তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

রাবিতে চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না শিবগঞ্জের প্রদীপ

  • প্রকাশ রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২, ৫.৩০ এএম
  • ৫৭ বার ভিউ হয়েছে

সাজু মিয়া (শিবগঞ্জ) বগুড়া প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্বিবদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ভূমিহীন পরিবারের সদস্য মেধাবী প্রদীপ কুমার।

 

জানা যায়, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান প্রদীব কুমার ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভর্তি সুযোগ পায় । সে শিবগঞ্জ উপজেলার দোপাড়া হিন্দু পাড়া গ্রামের ধলু চন্দ্র ও রুলি বালার সন্তান। প্রদীপ ৪ বছরের মাথায়  পা রাখলে  তার পিতা-মাতার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মা রুলি বালা অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে তাকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপন্ন দেখে। প্রদীপের নিজস্ব কোন জায়গা বাড়ী না থাকায় সরকার কর্তৃক প্রদেয় টিনের ছাপড়া ঘরে মা ও ছেলে বসবাস করে। প্রদীব ২০১২ সালে দোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষা দেয় এবং ৫ পায়। তার মেধার কারণে তাকে গ্রামের সাধারণ মানুষরা সহযোগিতা করে দোপাড়া আব্দুল হান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়। মেবাধী প্রদীপ তার মায়ের কষ্ট ও নিজের স্বপন্ন পূরে অবিচর হয়ে পড়ালেখা করতে থাকে। সে ২০১৫ সালে দোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে। একই বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হয়। প্রদীপ পাড়াপ্রতিবেশীর সহযোগিতা নিয়ে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজে এ ভর্তি হয়। সেখানেও সে ২০২০ সালে জিপিএ ৫ অর্জন করে। ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভর্তির জন্য সুযোগ পায়। এ এব্যাপারে মেধাবী শিক্ষার্থী প্রদীব এর মা রুলে বেগম এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার অসহায় ও গরীব মানুষ আমার ছেলের বয়স জন ৪ বছর, তখন থেকেই অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমার সন্তানকে লেখাপড়া করিয়েছি। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত। কিন্তু আমার ছেলেকে অর্থের অভাবে ভর্তি করাতে পারছি না। মেধাবী শিক্ষার্থী প্রদীপ কুমার বলেন, সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে ভর্তি সুযোগ পেয়েছে, তার এই কৃতিত্বের জন্য তার শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সে বলে তার শিক্ষকরা যদি তার পাশে থেকে আর্থিক সহযোগিতা না করতো তাহলে আজকের এই সাফল্য সম্ভব হতো না। সে জানাই ৩১ জানুয়ারি তার ভর্তি শেষ সময় তার বর্তমানে সে অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। তাই সে সমাজের বৃত্তবানদের নিকট ভর্তির জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রদীপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়ে দেশ রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করবে বলে জানিয়েছেন। প্রদীপ ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করার সময় সেরাপাঠক হিসাবে পুরুস্কৃত হয়েছে। ২০১৫ সালে উপজেলা পর্যায়ে সে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ক(৬ষ্ঠ-৮ম) গ্রুপে গণি ও কম্পিউটার বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং ২০১৭ সালে গণিত ও কম্পিউটা বিষয়ে ২য় বারের মত উপজেলা পর্যায়ে খ গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam