ্যগুদাম) নির্মিত হয়েছে। একটি জাপানে এবং অপরটি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত। দেশের প্রথম মাল্টি স্টোরেজ ওয়ারহাউজ নির্মিত হওয়ায় এলাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ ছাড়া ও বাংলাদেশের মোট ৫টি সাইলোর একটি এই সান্তাহারে অবস্থিত। উত্তরবঙ্গের যারা অধিবাসী কিংবা যাদের ওদিকে ট্রেনে যাতায়াত রয়েছে তারা অনেকেই সান্তাহার জংশনের সাথে পরিচিত, এই সান্তাহার শহর থেকে অল্প কিছু দূরত্বে পৌর এলাকার আমঝুপিতে ১৯৬৯-৭০ সালে এই সাইলো স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে এর নির্মাণকাজ করা হয়। সে সময় জমি কেনাসহ ২৩ তলার সমান উচ্চতার দুটি ও ২৫ তলার সমান একটি ভবনসহ সব অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৬৫ মার্কিন ডলার। এখানে উন্নতমানের গম সংরক্ষণ করার জন্য বীণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। গম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ব্যতীত এখানে অন্য কোনো খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের দাবির মুখে এবং খাদ্যশস্য সংরক্ষণের তাগিদে সাইলোর পার্শ্বে আরেকটি আধুনিক খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। এর নির্মাণশৈলি যেকোনো মানুষের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম, গোলাকার ভীমের এই স্থাপনাটি তাই পর্যটকদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয়। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকার) সহযোগিতায় প্রায় ২৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদ্য অধিদপ্তর এই আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাইলোটি নির্মাণ করে। এটি সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং এখানে সারা বছর খাদ্যশস্য মজুদ থাকবে। এই সাইলোটিতে খাদ্যশস্য সারা বছর একটি নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বিধায় এতে খাদ্যগুণ অটুট থাকবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই খাদ্য গুদামটি প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। সান্তাহার খাদ্যশস্য সাইলো ক্যাম্পাসে নির্মিত এই মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ গ্রেইন খাদ্যগুদাম নির্মানে অর্থায়ন করে দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। আধুনিক এই গুদামটি কৃষকদের ব্যাপক লোকসানের হাত থেকে যেমন রক্ষা করে তেমনই বিদেশে রপ্তাতিতেও গুনগতমান রক্ষায় সহযোগিতা করে থাকে। তাছাড়া এখানে সৌর শক্তি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য শস্য ভাল রাখার জন্য সৌর প্যানেল বসানো হয়। গুদামের ছাদ জুড়ে শতাধিক সোলার প্যানেল স্থাপন থেকে মোট ৩৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। সান্তাহার অত্যাধুনিক বহুতল বিশিষ্ট খাদ্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক উপ-সচিব প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, জাপানের দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এই প্রকল্পে বড় ধরনের অর্থায়ন করেছে। সব মিলিয়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশে প্রথম নির্মিত হল শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এই ধরনের বহুতল খাদ্যগুদাম। ২৫ হাজার মেট্টিক টন ধারণ ক্ষমতার এই মাল্টি স্টোরেজ ওয়ারহাউস গ্রেইন সাইলো নির্মিত হয়েছে ‘সান্তাহার খাদ্য শস্য সাইলো’ ক্যাম্পাসে। এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাস খাঁন রাজু বলেন, এই খাদ্যগুদাম নির্মিত হওয়ায় এলাকার কৃষকের অনেক উপকার হয়েছে। খাদ্য শস্য ভাল রাখায় কৃষকদের ব্যাপক লোকসানের হাত থেকে যেমন রক্ষা করে তেমনই বিদেশে রপ্তাতিতেও গুনগতমান রক্ষায় সহযোগিতা করে থাকে। সান্তাহার পৌরসভা প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ হয়েছে। আমরা প্রধামমন্ত্রীর কাছে দাবি জানায়, সান্তাহার পৌর শহরকে প্রশাসনিক থানা ঘোষণা ও নব নির্মিত সান্তাহার ২০শয্যা হাসপাতাল অতি দ্রুত চালু করা হোক।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam