তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত, যার রেজি নং-৩৬

সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
সদ্য সংবাদ :
ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য অডিট রিপোর্ট সঠিক হওয়া প্রয়োজন                                                                           — বাণিজ্যমন্ত্রী ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি ৪০ দিনেই ৪০ কোটি টাকার বেশি খাজনা আদায় লালমনিরহাটে সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় প্রাধান আসামি গ্রেপ্তার  আটোয়ারীতে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত্যূ পিরোজপুরে র‌্যাবের অভিযানে এক যুবকে গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে ডিমের দোকানে ভোক্তার অভিযান, ৩টিতে জরিমানা দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত যুবতীর লাশ উদ্ধার খানসামা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আগামী মাসে সমন্বয় করা হবে তেলের দাম, থাকবে না লোডশেডিং

রেলে মাইলেজ ইস্যু: দাবি না মানলে কাল থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা

  • প্রকাশ রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২, ৭.২৫ এএম
  • ৩৫ বার ভিউ হয়েছে

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্কঃ  রেলে মাইলেজ ইস্যুতে জারি করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের দুটি ধারাকে বিতর্কিত দাবি করে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে এ দুটি ধারা বাতিলের দাবিতে ৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি আল্টিমেটাম বেধে দেয়া হয়েছে।

আজ রোববার শেষ হচ্ছে আল্টিমেটাম। দাবি না মানলে আগামীকাল সোমবার থেকে কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে মাইলেজ জটিলতা নিরসনে আজ রোববার বিকেল ৩টায় রেলভবনে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতির সাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন রেলসচিব। আজকের এ সভা থেকেই জানা যাবে আগামীকাল ট্রেন চলবে নাকি চলবে না। যদিও এরআগে আরও একবার বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। সেটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যায় বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদ।

বৈঠকে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে শনিবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির নেতারা। বৈঠকে চট্টগ্রাম, ঢাকা, পাকশী ও লালমনিরহাট- এই চার বিভাগের রেলওয়ের শীর্ষ নেতাদেরও ডাকা হয়েছে।

জানা গেছে, রেলের রানিং স্টাফদের আন্দোলনের প্রভাবে দিন দিন সংকট বাড়ছে। গত তিনদিনে লোকোমাস্টার ও গার্ড সংকটের কারণে পূর্বাঞ্চলের ৩০টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বাতিল হওয়া ট্রেনের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ১৭টি ও পণ্যবাহী ট্রেন আছে ১৩টি। যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটের ১০টি, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাটগামী এক জোড়া ট্রেন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি শাটল ট্রেন, পণ্যবাহী ট্রেনের মধ্যে ঈশ্বরদী লোকোশেড থেকে মালবাহী ৯টি ও চট্টগ্রাম থেকে কন্টেইনারবাহী ৪টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনসার আলী সাংবাদিকদের বলেন, আন্ডার রেস্টে ডিউটি করছেন না রানিং স্টাফরা। এলএম ও গার্ড সংকটে চট্টগ্রামের ১১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। একই কারণে ঢাকা ও ঈশ্বরদীর ১৯টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। মাইলেজ জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেল ৩টায় রেলপথ ভবনে সচিব মহোদয় বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে। আর আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে আগামীকাল সোমবার থেকে কর্মবিরতি চলবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘১৬০ বছর ধরে রেলের রানিং স্টাফরা যেভাবে বেতন-ভাতা পাচ্ছে সেই প্রক্রিয়া বিরোধী এই প্রজ্ঞাপন। এটি শ্রমিক বিরোধী প্রজ্ঞাপন। এ প্রজ্ঞাপন বাতিল না হলে কর্মবিরতিতে যাবো আমরা।’

প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে এক জরুরি বৈঠকে ঘোষণা দেয়া হয় সৃষ্ট মাইলেজ জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে ৩১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে কর্মবিরতিতে যাবেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। পরে ঘোষণা আসে ২৫ জানুয়ারি থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি ট্রেন চালাবেন না তারা। এরই জেরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

মাইলেজ জটিলতা কেন!

মূলতঃ রেলের সৃষ্টির শুরু থেকেই রেলওয়ে রানিং স্টাফরা ‘মাইলেজ’ রেলওয়ে কোডে ‘পার্ট অব পে’ হিসাবে রেলওয়ে কোড এবং ম্যানুয়াল বিধান মতে নিয়মিত মাসিক বেতন ও অর্জিত মাইলেজ সংযুক্তভাবে পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে হঠাৎ রানিং স্টাফদের মাইলেজ বেতন বাজেট থেকে আলাদা করে টিএ খাতে সংযুক্ত করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই টিএ খাতে আর্থিক বরাদ্দ কম থাকায় সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা।

জটিলতা নিরসনে পরবর্তীতে মাইলেজের জন্য ‘মাইলেজ ভাতা’ নামের আলাদা কোড খোলা হয়। যেখানে আইবাস প্লাস সিস্টেমে রানিং কর্মচারীদের অর্জিত মাইলেজ সর্বোচ্চ ৩ হাজার মাইল বা ৩০ দিনের বেশি অর্ন্তভুক্ত করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় অসন্তোষ বাড়ছে রানিং স্টাফদের মধ্যে।

সর্বশেষ গত বছরের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলন্ত ট্রেনে দৈনিক ১০০ কিলোমিটার কিংবা তার চেয়েও বেশি দায়িত্ব পালন করলেও ওই দিনের বেতনের ৭৫ শতাংশের বেশি মাইলেজ ভাতা পাবেন না সংশ্লিষ্ট রানিং স্টাফ। আর মাস শেষে এই মাইলেজ মূল বেতনের বেশি হবে না। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর ৪ নভেম্বর ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ জানায় লোকোমাস্টাররা। এ সময় চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে থেকে বিলম্বে যাত্রা শুরু করে বিভিন্ন রুটের ট্রেন।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2022 Muktinews24.com © এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.muktinews24.com কর্তৃক সংরক্ষিত.
Technical Support Moinul Islam